২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

গাজায় ভারি বৃষ্টিতে ডুবল বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবু, শিশুর মৃত্যু

দু’বছর ধরে চলা ইসরায়েলি হামলার পর এবার প্রাকৃতিক দুর্যোগে নতুন বিপর্যয়ে গাজার মানুষ। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়শিবিরের শত শত তাঁবু।

গাজায় ভারি বৃষ্টিতে ডুবল বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাঁবু, শিশুর মৃত্যু
নুসেইরাতে বৃষ্টির পর পানি জমে থাকা রাস্তায় চার চাকার বাহনে চড়ে চলেছে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Dec 2025, 10:14 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:17 PM

ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা ভূখন্ডে ভারি বৃষ্টিতে বন্যায় বাস্তুচ্যুত মানুষের শত শত তাঁবু তলিয়ে গেছে। বৃষ্টির পানি আটকে পড়া আশ্রয়শিবিরে মারা গেছে আট মাসের এক শিশু| স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা একথা জানিয়েছেন। 

চিকিৎসাকর্মীদের বরাতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনুসে পরিবার-সহ যে তাঁবুতে রাহাফ আবু জাজার নামের ওই শিশুটি থাকছিল, সেখানে রাতে বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়ে। পরিবার বলছে, বৃষ্টির পানি ও বাতাসে ঠান্ডায় মারা গেছে শিশুটি।

কান্নায় ভেঙে পড়া মা হেজার আবু জাজার বলেন, ঘুমানোর আগে সন্তানকে খাবার খাইয়েছিলেন। “ঘুম থেকে উঠে দেখি, বৃষ্টি আর বাতাস ওর গায়ে লাগছে। ঠান্ডায় হঠাৎই মারা গেল মেয়েটা। ওর কোনও রোগ ছিল না।” বলেন তিনি। 

যুদ্ধের ধকল, বন্যা সামলানোর সামর্থ্য নেই গাজার:

পৌর ও নাগরিক সুরক্ষা কর্মকর্তারা জানান, জ্বালানি সংকট ও সরঞ্জামের ক্ষতির কারণে তারা বন্যা সামলাতে পারেননি। যুদ্ধের সময় ইসরায়েল শত শত যানবাহন ধ্বংস করেছে, যার মধ্যে রয়েছে বুলডোজার ও পানি নিষ্কানের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র। 

নাগরিক সুরক্ষা সেবাদানকারীরা জানিয়েছে, পুরো গাজার বেশির ভাগ শিবিরই পানিতে ডুবে গেছে। সাহায্যের জন্য ২,৫০০’রও বেশি ফোনকল পেয়েছে তারা। আশ্রয়শিবিরের অলিগলি পানিতে ডুবে থাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের জিনিসপত্র ভাসতে দেখা গেছে।

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে আশ্রয় দেওয়া ৭৬১টি স্থান ডুবে যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। হাজারো মানুষ আগেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র সরে গিয়েছে।

জাতিসংঘ ও ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনও বাস্তুচ্যুত ১৫ লাখ মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে আরও ৩ লাখ নতুন তাঁবু প্রয়োজন। বর্তমানে ব্যবহৃত বেশিরভাগ আশ্রয়ই পুরনো, কিংবা পাতলা প্লাস্টিক ও কাপড়ের তৈরি।

বাসিন্দারা বোমায় ধ্বংস হওয়া বাড়িগুলো থেকে লোহার রড টেনে বের করে তা দিয়ে তাঁবু দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন, বা সামান্য টাকায় বিক্রি করছেন। 

অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর বড় ধরনের হামলা কমলেও, যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামোর কারণে গাজায় জীবনযাপন এখনও কঠিন।

সহায়তার সংকট:

হামাস–নেতৃত্বাধীন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী যে পরিমাণ ত্রাণ ঢোকার কথা, ইসরায়েল তা প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বলছে, জরুরি পণ্য সরবরাহে বাধা দিচ্ছে ইসরায়েল। 

তবে, ইসরায়েলের দাবি, তারা তাদের দায়িত্ব পালন করছে; বরং সংস্থাগুলো অদক্ষ এবং তাদের ত্রাণ চুরি করছে হামাস, যা হামাস অস্বীকার করেছে।

হামাস–নিয়ন্ত্রিত গাজা সরকারের গণমাধ্যম দপ্তরের প্রধান ইসমাইল আল-থাওবাতা বলেছেন, “ইসরায়েল সীমান্ত বন্ধ রেখে ত্রাণ ও আশ্রয় সামগ্রী প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। বাস্তুচ্যুত মানুষ ঝড়-বৃষ্টির ঝুঁকির মুখে পড়ায় এর সম্পূর্ণ দায় ইসরায়েলি দখলদারের।”

ফিলিস্তিনিদের জন্য জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ বলেছে, জলাবদ্ধ রাস্তাঘাট ও পানিতে প্লাবিত তাঁবু পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর করে তুলেছে। 

“ঠান্ডা, অতিরিক্ত ভিড় ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ছে,” জানায় জাতিসংঘ সংস্থাটি।

সংস্থাটি আরও বলেছে, পর্যাপ্ত চিকিৎসাসহ নির্বিঘ্ন মানবিক সহায়তা ও সঠিক আশ্রয় পাওয়া গেলে এই দুর্ভোগ ঠেকানো যেত।