Published : 21 Jul 2026, 07:04 PM
ভারতে প্রথমবারের মতো ডেঙ্গু প্রতিরোধী টিকার অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন এই টিকার নাম কিউডিইএনজিএ বা ‘কিউডেঙ্গা’।
ডেঙ্গুর এই প্রতিষেধক তৈরি করেছে জাপানের ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা তাকেদা বায়োফার্মাসিউটিক্যালস। তাদের তৈরি টিকা ‘কিউডেঙ্গা’ ইতিমধ্যেই এশিয়া, লাতিন আমেরিকা এবং ইউরোপের ৪৩টি দেশে অনুমোদন পেয়েছে। এবার ভারতও টিকাটির অনুমোদন দিল।
২০১৯ সালের ‘নিউ ড্রাগ অ্যান্ড ক্লিনিকাল ট্রায়ালস’ (এনডিসিটি) আইন মেনে ভারতে ওষুধ অনুমোদনের দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় নিয়ামক সংস্থা ‘দ্য ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া’ (ডিসিজিআই) কিউডেঙ্গা বাজারজাতকরণের অনুমোদন দিয়েছে।
৪ থেকে ৬০ বছর বয়সি যে কেউ কোনও শারীরিক পরীক্ষা ছাড়াই এই টিকা নিতে পারবে। অর্থাৎ, টিকা দেওয়ার আগে ডেঙ্গু সংক্রমণ হয়েছে কি না, তা জানতে কোনো প্রাক-টিকাদান পরীক্ষার প্রয়োজন নেই। মোট দুই ডোজ টিকা নিতে হবে। প্রথম ডোজ নেওয়ার তিন মাস পর দ্বিতীয় ডোজ নিতে হবে।
ভারতে প্রতি বছরই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় লাখো মানুষ। গবেষণা রিপোর্ট বলছে, বিশ্বে যত মানুষ ডেঙ্গুতে ভোগে তার এক তৃতীয়াংশই ভারতের বাসিন্দা। শুধু ২০২৫ সালেই ১ লাখ ১৩ হাজার মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। প্রতি বছর ডেঙ্গুতে মারাও যায় অনেক মানুষ।
২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, খাতায় কলমে ৪৮৫টি মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গুতে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত দুই দশকে ভারতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১১ গুণ বেড়েছে। বিভিন্ন মডেল ভিত্তিক গবেষণায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ভারতে প্রকৃত সংক্রমণের সংখ্যা সরকারি হিসাবে প্রকাশিত সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ডেঙ্গুর উচ্চ সংক্রমণ রয়েছে এমন এলাকায় ‘কিউডেঙ্গা’ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। সংস্থাটি ইতিমধ্যেই টিকাটির মান, নিরাপত্তা এবং কাজ করার ক্ষমতা নিয়ে নিজেদের অনুমোদনও দিয়েছে।
ব্রাজিলের জাতীয় স্বাস্থ্য পরিকল্পনার অধীনে এ টিকা দেওয়া হয়। এমনকি আর্জেন্টিনাতেও সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে দেওয়া হয় কিউডেঙ্গা টিকা।
ওষুধ কোম্পানি তাকেদা জানিয়েছে, ভারতে টিকাটি পরিকল্পিতভাবে সরবরাহ ও সহজলভ্য করতে তারা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ, জনস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট অংশীদার এবং স্বাস্থ্যসেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।