Published : 27 Jun 2026, 11:35 PM
হিজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসিম যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে হওয়া নিরাপত্তা চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
স্বাক্ষরিত হওয়ার পরদিন শনিবার চুক্তিটিকে ‘ইসরায়েলের কাছে আত্মসমর্পণ’ বলে বর্ণনা করেন তিনি।
রয়টার্স জানায়, বারবার যুদ্ধবিরতি ও চুক্তি সত্ত্বেও শত্রুতা অব্যাহত থাকার সর্বশেষ উদাহরণ দেখিয়ে এদিন লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
বৃহত্তর ইরান যুদ্ধের সমান্তরালে লেবাননের প্রতিরোধ শক্তি হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের যে সংঘাত চলছে তাতে ১০ লাখের বেশি লেবাননি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। হিজবুল্লাহ ও ইরান বলছে, বৃহত্তর যুদ্ধ অবসানে দুই সপ্তাহ আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে সমঝোতা চুক্তি হয়েছে তার অংশ হিসেবে লেবাননে শত্রুতা শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ওয়াশিংটন।
আর শুক্রবার ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যে রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছে তাতে দক্ষিণ লেবাননের কিছু অংশ থেকে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তেল আবিব। পাশাপাশি সেখানে লেবাননি সেনা মোতায়েন করা হবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু পরবর্তী পর্যায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনীকে দক্ষিণ লেবাননের একটি বিস্তৃত অঞ্চলে নিরাপত্তা জোন বজায় রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এক বিবৃতিতে কাসিম এই চুক্তিকে ‘বাতিল ও অকার্যকর’ বলে বর্ণনা করেছেন। একতরফা ছাড় দেওয়া ও লেবাননের সর্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করার জন্য তিনি দেশটির সরকারকে অভিযুক্ত করেছেন।
হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহার যুক্ত করা বিধানগুলোর সমালোচনা করে কাসিম বলেছেন, এগুলো কার্যত ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতিকে বৈধতা দেয় আর ‘সব রেড লাইন অতিক্রম করে’।
তিনি জানান, তার দল হিজবুল্লাহ সশস্ত্র প্রতিরোধ অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেছেন, “সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতেও আমরা যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে যাইনি আর যাবোও না।”
লেবাননের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, শনিবার একটি ইসরায়েলি ড্রোন দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ অঞ্চলের আল-ফাওকা এলাকায় আঘাত হেনেছে। এই এলাকাটি ইসরায়েলের প্রকাশিত নিরাপত্তা জোন, যেটি তাদের সেনারা নিয়ন্ত্রণ করছে তার বাইরে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী রয়টাসর্কে জানিয়েছে, তারা একটি ড্রোন ব্যবহার করে আঘাতটি হেনেছে কারণ ওই এলাকায় তাদের কোনো সেনা নেই। তারা জানায়, আল-ফাওকা এলাকায় এক ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে কারণ সে তাদের বাহিনীর জন্য হুমকি হয়ে উঠেছিল। এর বাইরে বিস্তারিত আর কিছু বা কোনো প্রমাণ দেয়নি তারা।
কাসিম বলেছেন, শুক্রবারের ওয়াশিংটন চুক্তি নয় বরং এর আগে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে লেবাননের সংঘাতের অবসান হওয়া উচিত।
দুই সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত ওই সমঝোতা স্মারকে লেবাননের আঞ্চলিক অখণ্ডতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল।