Published : 05 Feb 2026, 12:21 AM
গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের মুখে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে যখন ‘গণহত্যার’ অভিযোগে মামলা চলছে, ঠিক সেই সময়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক জোরদার করছে গ্রিস।
দুই দেশ এখন কেবল অস্ত্র কেনাবেচাই নয়, বরং যৌথভাবে অস্ত্র উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে অস্ত্র উন্নয়নের আগ্রহ প্রকাশ করেছে গ্রিস।
গ্রিসের পার্লামেন্টের প্রতিরক্ষা বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাঞ্জেলোস সিরিগোস সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে বলেন, "আমরা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একজন চমৎকার গ্রাহক। আমাদের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক তখনই বড় উল্লম্ফন দেবে যখন আমরা যৌথভাবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন এবং সাধারণ পরিকল্পনা শুরু করব।"
এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর গ্রিসের প্রতিরক্ষা কমিটি ইসরায়েল থেকে ৭৬ কোটি ডলার ব্যয়ে ৩৬টি ‘পিইউএলএস’ রকেট আর্টিলারি সিস্টেম কেনার অনুমোদন দেয়। এটি এখন পর্যন্ত ইসরায়েল থেকে গ্রিসের সবচেয়ে বড় একক অস্ত্র ক্রয়ের চুক্তি।
মাঝারি পাল্লার এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রিসের গতবছর ঘোষিত ৩৩০ কোটি ডলারের আকাশ প্রতিরক্ষা ছাতা ‘শিল্ড অফ অ্যাকিলিস’-এর অংশ হবে।
এছাড়াও গ্রিস আরও ৩৫০ কোটি ডলার ব্যয়ে তিনটি ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, স্পাইডার, বারাক এবং ডেভিড’স স্লিং কেনার বিষয়ে আলোচনা করছে।
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ আকাশপথের যে কোনও হুমকি মোকাবেলায় এই তিন স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রিসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গ্রিসের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী নিকোস দেনদিয়াস গত ২০ জানুয়ারি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে জানান, গ্রিস এখন কেবল ক্রেতা হয়ে থাকতে চায় না, বরং কম খরচে উদ্ভাবনী পণ্য যৌথভাবে উৎপাদন করতে চায়।
গ্রিস ও ইসরায়েল উভয় দেশই তুরস্ককে হুমকি হিসেবে দেখে এবং এই অঞ্চলের শক্তিসাম্য বজায় রাখতে একে অপরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
তুরস্ককে হুমকি হিসাবে দেখে সাইপ্রাসও। গ্রিস এবং ইসরায়েল সাইপ্রাসের সঙ্গে মিলে ত্রিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তুলেছে, যাকে তারা বলে থাকে ‘তুরস্ক বিরোধী’ জোট।
২০২৪ সালে ইসরায়েল-তুরস্ক সম্পর্কের আরও বেশি অবনতি হওয়ার পর থেকে গ্রিস এবং ইসরায়েল যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছ।
গ্রিসের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্দ্রা পাপাদোপোলো এক সাক্ষাৎকারে দুই দেশের এই সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেছেন, "ইসরায়েল যদি না থাকে, তবে একটি সম্পূর্ণ মুসলিম অঞ্চলের মধ্যে ইউরোপের প্রান্তে থাকা গ্রিস কীভাবে টিকে থাকবে তা কল্পনা করুন।"
তবে গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি হামলার মুখে এই ঘনিষ্ঠতা নিয়ে গ্রিসের ভেতরেই তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
‘গ্রিক কাউন্সিল ফর রিফিউজিস’ এর প্রধান লেফটেরিস পাপাগিয়ানাকিস বলেন, "কৌশলগত সম্পর্ককে প্রাধান্য দিতে গিয়ে মানবাধিকারের মতো আন্তর্জাতিক বিষয়কে এড়িয়ে যাওয়াটাই সমস্যা। গাজায় অভিযানকে গণহত্যা না বলতে চাইলে না বলুন, কিন্তু একটি মানবিক দেশ হিসাবে আপনাদের (গ্রিস) উচিত ছিল আরও বেশিকিছু করা।
“বিষয়টি এমন, যেন গ্রিস ইসরায়েলের প্রাতিরক্ষা মডেল অনুকরণ করছে এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরে দ্বিতীয় সবচেয়ে ভারি অস্ত্রের দেশে পরিণত হচ্ছে।"