Published : 27 Jun 2026, 03:16 PM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি জায়ান্টদের ওপর ‘ডিজিটাল পরিষেবা কর’ বসালে যেকোনো ইউরোপীয় দেশের পণ্যে ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
নিজের সোশাল মিডিয়া ‘ট্রুথ সোশাল’-এ দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, বেশ কিছু ইউরোপীয় দেশ এই ধরনের কর চালুর বিষয়ে আলোচনা করছে এবং কোনো কোনো দেশ এটি কার্যকরের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
এ পদক্ষেপ নেওয়া হলে অবিলম্বে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, সেক্ষেত্রে বিদ্যমান সব দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে যাবে।
বিবিসি লিখেছে, ট্রাম্প তার পোস্টের মাধ্যমে মোটাদাগে সেই সব দেশকে নিশানা করছেন, যারা ‘খুব শিগগিরই’ ডিজিটাল পরিষেবা কর কার্যকরের পরিকল্পনা করছে। তবে যুক্তরাজ্যের জন্য প্রভাব ঠিক কী হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়, কারণ লন্ডনে ২০২০ সাল থেকেই এ ধরনের কর কার্যকর রয়েছে।
ট্রাম্প লিখেছেন, “দয়া করে এই কথাটি মনে রাখুন—যে দেশই এ ধরনের কর আরোপ করবে, যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো তাদের যেকোনো পণ্যে অবিলম্বে ১০০% শুল্ক আরোপ করা হবে।”
যুক্তরাজ্যে বড় সার্চ ইঞ্জিন, সোশাল মিডিয়া প্লাটফর্ম এবং অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোর ওপর ২ শতাংশ ডিজিটাল পরিষেবা কর রয়েছে। এই কর সেই সব কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যাদের বৈশ্বিক ডিজিটাল আয় ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ড এবং যুক্তরাজ্যে আয় ২৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি।
বিবিসি লিখেছে, এ করের কারণে অ্যাপল, গুগল, মেটা ও আমাজনের মতো বড় মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।
ব্রিটিশ ট্রেজারির তথ্য অনুযায়ী, এই খাত থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৮০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৬৭৮ মিলিয়ন পাউন্ড।
এর আগে গত এপ্রিলে ট্রাম্প বলেছিলেন, বড় মার্কিন কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্য করে কর আরোপ করায় যুক্তরাজ্যকে ‘বড় ধরনের শুল্কের’ মুখোমুখি হতে হবে।
সেই সময় ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো সহজে মুনাফা লোটার চেষ্টা করছে এবং এ কারণেই তারা যুক্তরাষ্ট্রকে নিশানা করছে।
বিবিসি লিখেছে, ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক আরোপের হুমকি এমন এক সময়ে এল, যার মাত্র কয়েক দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে।
সাইপ্রাসের জ্বালানি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী মাইকেল দামিয়ানোস তখন বলেছিলেন, চুক্তি অমান্য হলে বা ইইউ-এর স্বার্থ ক্ষুণ্ন হলে তারা দ্রুত ও সমপরিমাণ পাল্টা ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।
ট্যাক্স পলিসি নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংস্থা ‘ট্যাক্স ফাউন্ডেশন’-এর তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেনও তাদের দেশে ব্যবসা করা বড় কোম্পানিগুলোর ওপর ৩ শতাংশ ডিজিটাল পরিষেবা কর আরোপ করে রেখেছে। এছাড়া ইইউভুক্ত দেশ আরো কয়েকটি দেশ এ ধরনের কর কার্যকর করেছে বা করার প্রস্তাব দিয়েছে।
এদিকে মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর এমন করের ওজুহাত দেখিয়ে চলতি বছরের শুরুর দিকে আমাজন গ্রাহক ফি বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয়বার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ডনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের ওপর বড় ধরনের শুল্ক আরোপের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ট্রাম্পের উদ্যোগ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে খারিজ করেছিল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট।