Published : 05 Feb 2023, 08:21 AM
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার ওপর দিয়ে উড়ে চলা বিরাট আকারের চীনা বেলুনটি ক্ষেপণাস্ত্র মেরে ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।
মার্কিন টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, শনিবার একটি এফ-২২ জেট ফাইটার থেকে এআইএম- নাইনএক্স সাইডওয়াইন্ডার ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হলে ছোট্ট বিস্ফোরণের পর বেলুনটি সাউথ ক্যারোলাইনার কাছে আটলান্টিক মহাসাগরে মার্কিন জলসীমায় নেমে আসে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, চীনা ওই বেলুনটি বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনার ওপর নজরদারি করছিল। বেলুনটির মালিকানা স্বীকার করে চীন বলেছিল, সেটি একটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ বেলুন।
বেলুনটি ধ্বংস করার পর এর প্রতিবাদ জানিয়ে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, একটি বেসামরিক চালকহীন এয়ারক্রাফটের বিরুদ্ধে এভাবে মার্কিন সামরিক শক্তি প্রয়োগের কঠোর নিন্দা জানাচ্ছে তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, শনিবার পূর্বাঞ্চলীয় সময় দুপুর ২টা ৩৯ মিনিটের দিকে মার্কিন উপকূল থেকে ৬ নটিকাল মাইল দূরে বিমানটি পানিতে পড়ে।
এর ধ্বংসাবশেষ ১১ কিলামিটার জায়গাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। উদ্ধারকাছে ব্যবহৃত ভারী ক্রেন আছে এমন একটি জাহাজসহ নৌবাহিনীর দুটি জাহাজে সামরিক বাহিনী এখন ওই ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছে, জানিয়েছে বিবিসি।
ঊর্ধ্বতন এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা পেন্টাগনের বিবৃতিতে বলেছেন, চীনের নজরদারি বেলুনের হাত থেকে সংবেদনশীল তথ্যের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিয়েছি আমরা; কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে ওড়া ওই বেলুনের গোয়েন্দা মূল্যও কম নয়।
“আমরা বেলুন ও এর সরঞ্জামাদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছি, যা খুবই মূল্যবান,” বলেছেন তিনি।
পুরনো খবর
যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে চীনা নজরদারি বেলুন: পেন্টাগন
যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে বেলুনটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ যন্ত্র: চীন
আকাশে বেলুন: ব্লিনকেনের চীন সফর বন্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র
স্যাটেলাইট যুগে কেন গোয়েন্দা বেলুন?
মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বেলুনটি অনুসরণ করা হচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার প্রথম ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই সেটিকে গুলি করে নামানোর জন্য প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ওপর চাপ ছিল।
শেষ পর্যন্ত তা হওয়ার পর বাইডেন স্বস্তি প্রকাশ করে বলেছেন, “তারা সফলতার সঙ্গে বেলুনটি নামিয়েছে। আমি আমাদের বৈমানিকদের ধন্যবাদ দিতে চাই, যারা এটি করেছেন।”
কয়েক ঘণ্টা পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, “এয়ারশিপটি বেসামরিক কাজে ব্যবহার হচ্ছিল এবং অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে সেটি যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে পড়েছে জানার পর চীন বারবারই বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত করেছে। এটা ছিল পুরোপুরি দুর্ঘটনা।”
এই বেলুনকে ঘিরে বেইজিং-ওয়াশিংটন কূটনৈতিক টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পায়, চীনের ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজের’ সমালোচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন তার বেইজিং সফর স্থগিত ঘোষণা করেন।
চীন শুরু থেকেই বেলুনটিকে নজরদারির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে না বলে দাবি করে এসেছে, তাদের ভাষ্য এটি একটি আবহাওয়াজনিত তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত এয়ারক্রাফট, যা পথভ্রষ্ট হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকেছে।
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “আন্তর্জাতিক আইন এবং অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব ও আকাশ সীমা লংঘন করে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি সরকারের কর্মকাণ্ড সভ্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহ্য করা উচিত নয়।”
স্বশাসিত তাইওয়ানকে চীন নিজের বিচ্ছিন্ন প্রদেশ মনে করে; দ্বীপটিকে বেইজিংয়ের শাসনের অধীনে আনতে প্রয়োজনে বলপ্রয়োগের সম্ভাবনাও খারিজ করেননি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
তবে তাইওয়ান নিজেকে স্বাধীন বলে মনে করে; তাদের নিজস্ব সংবিধান ও গণতান্ত্রিক শাসনপদ্ধতি আছে।
প্রেসিডেন্ট বাইডেন বুধবারই চীনা বেলুনটিকে গুলি করে নামানোর পরিকল্পনায় সায় দিয়েছিলেন; কিন্তু পেন্টাগন জানিয়েছে, মাটিতে পড়লে এটি জনসাধারণের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে এই ভয়ে তারা বেলুনটি পানির ওপর যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

শনিবার বেলুনটি ভূপাতিত করার আগে সাউথ ক্যারোলাইনার আশপাশের তিনটি বিমানবন্দরে বেসামরিক বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়; নাবিকদের ওই এলাকা থেকে দূরে থাকতে পরামর্শ দেয় কোস্ট গার্ডও।
হেইলি ওয়ালশ নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসিকে জানান, তিনটি জঙ্গিবিমান ওই বেলুনের চারপাশে ঘোরার পর সেটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়।
“আমরা বেশ বড়সড় শব্দ শুনি, ঘর কেঁপে উঠেছিল,” বলেছেন তিনি।
ঊর্ধ্বতন এক সামরিক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, বেলুনটির ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার ‘সহজ হওয়া উচিত’ এবং এতে ‘তুলনামূলক কম সময়’ লাগতে পারে।
“উদ্ধার অভিযানে সহায়তায় সক্ষম নৌবাহিনীর ডুবুরিদেরও মোতায়েন করা হতে পারে,” বলেছেন তিনি।
শনিবার মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা আরও জানান, চীনের ওই বেলুনটি প্রথম ২৮ জানুয়ারি আলুশন দ্বীপপুঞ্জের কাছ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমায় ঢোকে এরপর এটি কানাডার আকাশে চলে যায়। ৩১ জানুয়ারি সেটি ফের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে।
বেলুনটি শনাক্ত হয় মন্টানা রাজ্যের ওপর, যেখানে বেশ কয়েকটি সংবেদনশীল পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র রয়েছে।
শুক্রবার পেন্টাগন জানায়, লাতিন আমেরিকায় চীনের আরেকটি নজরদারি বেলুন শনাক্ত করেছে তারা। ওই বেলুনটি কোস্টারিকা ও ভেনেজুয়ার ওপর দেখা গেছে।
কলম্বিয়ার বিমান বাহিনী জানিয়েছে, তারা শুক্রবার ৫৫ হাজার ফুট উপরে তাদের আকাশসীমায় একটি বস্তু শনাক্ত করেছে, যেটিকে বেলুন বলেই মনে হচ্ছে।
বেলুনটি আকাশসীমা ত্যাগ করার আগ পর্যন্ত সেটিকে অনুসরণ করা হয়েছে, তবে এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে বিবেচিত হয়নি, বলেছে তারা।
দ্বিতীয় এই বেলুনটি নিয়ে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কিছু বলেনি চীন।