Published : 29 Apr 2026, 07:08 PM
ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধের পরিধি বাড়তে যাচ্ছে—এক গণমাধ্যমে এমন খবর এবং যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা অচলাবস্থায় পতিত হওয়ার দিনকয়েক পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানিদের ‘দ্রুত স্মার্ট হতে’ এবং চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে তাগাদা দিয়েছেন।
ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে বুধবার তিনি বলেছেন, ইরান ‘একমত হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না’।
শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটি কথা বলতে চাইলে ‘ফোন করতে পারে’—এ কথা বারবার বলা ট্রাম্প তেহরান কোনোভাবেই যে পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারে না, তাও জোরের সঙ্গেই বলে যাচ্ছেন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, তেহরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে প্রেসিডেন্ট ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধের পরিধি বাড়াতে প্রস্তুতি নিতে সহযোগীদের নির্দেশ দিয়েছেন।
ফের বোমাবর্ষণ কিংবা সংঘাত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট ঝুঁকির চেয়ে ট্রাম্প ইরানের অর্থনীতি ও তেল রপ্তানিকে চেপে ধরা অব্যাহত রাখতেই বেশি পছন্দ করছেন, কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
“তারা জানে না কী করে একটি অ-পারমাণবিক চুক্তিতে সই করতে হয়। তাদের উচিত দ্রুত স্মার্ট হয়ে ওঠা,” বুধবারের পোস্টে ট্রাম্প এ কথা বললেও চুক্তিতে কী কী থাকতে পারে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।
ইরান চায়, শান্তিপূর্ণ, বেসামরিক উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার যে অধিকার তাদের রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তার স্বীকৃতি দিক।
তাদের কাছে ৪৪০ কেজির মতো ৬০% মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ আছে, যা আরও সমৃদ্ধ করা গেলে একাধিক পারমাণবিক অস্ত্র বানিয়ে ফেলা সম্ভব।
এদিকে মঙ্গলবার ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা বিকল্প বাণিজ্য পথ ব্যবহার করছেন, যে কারণে মার্কিন নৌ-অবরোধ তাদের বড় কোনো সমস্যা করবে না। যুদ্ধ শেষ হয়েছে—ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটি তা মনে করছে না বলেও নিশ্চিত করেছেন তারা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এ যুদ্ধ বিরতিতে যাওয়ার আগেই কয়েক হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এ সংঘাত এরই মধ্যে বিশ্বের জ্বালানি বাজারকে অস্থির করে তুলেছে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথে নৌচলাচল বিঘ্নিত করছে।
আগে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি চায় ইরান
ইরান সর্বশেষ যে প্রস্তাব দিয়েছে তাতে তারা বলেছে, যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ও নৌচলাচল সংক্রান্ত ইস্যু সমাধান হওয়ার পর তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করবে।
অথচ ট্রাম্পের মূল লক্ষ্যই চাহিদাই হচ্ছে ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সরিয়ে আনা। ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটন তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকেই আলোচনার কেন্দ্রে রাখতে চাইছে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এ নৌপথ দিয়েই আগে তেল-গ্যাসের এক পঞ্চমাংশ সরবরাহ হতো। তেহরানের হরমুজ বন্ধ করে দেওয়ার পাল্টায় চলতি মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ শুরু করে।
ট্রুথ সোশালে ট্রাম্পের এক পোস্টে কালো সানগ্লাস পরা, হাতে মেশিনগান নিয়ে তার একটি ডিজিটাল ছবিও দেখা গেছে। যার শিরোনাম ছিল, “আর ভালো লোক থেকে কাজ হবে না।”
রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্ট ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক চাপের মধ্যে রয়েছেন। অজনপ্রিয় এ যুদ্ধের কারণে তার জনপ্রিয়তাও দিন দিন কমছে।
সর্বশেষ রয়টার্স/ইপসোস জরিপে তার কাজে মাত্র ৩৪ শতাংশ আমেরিকানের সন্তুষ্টি দেখা যাচ্ছে। দিনকয়েক আগেকার জরিপেও এ হার ছিল ৩৬ শতাংশ।
লিংক হবে-
সর্বোচ্চ নেতার ভূমিকা ছেঁটে 'রেভল্যুশনারি গার্ডের কব্জায়' ইরানের