Published : 19 Nov 2025, 01:44 PM
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ২০১৮ সালে সাংবাদিক জামাল খাশুগজি হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ‘কিছুই জানতেন না’।
সৌদি আরবের এ ‘ডি ফ্যাক্টো’ শাসককে হোয়াইট হাউসে স্বাগত জানাতে গিয়ে মঙ্গলবার তিনি এ কথা বলেন।
তার এ মন্তব্যের সঙ্গে ২০২১ সালের মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নের ভাষ্য মেলে না বলে জানিয়েছে বিবিসি। ওই মূল্যায়নে বলা হয়, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স অনুমোদিত অভিযানেই তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনসুলেটে খাশুগজি মারা যায়।
এমবিএস খ্যাত মোহাম্মদ বিন সালমান অবশ্য শুরু থেকেই কোনো ধরনের অন্যায় করার কথা অস্বীকার করে আসছেন। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে তিনি বলেছেন, খাশুগজির ‘বেদনাদায়ক’ মৃত্যু তদন্তে সৌদি আরব ‘ঠিকমতো সব ব্যবস্থাই নিয়েছিল’।
যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি আরব সম্পর্ককে ‘ঝাঁকি দেওয়া’ ওই হত্যাকাণ্ডের পর এটাই এমবিএসের প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর।
ওভাল অফিসে এক সাংবাদিক এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন করলে ট্রাম্প ক্ষেপে যান।
“আপনি এমন একজনের নাম তুললেন যিনি খুবই বিতর্কিত। অনেক মানুষই আপনি যার কথা বলছেন তাকে পছন্দ করে না। তা আপনি তাকে পছন্দ করেন বা না করেন, এগুলো ঘটে।
“কিন্তু তিনি (ক্রাউন প্রিন্স) এ বিষয়ে কিছুই জানতেন না। আমাদের অতিথিকে আপনি বিব্রত করতে পারেন না,” বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তার পূর্বসূরী জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট থাকাকালে, ২০২১ সালে প্রকাশ্যে আসা মার্কিন এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এমবিএস-ই ইস্তাম্বুলে খাশুগজিকে ‘আটক বা হত্যার’ পরিকল্পনায় অনুমোদন দিয়েছিলেন।
ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে এ গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশে রাজি হননি।
ওই হত্যাকাণ্ডের জেরে ডজনের বেশি সৌদি কর্মকর্তা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়লেও কোনো নিষেধাজ্ঞাতেই সৌদি ক্রাউন প্রিন্সকে নিশানা বানানো হয়নি।
ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় খাশুগজির বিধবা স্ত্রী হানান বিবিসি নিউজনাইটকে বলেন, তার স্বামীর হত্যাকাণ্ডের দায় নিয়ে এমবিএসের নিজের স্বীকারোক্তির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য মেলে না।
“ক্রাউন প্রিন্স নিজেই, ২০১৯ সালে এবং ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে এ নির্মম অপরাধের দায় নিয়েছিলেন,” বলেছেন তিনি।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হানান ক্রাউন প্রিন্সকে তার সঙ্গে দেখা করার আহ্বান জানিয়েছেন। বলেছেন, এমবিএস যেন ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং তার স্বামীর হত্যাকাণ্ডের জন্য ক্ষতিপূরণ দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া এ নারী এখন ওয়াশিংটন ডিসিতে থাকছেন।
মঙ্গলবার ট্রাম্প ও এমবিএসের মধ্যে বৈঠকে বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমতা ও যুক্তরাষ্ট্রে সৌদি বিনিয়োগের আকার নিয়ে কথা হয়েছে। দুই নেতা সৌদি আরবে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের বিক্রি নিয়েও কথা বলেছেন।
সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের এ অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান বিক্রি নিয়ে এরই মধ্যে অনেক ইসরায়েলি কর্মকর্তা উদ্বেগ জানিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত কেবল ইসরায়েলের হাতেই এ বিমান রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, সৌদিদের কাছে এফ-৩৫ এর যে সংস্করণটি বিক্রি হতে যাচ্ছে, তার সঙ্গে ইসরায়েলিদের সংস্করণের মোটাদাগে তেমন পার্থক্য নেই।
“তারা চমৎকার মিত্র। ইসরায়েলও চমৎকার মিত্র। আমি জানি, তারা (ইসরায়েল) চায় আপনারা (সৌদি আরব) যে বিমানগুলো পাবেন সেগুলোর সক্ষমতা যেন কম হয়। কিন্তু আমি যতখানি জানি, উভয়ের বিমানগুলোই এমন, যেটি এই ধরনের বিমানের ক্ষেত্রে শীর্ষ পর্যায়ের,” বলেছেন তিনি।
মঙ্গলবার রাতে হোয়াইট হাউসে এক আনুষ্ঠানিক ডিনারে ট্রাম্প সৌদি আরবকে ‘নেটো-বহির্ভূত প্রধান মিত্র’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কথাও জানান।
“আজ রাতে আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে সৌদি আরবকে আনুষ্ঠানিকভাবে নেটো-বহির্ভূত প্রধান মিত্র হিসেবে মর্যাদা দিয়ে আমরা আমাদের সামরিক সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছি, যা তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ,” ব্ল্যাক-টাই ডিনারে বলেন তিনি।
সৌদি আরবের আগে ইসরায়েল, জর্ডান, কুয়েত, কাতারসহ ১৯টি দেশ এ মর্যাদা পেয়েছিল বলে জানিয়েছে পলিটিকো।
এই মর্যাদা সেইসব মার্কিন অংশীদারদের দেওয়া হয় যারা সামরিক ও অর্থনৈতিক খাতে নানান সুবিধা পাবে তবে নিরাপত্তাজনিত কোনো প্রতিশ্রুতি থাকে না।
দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলেও পরে হোয়াইট হাউসের তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে।
ভবিষ্যতে সৌদি আরবে এফ-৩৫ সরবরাহে ট্রাম্প অনুমতি দিয়েছেন, আর সৌদি আরবও ৩০০টি আমেরিকান ট্যাংক কিনতে রাজি হয়েছে, বলেছে হোয়াইট হাউস।