Published : 18 Jun 2026, 07:34 PM
বিশ্বকাপ অভিযানের শুরুতে ছন্নছাড়া পারফরম্যান্সে এবং ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পয়েন্ট হারিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে পর্তুগাল। সমালোচনা সবচেয়ে বেশি হচ্ছে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে। তবে এক্ষেত্রে ওয়েইন রুনির ভাবনা ভিন্ন। তার চোখে, রোনালদো নয়, বরং তার মাঝমাঠের সতীর্থদের দায় বেশি।
হিউস্টনে বুধবার রাতে জোয়াও নেভেসের গোলে দারুণ শুরুর পর, পুরোপুরি নিজেদের হারিয়ে ফেলে পর্তুগাল। তাদের বিবর্ণতার সুযোগ নিয়ে বিরতির আগে সমতা টানেন ইয়োয়ান উইসা। পরে ঘুরে দাঁড়ানোর অনেক সময় থাকলেও, কিছু করতে পারেনি রোনালদো-ফের্নান্দেরা।
১-১ গোলে ড্র করে, একরাশ হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়ে দারুণ সব খেলোয়াড়ে গড়া দলটি।
ম্যাচ শেষের পর থেকে, সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে এবং সমালোচকদের মূল লক্ষ্য রোনালদো। অনেকেই সেই পুরনো কথাটাই নতুন করে বলতে শুরু করেছে, রোনালদোকে ছাড়াই বর্তমান পর্তুগাল দলটি শক্তিশালী, তাকে নিয়ে উল্টো। কারো যুক্তি, ৪১ বছর বয়সী রোনালদো পুরো ৯০ মিনিট খেলার উপযুক্ত নন।
ঘানার বিপক্ষে রোনালদোর সাদামাটা পারফরম্যান্স বিবেচনায় নিলে, সমালোচকদের কথা যৌক্তিকও মনে হতে পারে।
ম্যাচে পর্তুগালের হয়ে কমপক্ষে ৪৫ মিনিটের বেশি সময় খেলা ফুটবলারদের মধ্যে বলে সবচেয়ে কম স্পর্শ রোনালদোর (২৫)। দ্বিতীয়ার্ধে ছয় গজ বক্সের বাইরে ভালো দুটি সুযোগ পেয়ে কাজে লাগাতে পারেননি তিনি।
তবে বিবিসি ওয়ানে ম্যাচটি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ভিন্নমত জানালেন রুনি। তার কাছে টুর্নামেন্টে নবাগত এক দলের বিপক্ষে পর্তুগালের এমন ‘ভরাডুবির’ পেছনে মূল দায়টা তার সাবেক ক্লাব সতীর্থ রোনালদোর নয়, বরং তাদের মাঝমাঠের।
“ব্রুনো ফের্নান্দেস কিংবা বের্নার্দো সিলভা কেউই ক্রিস্তিয়ানোর জন্য পুরো ম্যাচে একটাও নিশ্চিত সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। সুযোগ তৈরির কথা ভুলে যান, তারা নিজেরাও গোল করতে পারেনি।”
“মানুষ যে রোনালদোকে বেঞ্চে বসাতে বলছে, তাদের এই কথার পেছনে কোনো যুক্তি পাচ্ছি না আমি। কারণ (স্কোরিং পজিশনে) সে তো খুব বেশি বল-ই পায়নি।”
ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে পর্তুগাল কোচ মার্তিনেসও অনেকটা একইরকম মন্তব্য করেন।
“মাঠে উপস্থিত সব খেলোয়াড়কেই আমাদের কাজে লাগাতে হবে। মূল ফরোয়ার্ডকে (রোনালদো) ছয় গজ বক্সের কাছাকাছি থাকতে হবে এবং তার কাছে আমাদের বল পৌঁছাতে হবে।”
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জার্সিতে সবশেষ মৌসুম দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন ফের্নান্দেস। হয়েছেন প্রিমিয়ার লিগের মৌসুম সেরা ফুটবলার। ভক্ত-সমর্থকদের আশা, সেই ফর্ম তিনি জাতীয় দলেও বয়ে আনবেন, বিশ্বকাপে ছড়াবেন আলো।
প্রথম ম্যাচে সেই প্রত্যাশার কিছুই পূরণ করতে পারেননি ফের্নান্দেস। রুনির মতে, পর্তুগালের হোঁচটের পেছনে বড় দায়টা ৩১ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের।
“বিশ্বকাপে পর্তুগালের সেরা ফুটবলার হওয়ার কথা ছিল ব্রুনোর, এমনকি টুর্নামেন্টের গোল্ডেন বলের সম্ভাব্য দাবিদারও। কিন্তু মাঠে সে আসলে কী করেছে, এবং গণমাধ্যমে কেন তাকে নিয়ে সমানভাবে বলা হচ্ছে না?”
গ্রুপ পর্বে দ্বিতীয় ম্যাচে আগামী মঙ্গলবার উজবেকিস্তানের বিপক্ষে খেলবে পর্তুগাল। এরপর, আগামী ২৭ জুন শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া।