Published : 25 Jun 2026, 12:11 AM
হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আর্থিক হিসাব-নিকাশে স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগে কিছুটা তাড়াহুড়ো হয়েছে বলে মনে করেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনাই করা হয়নি।
বুধবার রাতে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মাজারের সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন তিনি।
তবে মাজারের হিসাব ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিশ্চিতের বিষয়ে জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সরকারও একমত তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমাদের সরকার ও সিলেটের সব সংসদ সদস্য এ ব্যাপারে একমত। মাজারের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।”
মাজারকে ঘিরে যে বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে, তা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়ে আরিফুল হক বলেন, “অতীতে কোনো ভুলত্রুটি বা অনিয়ম হয়ে থাকলেও, ভবিষ্যতে তা আর হবে না।”
এর আগে বিকালে সিলেটে এসে ওসমানী বিমানবন্দরে একই বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আরিফুল হক। ওই সময়ও একই রকম কথা বলেন।
এসময় শাহজালালের (রহ.) মাজারের দানবাক্স খোলা ও সেখানে গচ্ছিত অর্থ প্রকাশ্যে গণনার পদক্ষেপ নেওয়ায় সিলেটের সদ্য সাবেক (প্রত্যাহার) জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের প্রশংসা করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, “উনি (সারওয়ার আলম) আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন। আমরা সেদিকেই জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব। এ ধরনের (প্রকাশ্যে টাকা গণনা) স্বচ্ছতার পদক্ষেপে আমাদের সহযোগিতা করা প্রয়োজন। সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব এবং সবাইকে নিয়ে মাজারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করব। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে সিলেট জেলা প্রশাসন গত বৃহস্পতিবার শাহজালালের (রহ.) মাজারে নতুন কয়েকটি দানবাক্স স্থাপন করে। সঙ্গে মাজারে থাকা দানের ঐতিহাসিক তিনটি ডেগ ‘সিলগালা’ করা হয়। তখণ ‘নিরাপত্তার জন্য’ আনসারও মোতায়েন করা হয়, যা নিয়ে পরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মাজার ভক্তরা।
এর মধ্যেই পরদিন শুক্রবার সিলেটের আরেক মাজার হযরত শাহপরাণ (রহ.) এর মাজার পরিদর্শন করে সেটির আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা, পরিকল্পিত উন্নয়ন ও মাদকের আসর বন্ধে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন ডিসি সারওয়ার।
মাজারের দানবাক্স নিয়ে এ আলোচনার মধ্যেই রোববার তাকে সিলেট থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়।
ডিসি সারওয়ারের বদলি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “বদলির বিষয়টা রুটিন ওয়ার্ক। এটা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিষয়। এটা এই ঘটনার (মাজার ইস্যু) সঙ্গে সংযুক্ত হয়। এটা আগে, পরেও হতে পারত।”
এদিকে জুলাইয়ের মধ্যে মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার নিয়ে ‘সুখবর’ আসতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী। বলেন, “আগামী জুলাই মাসের মধ্যে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করবেন এবং চলমান বিভিন্ন বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি জনগণ দেখতে পাবেন।”