Published : 02 Feb 2026, 07:56 PM
তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামাকে গ্র্যামি পুরস্কারে ভূষিত করায় সোমবার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে চীন। দেশটি বলেছে, তারা এই আধ্যাত্মিক নেতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকে ‘চীন-বিরোধী’ কাজে ব্যবহারের ‘ঘোর বিরোধী’।
রোববার লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ৬৮তম বার্ষিক গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে প্রথমবার গ্র্যামি জেতেন ৯০ বছর বয়সী দালাই লামা।
তার ‘মেডিটেশনস: দ্য রিফ্লেকশনস অব হিজ হোলিনেস দ্য দালাই লামা’ নামক অডিও অ্যালবামের জন্য তিনি ‘সেরা অডিও বুক, ন্যারেশন অ্যান্ড স্টোরিটেলিং রেকডিং’ বিভাগে এই পুরস্কার লাভ করেন।
দালাই লামার এই অডিও অ্যালবামে আছে তার বার্তা, উপদেশ এবং বাণী। দলাই লামার বাণীর সঙ্গে আছে আবহসঙ্গীতও।
তবে দালাই লামার গ্র্যামি পুরস্কার জয় নিয়ে প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, “এই আধ্যাত্মিক নেতা ধর্মের নামে বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
“তিনি (দালাই লামা) নিছক কোনও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব নন। তিনি মূলত ধর্মের ছদ্মবেশে চীন-বিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত একজন নির্বাসিত রাজনৈতিক ব্যক্তি।”
চীনা মুখপাত্র আরও বলেন, “বেইজিং স্পষ্টভাবে এই ধরনের (গ্র্যামি) পুরস্কারকে চীন-বিরোধী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিপক্ষে।”
ওদিকে, পুরস্কার পাওয়ার পর দালাই লামা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন, তিনি একে কোনও ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবে দেখছেন না, বরং সার্বজনীন দায়িত্ববোধের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন।
তিনি বলেন, “আমি সত্যিই বিশ্বাস করি শান্তি, মহমর্মিতা, পরিবেশের যত্ন এবং মানব ঐক্যের বোঝাপড়া সম্মিলিতভাবে ৮০০ কোটি মানুষের কল্যাণের জন্য অপরিহার্য। এই বার্তা আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে গ্র্যামি স্বীকৃতি সহায়ক হবে, এজন্য আমি কৃতজ্ঞ।”
উল্লেখ্য, ১৯৫৯ সাল থেকে ভারতের ধর্মশালায় নির্বাসিত জীবনে থাকা দালাই লামা তিব্বতের মুক্তির দাবিতে অহিংস সংগ্রামের জন্য ১৯৮৯ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেছিলেন।
এবারের গ্র্যামি পুরস্কারের দৌড়ে তিনি ট্রেভর নোয়াহ, ক্যাথি গারভার এবং মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসনের মতো ব্যক্তিত্বদের পেছনে ফেলে এই সম্মাননা জয় করেন।