গাজা শান্তি আলোচনায় অগ্রগতি, তবে চুক্তি এখনও হয়নি
গাজায় ১৫ মাস ধরে চলা যুদ্ধ থামাতে কাতার, যুক্তরাষ্ট্র এবং মিশর একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছার চেষ্টা করছে।
গাজায় ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ও আরব মধ্যস্থতাকারীরা কিছুটা অগ্রগতি অর্জন করেছেন। তবে তা একটি চুক্তিতে উপনীত হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। আলোচনা সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা একথা জানিয়েছেন।
কাতারে আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই গাজাজুড়ে ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর হামলায় বৃহস্পতিবার ১৭ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের চিকিৎসাকর্মীরা।
এই মৃত্যু নিয়ে গাজায় গত ২৪ ঘন্টায় ইসরায়েলের হামলায় মোট ৭০ ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে- বলছে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
গাজায় ১৫ মাস ধরে চলা এই প্রাণহানি আর ধ্বংসযজ্ঞ থামাতে এবং হামাসের হাতে বন্দি বাদবাকী জিম্মিদের মুক্ত করতে কাতার, যুক্তরাষ্ট্র এবং মিশর একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছার চেষ্টা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বিদায় নেওয়ার আগেই মধ্যস্থতাকারীরা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছার এই চেষ্টা চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এরই মধ্যে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ২০ জানুয়ারিতে তিনি শপথ নেওয়ার মধ্যে জিম্মিরা মুক্তি না পেলে পরিণতি হবে গুরুতর।
বৃহস্পতিবার মধ্যস্থতাকারীদের আলোচনা সংশ্লিষ্ট এক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা বলেন, “বিস্তারিত আলোচনা চলছে। প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে মধ্যস্থতাকারী ও আলোচকরা কথা বলছেন। বিদ্যমান পুরোনো ব্যবধান কমিয়ে আনার ব্যাপারে বলতে গেলে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে কোনও চুক্তি এখনও হয়নি।”
গত মঙ্গলবার ইসরায়েল বলেছে, তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছতে পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে এক্ষেত্রে তারা হামাসের কাছ থেকে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে।
দুটো মূল বিষয় নিয়ে সমঝোতা না হওয়ার কারণে হামাস এবং ইসরায়েলের মধ্যে শান্তি আলোচনায় এক বছর ধরে অচলাবস্থা বিরাজ করছে।
হামাস বলছে, ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধ করে গাজা থেকে সব সেনা সরিয়ে নিলেই কেবল তারা বাকী সব জিম্মিকে মুক্তি দেবে। ওদিকে, ইসরায়েল বলছে, হামাস নির্মল না হওয়া এবং সব জিম্মি মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা যুদ্ধ বন্ধ করবে না।
