Published : 17 Sep 2025, 02:03 PM
সিরিয়া, যুক্তরাষ্ট্রের চাপে একটি নিরাপত্তা চুক্তির জন্য ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনার গতি বাড়াচ্ছে; বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত কর্মকর্তারা রয়টার্সকে এমনটি জানিয়েছেন।
তারা জানান, দামেস্ক আশা করছে এই চুক্তি হলে তার যেসব ভূমি ইসরায়েল সম্প্রতি দখল করেছে সেগুলো ফেরত পাবে, কিন্তু দুই দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তি আশানুরূপ হবে না বলে ধারণা প্রকাশ করেছেন তারা।
ওই সূত্রগুলোর মধ্যে চারজন রয়টার্সকে জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষের দিকে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন উপলক্ষ্যে বিশ্ব নেতারা নিউ ইয়র্কে জড়ো হবেন। তার আগেই যেন শান্তি চুক্তির বিষয়ে যথেষ্ট অগ্রগতি হয় তার জন্য চাপ দিচ্ছে ওয়াশিংটন, তাতে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সাধারণ অধিবেশন চলাকালীন একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির ঘোষণা দিতে পারবেন।
এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এমনকী সীমিত একটি চুক্তি হলেও তা কৃতিত্ব বলে বিবেচিত হবে।
তিনি আরও জানান, কয়েক মাস ধরে আলোচনা চললেও ইসরায়েলের কঠোর অবস্থানের কারণে এবং দক্ষিণাঞ্চলে সাম্প্রদায়িক হানাহানির কারণে বিভাজনের দাবি জোরদার হওয়ার পর সিরিয়া দুর্বল হয়ে পড়ায় আলোচনার অগ্রগতি আশানুরূপ হয়নি।
রয়টার্স জানিয়েছে, তারা এই আলোচনা ও সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের অভিযানের বিষয়ে জ্ঞাত কিন্তু পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক নয়জন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের মধ্যে সিরিয়ার সামরিক বাহিনী ও রাজনৈতিক কর্মকর্তারা, দুইজন গোয়েন্দা সূত্র ও একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা আছেন।
তারা জানান, সিরিয়ার প্রস্তাবগুলোর লক্ষ্য হল সম্প্রতি দখলকৃত অঞ্চলগুলো থেকে ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহার, ১৯৭৪ সালে সমঝোতা হওয়া অসামরিকীকরণকৃত বাফার জোন পুনর্বহাল এবং সিরিয়ায় ইসরায়েলের অনুপ্রবেশ ও বিমান হামলা বন্ধ করা।
ওই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনায় গোলান মালভূমির অবস্থা নিয়ে কোনো কথা হয়নি। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে সিরিয়ার এ মালভূমিটি দখল করে নিয়েছিল ইসরায়েল, তারপর থেকে এটি তাদের নিয়ন্ত্রণেই আছে। দামেস্কের অবস্থান সম্পর্কে জ্ঞাত এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গোলান মালভূমি নিয়ে আলোচনা ‘ভবিষ্যতের জন্য’ ছেড়ে দেওয়া হবে।
১৯৪৮ সালে ইসরায়েলের সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে এই দুই দেশ মাঝে মাঝে অস্ত্রবিরতি সত্ত্বেও কার্যত যুদ্ধরত অবস্থায় আছে। সিরিয়া ইসরায়েল রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়নি।
কয়েক মাস ধরে অসামরিকীকরণকৃত বাফার জোনে অনধিকার প্রবেশের পর ইসরায়েল গত বছরের ৮ ডিসেম্বর ১৯৭৪ সালে হওয়া ‘সমঝোতা’ বাতিল করে। এই দিনটিতেই বিদ্রোহীদের আক্রমণে সিরিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হন। বাশার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ইসরায়েল ব্যাপক আক্রমণ চালিয়ে সিরিয়ার বহু সামরিক সম্পদ ধ্বংস করে দেয় এবং দামেস্কের ২০ কিলোমিটারের মধ্যে নিজেদের সেনা পাঠায়।
ওই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ সময়ের মধ্যে ইসরায়েল যা কিছু অর্জন করেছে রুদ্ধদ্বার আলোচনায় সময় তা ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে তারা কোনো আগ্রহ দেখায়নি।
ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেছেন, “ওই নিরাপত্তা চুক্তি তরান্বিত করার জন্য সিরিয়ার ওপর চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র- এটা ট্রাম্পের ব্যক্তিগত।”
তিনি জানান, মার্কিন নেতা মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে বড় ধরনের সাফল্যের স্থপতি হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে চান, কিন্তু ‘ইসরায়েল খুব বেশি কিছু দিচ্ছে না’।
এসব নিয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এবং দেশটির কৌশলগত সম্পর্ক বিষয়কমন্ত্রী রন ডার্মারের দপ্তর। ডার্মার সিরিয়ার সঙ্গে আলোচনা ইসরায়েলি পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, “ইসরায়েল, সিরিয়া ও তাদের প্রতিবেশীদের মধ্যে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে আসবে এমন যে কোনো প্রচেষ্টায় ওয়াশিংটন ধারাবাহিকভাবে সমর্থন দিয়ে যাবে।”
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির ঘোষণা দিতে চায় কি না, রয়টার্সের এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি তিনি।
ইসরায়েল সিরিয়ার ইসলামপন্থিদের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি শত্রুতা প্রকাশ করেছে। তারা সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারার সাবেক জিহাদি ভূমিকার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে দেশটিকে দুর্বল ও ক্ষমতা বিকেন্দ্রীভূত করে দেওয়ার জন্য ওয়াশিংটনের কাছে তদ্বির করেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।