Published : 22 Jun 2026, 09:09 PM
যুদ্ধ বন্ধে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছার জন্য সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রথমদফা শান্তি আলোচনায় ‘আশাব্যাঞ্জক অগ্রগতি’ হয়েছে বলে জানিয়েছে মধ্যস্থতাকারীরা।
যদিও লেবানন এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা এখনও রয়ে গেছে। তবে দুইপক্ষ ৬০ দিনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে একটি স্থায়ী চুক্তি করার রূপরেখায় রাজি হয়েছে বলে সোমবার জানিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতার।
তাছাড়া, লেবাননে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েল এবং ইরান-সমর্থিত প্রতিরোধ শক্তি হিজবুল্লাহর মধ্যে লড়াই বন্ধের একটি প্রক্রিয়ার বিষয়ে দুইপক্ষ একমত হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপদ পথ নিশ্চিত করতে সহায়তা করার জন্য একটি যোগাযোগ লাইনও চালু করেছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। এতে এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও অন্তত ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়ে দুপক্ষ সম্মত হয়।
রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স ওই সমঝোতা স্মারকের শর্তের আলোকে সুইজারল্যান্ডে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন। এই আলোচনা সোমবার প্রথম কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত চলেছে।
লেবাননে ইসরায়েলের হামরাকে কেন্দ্র করে হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ করে দেওয়ার তেহরানের ঘোষণা এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে ফের হামলা শুরুর হুমকির কারণে একটি উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে দুপক্ষের মধ্যে এই আলোচনা শুরু হয়েছিল।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানান, “আলোচনা খুবই ইতিবাচক এবং গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এতে আশাব্যাঞ্জক অগ্রগতি হয়েছে।” প্রথম দফার এই আলোচনা ‘সফলভাবেই শেষ হয়েছে’ বলেও জানান তিনি।
ওদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আমাদের ইরানের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক রূপান্তর করতে নতুন অধ্যায় শুরু করার জন্য বলেছেন।” লেবাননে বৈরিতা শেষ করার বিষয়েও ‘অগ্রগতি হয়েছে’ বলে দাবি করেন তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, তার দেশ তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল রপ্তানির জন্য ছাড়, জব্দকৃত কিছু সম্পদের অবমুক্তি এবং ইরানের জন্য একটি পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা চালু করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সোশাল মিডিয়ায় এক পোস্টে তিনি বলেন, লেবাননে যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তান ও কাতার বড় ধরনের অগ্রগতি এনে দিয়েছে।
পাকিস্তান ও কাতারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং লেবাননের মধ্যে সামরিক অভিযানের অবসানে দুই পক্ষ একটি ‘সংঘর্ষ নিস্পত্তিমূলক সেল’ গঠনে একমত হয়েছে।” আরাকচি বলেন, এর প্রথম বাস্তব পরীক্ষাই হবে ‘লেবানন সংঘর্ষ নিস্পত্তি সেল’ গঠনের মাধ্যমে।
সোমবারের আলোচনা শেষে ইরানের আলোচক দল সুইজারল্যান্ড ছেড়ে চলে গেলেও এ সপ্তাহজুড়ে ইরান আর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত আলোচনা চলবে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্য নিয়ে চলবে এ আলোচনা।
প্রথমিক ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকে থাকা বিষয়গুলো নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য আলোচনা চালাবে দুইপক্ষ। যদিও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও লেবাননে যুদ্ধবিরতির মতো বিষয়গুলোর সমাধান নিয়ে সংশয় থাকছেই।
তবে বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়েছে, শনিবারের পর থেকে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে সহিংসতা কমেছে। লেবাননের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলেছেন, ইসরায়েল শেষ বিমান হামলা চালিয়েছিল শনিবার সন্ধ্যায়। গত ২ মার্চ থেকে হিজবুল্লাহ-ইসরায়েল লড়াই শুরুর পর থেকে এই প্রথম কিছুটা শান্ত পরিস্থিতি দেখা গেল।
জে ডি ভ্যান্স, কাতারের প্রধানমন্ত্রী এবং ট্রাম্প জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে এক ফোনালাপে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন যুদ্ধবিরতি মেনে চলার চেষ্টা এবং ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে লেবানিজ প্রেসিডেন্টের কার্যালয়।