ইসরায়েলি বাহিনী সম্পূর্ণ প্রত্যাহারসহ হামাসের ১৩৫ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব

হামাসের দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনের ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা করার কথা রয়েছে।

রয়টার্স
Published : 7 Feb 2024, 12:33 PM
Updated : 7 Feb 2024, 12:33 PM

কয়েকদিন ধরে আলোচনার পর অবশেষে গাজায় সাড়ে চার মাসের একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে হামাস। যে সময়ে ইসরায়েলের বাকি সব জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া, গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং যুদ্ধের ইতি টানতে একটি চুক্তিতে উপনীত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

গত সপ্তাহে কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে গাজায় যুদ্ধবিরতির বিষয়ে একটি প্রস্তাব হামাসের নেতাদের কাছে পাঠানো হয়। ওই প্রস্তাব হাতে পাওয়ার কথা জানিয়ে তখন হামাসের শীর্ষ এক নেতা জানিয়েছিলেন, তারা প্রস্তাবটি মূল্যায়ন করে দেখছেন।

ওই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতেই এবার নিজেদের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব সামনে আনলো হামাস।

হামাসের যুদ্ধবিরতির পাল্টা প্রস্তাবের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরায়েল থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। তবে ইসরায়েল বার বার বলেছে, গাজায় হামাসকে পুরোপুরি নির্মূল না করা পর্যন্ত তারা যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।

হামাস যুদ্ধবিরতির যে প্রস্তাব দিয়েছে সেটা দেখেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। হামাসের ওই প্রস্তাবে তিনটি পর্যায়ে যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি পর্যায় ৪৫ দিনের হবে। যুদ্ধবিরতির ওই প্রস্তাবে হামাস বলেছে, ফিলিস্তিনি কারাবন্দিদের বিনিময়ে তারা ইসরায়েল থেকে গত ৭ অক্টোবর ধরে নিয়ে আসা বাকি জিম্মিদের মুক্তি দেবে।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজা পুনর্গঠনের কাজ শুরু করতে হবে, ইসরায়েলি বাহিনীকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করে নিতে হবে এবং উভয় পক্ষ মৃতদেহ এবং বাকি অন্যান্য কিছু বিনিময় করবে।

একটি বিস্তৃত যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে উপনীত হতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন মঙ্গলবার কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতাকারী দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং রাতেই ইসরায়েলে উড়ে যান। বুধবার তার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দেখা করে হামাসের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করার কথা রয়েছে।

গাজায় যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে এমন একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে বলেন, হামাস যে পাল্টা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে সেখানে শুরুতেই স্থায়ী যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়নি। তবে যুদ্ধবিরতির মধ্যে যুদ্ধ অবসানের বিষয়ে আলোচনা করতে হবে এবং জিম্মিদের শেষ দলটি মুক্তি পাওয়ার আগে একটি চুক্তিতে উপনীত হতে হবে।

হামাসের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে যা যা আছে:

রয়টার্সের দেখা নথি অনুযায়ী, প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির প্রথম ৪৫ দিনে ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুদের মুক্তির বিনিময়ে হামাসের হাতে বন্দি সব ইসরায়েলি নারী, ১৯ বছরের কম বয়সের পুরুষ, বয়স্ক এবং অসুস্থ জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হবে। এছাড়াও, চুক্তির প্রথম পর্যায়ে ইসরায়েলকে গাজার সব জনবহুল এলাকা থেকে নিজেদের সেনা প্রত্যাহার করে নিতে হবে।

যতক্ষণ পর্যন্ত না উভয়পক্ষ ‘পারস্পরিক সামরিক অভিযান শেষ করতে এবং সম্পূর্ণ শান্তি ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলির উপর পরোক্ষ আলোচনা সমাপ্ত না করবে’ ততক্ষণ পর্যন্ত প্রস্তাবিত চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায় আরম্ভ হবে না।

দ্বিতীয় পর্যায়ে ইসরায়েলের বাকি সব পুরুষ জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া এবং পুরো গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা বলা আছে।

মৃতদেহ এবং অন্যান্য কিছু প্রস্তাবিত চুক্তির তৃতীয় পর্যায়ে বিনিময় করা হবে।

চুক্তিতে গাজায় খাদ্য এবং অন্যান্য ত্রাণ সহায়তা বৃদ্ধি কথা বলা হয়েছে। দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে গাজা। সেখানে বেশিরভাগ মানুষ এখন এমনকি দিনে একবেলা খাবারও খেতে পান না। নিত্যপণ্যেরও চরম সংকট রয়েছে।

Also Read: গাজায় হামলার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পঞ্চম সফরে ব্লিঙ্কেন

Also Read: ব্লিনকেনের সফর যুদ্ধবিরতি আনবে, আশায় গাজার ফিলিস্তিনিরা

Also Read: গাজায় যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত হামাসের হাতে: যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা

Also Read: গাজায় যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত হামাসের হাতে: যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা

Also Read: গাজায় যুদ্ধবিরতির জন্য ‘চূড়ান্ত ফরমুলার’ খোঁজে মধ্যস্থতাকারীরা