Published : 08 Apr 2026, 01:56 AM
সমঝোতা না করলে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন করে’ দেওয়ার ডনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে মার্কিন নাগরিকদের সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।
একই সঙ্গে সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস আমেরিকানদের ভ্রমণ এবং হজে অংশ নেওয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।
এ সতর্কতা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ট্রাম্পের সবশেষ হুমকির পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান যদি সমঝোতা চুক্তি করতে রাজি না হয় এবং হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয় তাহলে রাত ৮টার (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টা) সময়সীমার পর তিনি বড় ধরনের বোমা হামলা চালাবেন।
এর জবাবে ইরানও চুপ করে বসে না থেকে পাল্টা হামলা চালানোর কথা বলেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, “বিশ্বজুড়ে আমেরিকানদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার চেয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে আর কোনো বিষয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়।“
এর আগে গত ২ মার্চ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিনীদের জন্য পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে অঞ্চলজুড়ে একটি সতর্কতামূলক বার্তা জারি করার তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দ্য হিল লিখেছে, কায়রোতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এ বিষযে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে।
ইরান যুদ্ধের মধ্যে নতুন সময়সীমা বেধে দিয়ে ট্রাম্পের হুমকির পর পররাষ্ট্র দপ্তর জর্ডান, ওমান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে তাদের নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা লেভেল ৩-এ উন্নীত করেছে। একই সঙ্গে দেশটির নাগরিকদের এসব গন্তব্যে ভ্রমণ পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, সেখানে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণের এ সতর্কতা এসেছে হজের প্রায় এক মাস আগে, যা সৌদি আরবের মক্কায় কুরবারি ঈদের সময় অনুষ্ঠিত হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মুসলমানদের এ বছর হজে অংশগ্রহণের বিষয়টি ‘পুনর্বিবেচনা’ করতে বলেছে।
কনস্যুলার অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর বরাতে হিলের খবরে বলা হয়েছে, আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে মক্কায় প্রবেশের চেষ্টা করা ব্যক্তিদের হজ পারমিট, মক্কা থেকে ইস্যু করা আবাসিক পরিচয়পত্র অথবা বৈধ ওয়ার্ক পারমিট প্রদর্শন করতে হবে। অন্যান্য ভিসাধারীদের ১৮ এপ্রিলের আগে মক্কা ত্যাগ করা উচিত।
“এই ব্যবস্থাগুলো জুনের শুরু থেকে মাঝামাঝি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো সব নিয়মিত কনস্যুলার সেবা স্থগিত করেছে এবং আমেরিকান নাগরিকদের জন্য সীমিত জরুরি সেবা প্রদান করছে।”

মিসরে ভ্রমণ লেভেল ২-এ রয়েছে, যেখানে ভ্রমণকারীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়।
পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, চরমপন্থি এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো অঞ্চলটিতে হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে আগ্রহ দেখিয়েছে, যার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হামলাও অন্তর্ভুক্ত।
বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন সরকারি কর্মচারী ও আমেরিকানদের ‘যেখানে আছেন সেখানেই আশ্রয়ে থাকার’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
“যতটা সম্ভব, নিরাপদ স্থাপনার ভেতরে থাকুন এবং জানালা থেকে দূরে থাকুন। খাদ্য, পানি, ওষুধ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র মজুত রাখুন।
“অতিরিক্ত তথ্য বা শেষ মুহূর্তের পরিবর্তনের জন্য আপনার ইমেইল দেখুন।”
মানামায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সব নিয়মিত কনস্যুলার সেবা স্থগিত করার খবরও দিয়েছে দ্য হিল।
এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলার পর ২ মার্চের সতর্কবার্তায় বাহরাইন, মিসর, ইরান, ইরাক, ইসরায়েল, ফিলিস্তিন, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন থেকে মার্কিন নাগরিকদের সরে যেতে সতর্কবার্তা দিয়েছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
ওই সময় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নিরাপত্তার কারণে বাহরাইন, জর্ডান ও ইরাক থেকে অনেক কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। অনেকের পরিবারের সদস্যদেরও সরিয়ে নিয়েছিল।