Published : 22 Nov 2025, 07:33 PM
ইউক্রেইন যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করতে ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা রাশিয়ান এক দূতের সঙ্গে গত মাসে বৈঠক করেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের প্রতিনিধিরা। এই নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা ও আইনপ্রণেতারা ক্রমবর্ধমানভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছেন বলে পরিস্থিতির বিষয়ে অবগত বেশ কয়েকটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন।
ফ্লোরিডার মায়ামিতে অক্টোবরের শেষ দিকে রাশিয়ার দূত কিরিল দিমিত্রিভের সঙ্গে ওই বৈঠকে বিশেষ মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জারের্ড কুশনারও ছিলেন।
দিমিত্রিভ রাশিয়ার বৃহত্তম সার্বভৌম বিনিয়োগ তহবিল রাশিয়ান ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (আরডিআইএফ) এর পরিচালক। তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র।
ইউক্রেইন যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় দিমিত্রিভ রাশিয়ার পক্ষ থেকে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করছেন। চলতি বছর তিনি বেশ কয়েকবার মার্কিন দূত উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
ঊর্ধ্বতন এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, দিমিত্রিভকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে অনুমতি দিতে বিশেষ ছাড় দেয় ট্রাম্প প্রশাসন।
২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেইনে পূর্ণ মাত্রায় আক্রমণ শুরু করার পর দিমিত্রিভ ও তার সার্বভৌম বিনিয়োগ তহবিলকে মার্কিন সরকার কালো তালিকাভুক্ত করে। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে তাদের সঙ্গে মার্কিন নাগরিকরা ও কোম্পানিগুলো কোনো লেনদেন করতে পারেন না।
ওই বৈঠকের বিষয়ে জ্ঞাত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই ব্যক্তি জানিয়েছেন, ওই বৈঠকে ইউক্রেইন যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে ২৮ দফার একটি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।
গত সপ্তাহের মাঝামাঝি মার্কিন সংবাদ ওয়েবসাইট অ্যাক্সিওস এই পরিকল্পনার কথা জনসম্মুখে প্রকাশ করে। এটি মার্কিন প্রশাসনের বিভিন্ন অংশের কর্মকর্তাদের জন্য বিস্ময় বয়ে নিয়ে আসে এবং ওয়াশিংটন ও ইউরোপীয় রাজধানীর দূতাবাসগুলোতে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে।
প্রকাশিত পরিকল্পনাটি প্রবলভাবে রাশিয়ার স্বার্থের দিকে ঝুঁকে আছে, এমন ধারণা পাওয়ায় ইউক্রেইনীয়রা ও তাদের মিত্ররা এর সমালোচনা করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি প্রত্যয় জানিয়ে বলেছেন, তিনি ইউক্রেইনের ‘স্বার্থের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারবেন না’।
ওই পরিকল্পনায় ইউক্রেইনকে বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই পরিকল্পনাটি সর্বশেষ রাশিয়ার জ্বালানি খাতে নিষেধাজ্ঞাসহ মস্কোর বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তার বিপরীত ধারার বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
রয়টার্স লিখেছে, মায়ামির বৈঠকে দিমিত্রিভ রাশিয়ার নির্দিষ্ট দাবিদাওয়া নিয়ে এসেছিলেন কি না আর সেগুলো শান্তি পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল কি না, তা পরিষ্কার হয়নি।
ওই বৈঠকের বিষয়ে জ্ঞাত দুই ব্যক্তি জানিয়েছেন, ইউক্রেইনের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব রুস্তম উমেরোভ ওই পরিকল্পনা নিয়ে উইটকফের আলোচনা করতে গত সপ্তাহের মাঝামাঝি মায়ামি এসেছিলেন।
পরিস্থিতি সম্পর্কে জ্ঞাত একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই সফরের সময় উমেরোভকে ওই পরিকল্পনার বিষয়ে জানান উইটকফ। যুক্তরাষ্ট্র বুধবার তুরস্কের সরকারের মাধ্যমে ওই পরিকল্পনাটি ইউক্রেইনের কাছে পাঠায় এবং বৃহস্পতিবার সরাসরি কিইভের কাছে উপস্থাপন করে।
রযটার্স জানিয়েছে, উমেরোভ তার ভূমিকাকে ‘প্রায়োগিক’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং ওই পরিকল্পনার সার নিয়ে মার্কিন কর্মকতাদের সঙ্গে আলোচনার করার কথা অস্বীকার করেছেন।
দিমিত্রিভ এবং ওয়াশিংটনের ইউক্রেইনীয় দূতাবাস এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য জানানো রয়টার্সের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যে কোনো শান্তি পরিকল্পনায় ‘ইউক্রেইন, ইউরোপ ও রাশিয়ার জন্য অবশ্যই নিরাপত্তা ও যুদ্ধ প্রতিরোধের নিশ্চয়তা’ এবং রাশিয়া ও ইউক্রেইন, উভয়ের জন্য অর্থনৈতিক প্রণোদনা প্রস্তাব থাকতে হবে।
লেভিট বলেছেন, “এই পরিকল্নাটি পরিস্থিতির বাস্তবতা প্রতিফলিত করার জন্য এবং সর্বোত্তম উইন-উইন অবস্থা খুঁজে বের করতে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে উভয়পক্ষকে অবশ্যই যা দিতে হবে তারা তার চেয়ে বেশি পাবে।“
ট্রাম্প শুক্রবার বলেছেন, তিনি আশা করছেন জেলেনস্কি আসছে থ্যাংকসগিভিং ছুটির দিনটিতে এই পরিকল্পনায় স্বাক্ষর করবেন।
রয়টার্স জানিয়েছে, যদি এই পরিকল্পনায় ইউক্রেইন স্বাক্ষর না করে তবে সামরিক সহায়তা হ্রাস করা হতে পারে বলে কিইভকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
আরও পড়ুন:
শান্তি চুক্তিতে রাজি না হলে ইউক্রেইনে সহায়তা কমানোর হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের