১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

হামলাকারীদের শাস্তি দেওয়া হবে, হুঙ্কার পুতিনের

পুতিন তার শত্রুদের ‘আন্তর্জাতিক শত্রু’ বলে বর্ণনা করে বলেছেন, তাদের দমনে যেকোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে কাজ করতে তিনি প্রস্তুত আছেন।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Mar 2024, 11:06 PM

Updated : 23 Mar 2024, 11:06 PM

মস্কোর কাছে একটি কনসার্ট হলে হামলার ঘটনার একদিন পর এ বিষয় নিয়ে মুখ খুলেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শনিবার তিনি প্রাণঘাতী ওই হামলার পেছনে দায়ীদের খুঁজে বের করে শান্তি দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছেন।

শুক্রবার মস্কোর উপশহর ক্রাসনোগর্স্কের এক সিটি হলে কনসার্ট আয়োজনে বন্দুকধারীদের হামলায় এখন পর্যন্ত ১৩৩ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরো ‘উল্লেখযোগ্য সংখ্যায়’ বাড়তে পারে বলে নগরীর গভর্নরের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি।

ক্রোকাস সিটি হলে শুক্রবার যখন হামলা শুরু হয় তখন গান শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল সোভিয়েত আমলের রক সঙ্গীত দল ‘পিকনিক’। ৬২০০ দর্শক আসনের সিটি হলটি হামলার সময় কানায় কানায় পূর্ণ ছিল।

এ হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন চার হামলাকারীসহ মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তারের কথা শনিবার জানিয়েছে রাশিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী।

জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বাহিনীগুলোও আইএসআইএস-কে এ হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন। কিন্তু রাশিয়া হামলার এ ঘটনায় ইউক্রেইনের যোগসূত্রিতা রয়েছে বলে দাবি করেছে। যদিও ইউক্রেইন রক্তক্ষয়ী এ হামলার পেছনে তাদের হাত নেই বলে বিবৃতি দিয়েছে।

রাশিয়ার স্টেট ইনভেস্টিগেটিভ কমিটি হামলায় ১৩৩ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে। এর আগে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে কোনো সূত্রের বরাত না দিয়ে ১৪৩ জন নিহত হওয়ার কথা বলেছিল বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

হামলার পরদিন টেলিভিশনে এক ভাষণে পুতিন বলেন, “১১ জনকে আটক করা হয়েছে। যাদের মধ্যে চার বন্দুকধারীও রয়েছে। তারা লুকিয়ে ইউক্রেইনে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, সীমান্তে ইউক্রেইনের অংশে তাদের সরিয়ে নিতে সব রকম প্রস্তুতি রাখা হয়েছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি।”

রাশিয়ার কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী এফএসবি থেকেও বন্দুকধারীদের সঙ্গে ইউক্রেইনের যোগাযোগ থাকার কথা বলা হয়েছে। বলেছে, হামলাকারীদের ইউক্রেইন সীমান্ত থেকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের মস্কো নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

তবে পুতিন বা তার নিরাপত্তা বাহিনী, কেউই ইউক্রেইনের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তাদের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি।

ইউক্রেইনের বিরুদ্ধে প্রায় ২৫ মাস ধরে যুদ্ধ করছে রাশিয়া।

মস্কোয় হামলার বিষয়ে ইউক্রেইনের সামরিক গোয়েন্দা বাহিনীর মুখপাত্র অ্যান্ড্রি ইউসোভ রয়টার্সকে বলেন, “ইউক্রেইন নিশ্চিতভাবেই এই সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত নয়। ইউক্রেইন রাশিয়ার আক্রমণ থেকে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করছে, নিজ ভূমির স্বাধীনতার জন্য এবং দখলদার হানাদার ও তাদের সামরিক লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে লড়াই করছে, বেসামরিকদের বিরুদ্ধে নয়।

“সন্দেহভাজন হামলাকারীরা ইউক্রেইনে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে যে তথ্য এফএসবি দিচ্ছে সেটা তাদের আরেকটি মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই না।”

এদিকে পুতিন তার শত্রুদের ‘আন্তর্জাতিক শত্রু’ বলে বর্ণনা করে বলেছেন, তাদের দমনে যেকোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে কাজ করতে তিনি প্রস্তুত আছেন।

“সমস্ত অপরাধী, সংগঠক এবং যারা এই অপরাধের নির্দেশ দিয়েছে তাদের প্রাপ্য শাস্তি অনিবার্যভাবে দেওয়া হবে। তারা যেই হোক, যারাই তাদের নির্দেশ দিক।

“যারা সন্ত্রাসীদের মদদ দিচ্ছে, যারা এই নৃশংসতার সৃষ্টি করেছে; রাশিয়ার বিরুদ্ধে, আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে এই হামলা যারা করেছে আমরা তাদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেব।”

হামলায় নিহতদের স্মরণে রোববার রাশিয়া জুড়ে জাতীয় শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছেন পুতিন।

আরও পড়ুন:

পুরানো খবর:

মস্কোয় কনসার্টে বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত অন্তত ৬০

পুরানো খবর:

মস্কোর কনসার্টে গুলিবর্ষণের বিষয়ে যা জানা গেছে

পুরানো খবর:

হামলার বিষয়ে আগেই সতর্ক করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, কান দেয়নি মস্কো

পুরানো খবর:

মস্কোয় কনসার্টে হামলা: রাশিয়ার সন্দেহ ইউক্রেইনের দিকে