Published : 15 Jul 2025, 09:13 PM
লন্ডনের বাঙালি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল পরিচালনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি ও ‘বিষাক্ত’ সংস্কৃতি থেকে উত্তরণে কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিজস্ব প্রতিনিধি বসানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জিম ম্যাকমাহন।
তিনি বলেছেন, কাউন্সিলের কর্মকাণ্ড তদারকির জন্য একদল কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার পর যে উদ্যোগগুলো নেওয়া হয়েছে, সেটিকে তিনি স্বাগত জানাচ্ছেন। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তিনি আরও হস্তক্ষেপ করতে চান এবং কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি কমিশনারদের ক্ষমতা দিয়ে সেখানে পাঠাতে চান।
জিম ম্যাকমাহনের এ বক্তব্যের পর কাউন্সিলের একজন মুখপাত্র বলছেন, টাওয়ার হ্যামলেটসের উন্নতি নিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর মন্তব্যকে তিনি স্বাগত জানাচ্ছেন। বলছেন, তাদের আরও কাজ করার আছে।
বিবিসি লিখেছে, টাওয়ার হ্যামলেটস নিয়ে ২০২৪ সালে একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। সেখানে বলা হয়, রাজনৈতিক দল ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মধ্যে আস্থা ও শ্রদ্ধার সংকটের কারণে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহীরা জবাবদিহির বাইরে থেকে যাচ্ছেন। আর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মেয়র লুৎফুর রহমানকে ঘিরে একটি অভ্যন্তরীণ বলয় তৈরি হয়েছে, যিনি অ্যাসপায়ার পার্টির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
টাওয়ার হ্যামলেটসে ভোট জালিয়াতির দায়ে ২০১৫ সালে নাটকীয় ক্ষমতাচ্যুতি হয়েছিল লুৎফুর রহমানের।
২০১০ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এ বারা কাউন্সিলে প্রথমবার মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন লুৎফুর। এরপর ২০১৪ সালে টাওয়ার হ্যামলেটসে দ্বিতীয়বারের মত মেয়র হন তিনি। তবে ওই ভোটে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং তাকে মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়। এ কারণে পাঁচ বছর তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি।
ওই কেলেঙ্কারির পর কমিউনিটির তৎকালীন সেক্রেটারি এরিক পিকলস কাউন্সিলের প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন এবং কমিশনারদের নিয়োগ করেছিলেন।
পিকলস সে সময় বলেছিলেন, লুৎফুর ‘মধ্যযুগীয় রাজার’ মত জনগণকে অর্থ দিয়েছেন এবং এমনভাবে প্রশাসন পরিচালনা করেছেন যা ‘সবচেয়ে অকার্যকর এবং সবচেয়ে খারাপভাবে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতিতে জর্জরিত'।
নিষেধাজ্ঞা উঠলে ২০২২ সালে মেয়র পুনর্নির্বাচিত হন লুৎফুর রহমান।
এরপর ২০২৪ সালের নভেম্বরের প্রতিবেদনে টাওয়ার হ্যামলেটস পরিচালনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি ও ‘বিষাক্ত’ সংস্কৃতির অভিযোগের পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে সেখানে একদল কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়ে আনুষ্ঠানিক হস্তক্ষেপ করে যুক্তরাজ্য সরকার।
‘লোকাল ডেমোক্রেসি রিপোর্টিং সার্ভিস’ বলছে, ওই কর্মকর্তারা টাওয়ার হ্যামলেটসের কিছু কর্মীর প্রশংসা করছেন। তবে তারা বলছেন, কাউন্সিলরদের ‘নিম্নমানের আচরণ’ উন্নতির পথে বাঁধা সৃষ্টি করছে।
কর্মকর্তারা আরও বলছেন, বিভিন্ন জনসভায় কাউন্সিলরদের আচরণ বিদ্যমান রাজনৈতিক চর্চার মত নয়। যদিও সবপক্ষ বলছে তারা পথ পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন, কিন্তু জনসভার মত ক্ষেত্রগুলোতে এটি প্রমাণ হয়নি।
তদারকি কর্মকর্তারা মে মাসে একটি প্রতিবেদন দিয়েছিলেন, যেটি গত সপ্তাহে সরকার প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়, লুৎফুর রহমানের ‘স্পষ্ট রাজনৈতিক মেন্ডেট’ রয়েছে।
তবে এও বলা হয়, কাউন্সিলরদের দল পাল্টানোর মত রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো কাউন্সিলে ‘নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে’।
কর্মকর্তারা কাউন্সিল কর্মীদের প্রশংসা করে বলছেন, তারা কাজের প্রতি মনোযোগী ও বারার জন্য কাজ করতে গর্ববোধ করেন। আবার কাউন্সিলের আর্থিক ব্যাপারে গুরুতর কোনো উদ্বেগও নেই।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ম্যাকমাহন বলেন, এই উন্নতিগুলোকে তিনি স্বাগত জানাচ্ছেন। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, কর্মীদের প্রতিশ্রুতি এবং কাউন্সিলের উন্নয়ন যাত্রা নিয়ে এখনও উদ্বিগ্ন তিনি।
টাওয়ার হ্যামলেটসের একজন মুখপাত্র বলেন, কাউন্সিলের উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে তারা কাজ করছেন।
আরও পড়ুন-
টাওয়ার হ্যামলেটসে ‘বিষাক্ত’ সংস্কৃতি: মেয়র লুৎফুরের কাউন্সিলে সরকারের হস্তক্ষেপ
টাওয়ার হ্যামলেটসে ‘বিষাক্ত’ সংস্কৃতি: মেয়র লুৎফুরের কাউন্সিলে বসছে সরকারের প্রতিনিধি