Published : 02 Jan 2026, 03:55 PM
জাপানের পার্লামেন্টে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ছে। সে তুলনায় সেখানে নারীদের জন্য শৌচালয়ের সংখ্যা কম। সেকারণে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি-সহ অন্তত ৬০ নারী আইনপ্রণেতা পার্লামেন্ট ভবনে নারীদের জন্য শৌচালয় বাড়ানোর আবেদন করেছেন।
বিবিসি-র খবরে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে জাপানের পার্লামেন্টের ৪৬৫ আসনের নিম্নকক্ষে রেকর্ড ৭৩ জন নারী নির্বাচিত হয়েছিলেন, যা ২০০৯ সালে নির্বাচিত ৫৪ জন নারী সদসস্যের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতা ইয়াসুকো কোমিয়ামা জানান, অধিবেশন শুরুর আগে নারীদের শৌচালয়ের সামনে দীর্ঘ লাইন লেগে যায়।
আরেক পার্লামেন্ট সদস্যের কথা উদ্ধৃত করে কোমিয়ামা বলেন, ওই নারী একদিন বলেছিলেন যে, অধিবেশন শুরুর আগে তিনি শৌচালয়ে যাওয়া ‘ছেড়ে দিয়েছেন’।
পার্লামেন্টের মূল কক্ষের কাছে আংশিকভাবে ঘেরা দুটি ছোট কক্ষের সঙ্গে নারীদের জন্য মাত্র একটি শৌচালয় রয়েছে। আর গোটা পার্লামেন্ট ভবনে ২২টি ছোট কক্ষের সঙ্গে ৯টি নারী শৌচালয় আছে।
অন্যদিকে, গোটা ভবনে পুরুষদের জন্য ১২টি শৌচালয়ের পাশাপাশি ৬৭টি কক্ষ ও প্রশ্রাবখানা আছে।
বিরোধীদল ‘কন্সটিটিউশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি’-এর সদস্য কোমিয়ামা বলেন, বর্তমানে শৌচালয়ের যে অবস্থা তাতে প্রায়ই অসুবিধায় পড়তে হয়। পার্লামেন্টের নারী কর্মী ও অতিথিরাও একই শৌচালয় ব্যবহার করেন।
তিনি ফেইসবুকে এক পোস্টে লেখেন, “ভবিষ্যতে যখন পার্লামেন্টে ৩০ শতাংশের বেশি নারী সদস্য থাকবেন, সেই দিনের জন্য এখনই আমি সরব হতে চাই, প্রস্তুতি নিতে চাই।”
বিবিসি লিখেছে, জাপানের বর্তমান পার্লামেন্ট ভবনটি ১৯৩৬ সালে নির্মিত হয়েছিল, যখন নারীদের ভোটাধিকার ছিল না। জাপানে নারীরা ১৯৪৫ সালে ভোটাধিকার পাওয়ার এক বছর পর ১৯৪৬ সালে প্রথমবারের মতো কোনও নারী সদস্য নির্বাচিত হন।
বর্তমানে জাপানের নিম্নকক্ষে ১৬ শতাংশ এবং উচ্চকক্ষে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (১২৫ আসনের মধ্যে ৪২ টি) আসন নারীদের দখলে।
প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি গত বছর অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়ার পর মন্ত্রিসভায় নারী প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। নারী প্রতিনিধিত্ব নর্ডিক দেশগুলোর সঙ্গে তুলনীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।
নারী নেতৃত্বের দিক থেকে নর্ডিক দেশগুলো শীর্ষস্থান দখল করে আছে। যদিও ১৯ সদস্যের মন্ত্রিসভায় তাকাইচি মাত্র দুজন নারীকে নিয়োগ দিয়েছেন।
জাপানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী বিরোধীদলীয় নেত্রী কোমিয়ামা বলেছেন, “প্রশাসন যদি সত্যিই নারী ক্ষমতায়নে আন্তরিক হয়, তবে আমি বিশ্বাস করি তাদের বোঝাপড়া ও সহযোগিতার ওপর আমরা ভরসা করতে পারি।”
জাপানি সংবাদমাধ্যম আসাহি শিমবুন জানিয়েছে, পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ কমিটির সভাপতি ইয়াসুকাজু হামাদা নারীদের শৌচালয় বাড়ানোর প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
জাপানে নারী শৌচাগারের সংকট কেবল পার্লামেন্ট ভবনেই সীমাবদ্ধ নয়; দেশজুড়ে গণশৌচালয়গুলোতে নারীদের দীর্ঘ লাইন একটি সাধারণ দৃশ্য। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবাও জাপানে নারীদের জীবনযাত্রা আরও নিশ্চিন্ত ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে শৌচালয় সুবিধা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।