১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইলিনয়ের গভর্নর ও শিকাগোর মেয়রকে কারাগারে পাঠানোর আহ্বান ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তাদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থতার অভিযোগে গভর্নর প্রিৎজকার ও মেয়র জনসনকে জেলে পাঠানোর এই আহ্বান জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ইলিনয়ের গভর্নর ও শিকাগোর মেয়রকে কারাগারে পাঠানোর আহ্বান ট্রাম্পের
ইলিনয়ের একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ন্যাশনাল গার্ড সেনা। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Oct 2025, 11:51 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:26 PM

যুক্তরাষ্ট্রে ইলিনয় রাজ্যের গভর্নর জে বি প্রিৎজকার এবং শিকাগোর মেয়র ব্র্যান্ডন জনসনকে কারাগারে পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

শিকাগোয় অবৈধ অভিবাসী বিরোধী অভিযান পরিচালনায় থাকা কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যথেষ্ট ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে ট্রাম্প এই আহ্বান জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “শিকাগোর মেয়র ব্র্যান্ডন জনসন ও ইলিনয়ের গভর্নর জে বি প্রিৎজকার—দুজনকেই জেলে পাঠানো উচিত। তারা যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তাদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন!”

এর আগে শিকাগো শহরকে “যুদ্ধক্ষেত্র” বলে মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। অভিবাসন আইন প্রয়োগের বিরুদ্ধে শহরটিতে বিক্ষোভ চলার মধ্যে ট্রাম্প ওই মন্তব্য করেন। ইলিনয়ের গভর্নর প্রিৎজকার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ট্রাম্পের আচরণ “স্বেচ্ছাচারী”। 

রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের ওই মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন শতাধিক ন্যাশনাল গার্ড সদস্য অভিবাসনবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে শিকাগোতে পৌঁছেছেন।

এতে করে ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন রাজ্য ও শহরগুলোর সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের মুখোমুখি অবস্থান আরও তীব্র হয়েছে।

 ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে শিকাগোর মেয়র জনসন বলেন, “এটা প্রথমবার নয় যে, ট্রাম্প কোনও কৃষ্ণাঙ্গ মানুষকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করতে চাইছেন। আমি কোথাও যাচ্ছি না।”

ওদিকে, ইলিনয়ের গভর্নর প্রিৎজকারও বলেন, “আমি পিছিয়ে যাচ্ছি না। ট্রাম্প এখন এমন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের গ্রেপ্তারের আহ্বান জানাচ্ছেন, যারা তার ক্ষমতার রাশ টেনে রাখছে। পূর্ণ কর্তৃত্ববাদের পথে যেতে আর কি বাকি আছে?”

শিকাগোতে ন্যাশনাল গার্ড সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত আসে লস অ্যাঞ্জেলেস ও ওয়াশিংটন ডিসিতে একইভাবে সেনা মোতায়েনের পদক্ষেপের পর। ট্রাম্প দাবি করেছেন, এসব শহরে অপরাধ ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’।

গত মাসে ওয়াশিংটন ডিসির অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রায়ান শোয়াল্ব এই সেনা মোতায়েনের বিরুদ্ধে মামলা করে বলেছেন, “এটি অপ্রয়োজনীয়, অনাকাঙ্ক্ষিত এবং স্থানীয়দের জন্য বিপজ্জনক।”

ট্রাম্প আরও নির্দেশ দিয়েছেন, মেমফিস (টেনেসি) ও পোর্টল্যান্ড (ওরেগন) শহরেও ন্যাশনাল গার্ড সেনা পাঠানোর। আদালত পোর্টল্যান্ডে সেনা মোতায়েন আটকে দিলেও শিকাগোতে আপাতত সেনা মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে।

ইলিনয় সরকার ও শিকাগো সিটি করপোরেশন সোমবারই সেনা মোতায়েন ঠেকাতে মামলা করেছিল। এ মামলার শুনানি হবে বৃহস্পতিবার।

আদালত যদি মোতায়েন আটকে দেয়, তবে ট্রাম্প ‘ইনসারেকশন অ্যাক্ট’ প্রয়োগ করে সামরিক বাহিনী নামাবেন বলে হুমকি দিয়েছেন।  “যদি মানুষ মারা যায় আর আদালত বা মেয়ররা আমাদের থামাতে চায়, প্রয়োজনে আমি এই আইন প্রয়োগ করব,” বলেন তিনি।

হোয়াইট হাউজের উপপ্রধান কর্মকর্তা স্টিফেন মিলার আদালতের এসব পদক্ষেপকে “যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও সংবিধানের বিরুদ্ধে এক ধরনের বিদ্রোহ” বলে বর্ণনা করেছেন।

গত সপ্তাহান্তে শিকাগোয় বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠে। অভিবাসন কর্মকর্তারা দাবি করেন, একদল বিক্ষোভকারী তাদের গাড়িতে ধাক্কা দিলে তারা গুলি চালান। আহত নারী নিজেই হাসপাতালে যান, যদিও তার আইনজীবী সরকারের এই বর্ণনা অস্বীকার করেছেন।

বুধবার অ্যান্টিফা—বামপন্থি কর্মীদের এক অসংগঠিত সংগঠন—নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক করবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।