Published : 23 Jun 2026, 02:16 PM
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের আমন্ত্রণে সরকারি সফরে পাকিস্তানে যাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
মঙ্গলবার শুরু হতে যাওয়া এই সফরে তিনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পাশাপাশি দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পাকিস্তানের সেনেট চেয়ারম্যান ইউসুফ রাজা গিলানি, জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিক এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দারও ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটি পেজেশকিয়ানের দ্বিতীয় পাকিস্তান সফর।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সফর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সব দিক পর্যালোচনা করার এবং বাণিজ্য, জ্বালানি, সীমান্ত নিরাপত্তা, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির উপায় খোঁজার একটি বড় সুযোগ তৈরি করবে।
এছাড়া সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রেও এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইসলামাবাদে নজিরবিহীন নিরাপত্তা
ইরানের প্রেসিডেন্টের আগমনকে কেন্দ্র করে সোমবার রাত থেকেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের সব বাস টার্মিনাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর প্রশাসন ও পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী, ফয়জাবাদ এবং চঙ্গি নম্বর ২৬ সহ প্রধান টার্মিনালগুলোর কার্যক্রম মধ্যরাতের আগেই স্থগিত করা হয়, যা পেজেশকিয়ানের ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
নিরাপত্তার স্বার্থে ইসলামাবাদের ‘রেড জোন’ সম্পূর্ণ সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
রেড জোন বন্ধ থাকার কারণে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট (আইএইচসি) মঙ্গলবারের সমস্ত বিচারিক কার্যক্রম বাতিল করে কর্মকর্তাদের বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। তবে জেলা আদালতগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে।
এছাড়া ক্যাবিনেট ডিভিশনের পক্ষ থেকে রেড জোনের ভেতরে অবস্থিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দূরবর্তী পদ্ধতিতে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রেড জোনের সব স্বায়ত্তশাসিত ও অধীনস্থ দপ্তরে ছুটি ঘোষণা করা হলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সিনেট, জাতীয় পরিষদ, অর্থ ও পররাষ্ট্রসহ জরুরি সব মন্ত্রণালয় এবং ব্যাংকগুলো এই আদেশের আওতামুক্ত থাকবে।
এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে ২, ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ট্রেইলসহ শহরের সব জনপ্রিয় হাইকিং রুট জনসাধারণের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডে মার্কিন-ইরান বৈঠক ও মধ্যস্থতা
ইরানের প্রেসিডেন্টের এই সফরটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যার ঠিক আগেই সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এর আগে, ১৮ জুন স্বাক্ষরিত ১৪ দফার ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’-এর অধীনে ‘লেক লুসার্ন সামিট’ নামে পরিচিত এই আলোচনার মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক দরকষাকষি শুরু হয়।
এই চুক্তির আওতায় ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধাবসান, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে মূল সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করতে একটি রূপরেখায় সম্মত হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকের রিজোর্টে অনুষ্ঠিত এই মার্কিন-ইরান বৈঠকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে পাকিস্তান ও কাতার। বৈঠকে পাকিস্তানের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং দেশটির সশস্ত্র বাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।
লেক লুসার্ন সম্মেলনের মাধ্যমে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিরসন এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার জন্য একটি বিশেষ যোগাযোগ চ্যানেল এবং লেবানন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ গঠনে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে।