১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘আমিই বস’, জি সেভেন নেতাদের বললেন ট্রাম্প

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ট্রাম্প এমন মন্তব্য করেন বিশ্ব অর্থনীতির নিরাপত্তা বিষয়ক এক অধিবেশনে যোগ দেওয়ার সময়।

‘আমিই বস’, জি সেভেন নেতাদের বললেন ট্রাম্প
ডনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Jun 2026, 10:38 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:26 PM

ফ্রান্সে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর জোট জি সেভেন সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে ‘বস’ ঘোষণা করেছেন। জোটভুক্ত দেশগুলোর প্রধানদের উপস্থিতিতে ট্রাম্প বলেন, “আমিই বস।”

ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ শহরে অনুষ্ঠিত ১৫-১৭ জুনের এই সম্মেলনে ট্রাম্প বুধবার এমন মন্তব্য করেন বিশ্ব অর্থনীতির নিরাপত্তা বিষয়ক এক অধিবেশনে যোগ দেওয়ার সময়।

সেখানে উপস্থিত রাষ্ট্রনেতা এবং সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প নিজেকে ‘বস্’ বলেছেন। তার এই কথায় আলোচনার টেবিলে বসে থাকা জি সেভেন নেতাদের মধ্যে হাসির রোল পড়ে যায়।

অধিবেশন কক্ষে সম্মেলনের নেতাদের সবার শেষে প্রবেশ করেছিলেন ট্রাম্প। সেখানে বিশ্ব বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার আগে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর পাশের আসনে বসার জন্য এগিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাম্প ওই মন্তব্য করেন।

আন্তর্জাতিক নানা সংকট, ইউক্রেইন যুদ্ধ, পশ্চিম এশিয়ায় শান্তির চেষ্টার মতো নানা বিষয় নিয়ে আলোচনায় সম্মেলনের গুরুগম্ভীর পরিবেশের মধ্যে ট্রাম্পের ওই কৌতুকপূর্ণ বক্তব্য এবং নেতাদের হাস্যরসে হালকা মেজাজের এক আবহ তৈরি হয়।

নেতারা পরে ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের প্রাথমিক শান্তিচুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে এটি বাস্তবায়নে সহায়তা করতে প্রস্তুত বলে জানান, যদিও চুক্তিটির বিস্তারিত খুঁটিনাটি এখনও প্রকাশ পায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপীয় মিত্ররা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র প্রাথমিক সমঝোতা স্মারককে প্রকাশ্যে সমর্থন দিলেও কূটনীতিকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসুচি নিয়ে স্থায়ী কোনও চুক্তি হওয়া কিংবা পশ্চিম এশিয়ায় ছায়া গোষ্ঠীগুলোকে ইরানের সমর্থন দেওয়া বন্ধ করার বিষয়টি এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।

ইতোমধ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে রাষ্ট্রনেতাদের বৈঠক হয়েছে। জি সেভেন ভুক্ত দেশগুলো একটি যৌথ বিবৃতিও দিয়েছে। বুধবারের অধিবেশনের আলোচ্য বিষয় ছিল দুষ্প্রাপ্য খনিজ এবং অর্থনীতির ভারসাম্যহীনতা। রাশিয়া এবং ইউক্রেইন যুদ্ধ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। 

ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও তার মিত্ররা এবারের সম্মেলনে ট্রাম্পকে একথা বোঝানোর আশা নিয়ে এসেছিলেন যে, যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেইনের অগ্রগতি ফল দিচ্ছে এবং শান্তি আলোচনায় রাশিয়া একতরফাভাবে শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার অবস্থানে নেই।

সম্মেলনের যৌথ বিবৃতি এবং নেতাদের মন্তব্য থেকে এ আভাসই পাওয়া গেছে যে, ট্রাম্প ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে নিয়ে দীর্ঘদিনের সংশয়ের পর এবার তার প্রতি আন্তরিক হয়েছেন।

তবে রাশিয়াকে শান্তি আলোচনায় বাধ্য করার ক্ষেত্রে এখনও অনেকটাই ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে হবে।

তাছাড়া, ট্রাম্প ও ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে কি না, সেটি স্পষ্ট নয় এবং রুশ তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত ছাড় বহাল থাকবে কি না সেটিও দেখার বিষয়।