Published : 26 Mar 2026, 12:04 PM
ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এক দেশের সহায়তায় ‘ইরানের শত্রুরা’ একটি ইরানি দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা করছে বলে তাদের গোয়েন্দারা খবর পেয়েছে।
এ ধরনের কোনো চেষ্টা হলে দ্বীপ দখলের চেষ্টায় সহযোগী ওই আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশের ‘গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো’ লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট হামলা হবে বলেও বুধবার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ।
আঞ্চলিক ওই প্রতিবেশী দেশটির নাম বলেননি তিনি।
“ইরানি সেনারা প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর নজর রাখছে। তারা যদি কোনো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে আমরা অঞ্চলভুক্ত ওই দেশটির জরুরি অবকাঠামোতে টানা ও নিরলস হামলা চালাবো,” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দুটি পোস্টে কালিবাফ এসব বলেছেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকারের এ হুঁশিয়ারি এমন সময় এল যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধে ইরানিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলছে বলে বারবার দাবি করে যাচ্ছেন। তেহরান বলছে, তাদের সঙ্গে মার্কিনিদের কোনো ধরনের কথাবার্তা হয়নি, হচ্ছেও না।
এসবের মধ্যেই হোয়াইট হাউস ইরানি নেতাদের উদ্দেশ্যে নতুন করে হুমকিও ছুড়ে দিয়েছে।
বুধবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেছেন, ইরানকে অবশ্যই পরাজয় মেনে নিতে হবে।
“ইরান যদি এখনকার বাস্তবতা মেনে নিতে ব্যর্থ হয়, তারা যদি এটা বুঝতে ব্যর্থ হয় যে তারা সামরিকভাবে পরাজিত হয়েছে এবং আরও হতেই থাকবে, তাদের ওপর আঘাত যেন আগের চেয়েও অনেক বেশি হয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তা নিশ্চিত করবেন।
“প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভাওতা দেন না, তিনি নারকীয় পরিস্থিতি সৃষ্টিতে প্রস্তুত,” বলেছেন লেভিট।
আল জাজিরা লিখেছে, ওয়াশিংটন একদিকে শান্তি আলোচনা চলার দাবি করছে, অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে আরও বেশি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ারও হুমকি দিচ্ছে। তার মধ্যেই পেন্টাগন উপসাগরীয় অঞ্চলে কয়েক হাজার ছত্রীসেনা পাঠাচ্ছে। মার্কিন মেরিন সেনাদের দুটি বহরও পথে রয়েছে।
মার্কিন গণমাধ্যমগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের আনুমানিক দুই হাজার সেনাকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আর বিশাল উভচর জাহাজে করে যাওয়া দুটি মেরিক এক্সপেডিশনারি ইউনিটের প্রথমটি আর কয়েকদিনের মধ্যে ওই অঞ্চলে গিয়ে পৌঁছাবে।
‘খার্ক দ্বীপের ওপর নজর যুক্তরাষ্ট্রের’
তেহরান থেকে আল জাজিরার এক প্রতিবেদক জানিয়েছেন, অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও যুদ্ধজাহাজের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়ে ইরানের লোকজন অবগত এবং ‘এরপর কী হতে যাচ্ছে তারা জানে’।
“আপাতত তারা বুঝতে পারছে যে যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার চেয়ে যুদ্ধ চলবে—এমন নিশ্চয়তাই বেশি। এবং তারা বলছে, তারা সামনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
“যুক্তরাষ্ট্রের যে খার্ক দ্বীপের দিকে নজর রয়েছে তা তারা জানে,” বলেছেন আল জাজিরার প্রতিবেদক মোহামেদ ভাল।
খার্ক দখলের চেষ্টায় সহায়তাকারী আখ্যা দিয়ে কালিবাফ যে দেশকে হুঁশিয়ার করেছেন, সেটি সংযু্ক্ত আরব আমিরাত বলেও ইরানিদের অনেকে মনে করছেন, ভাষ্য ভালের।
“গত কয়েকদিন ধরেই ইরানিরা বলছে, তারা জানতো এমনটাই ঘটবে। এবং এমন কিছু হলে তা যে ওই দেশ, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং মার্কিন বাহিনীর জন্য খুবই ধ্বংসাত্মক কিছু হবে সে ব্যাপারেও তারা নিশ্চিত।
“খার্ক খুবই ছোট, উন্মুক্ত দ্বীপ যা ইরানের মূল ভূখণ্ডের খুব কাছে অবস্থিত। ইরানিরা হুমকি দিচ্ছে যে, যদি মার্কিন বাহিনী সেখানে নামে, যার জন্য ইরানিরা অপেক্ষা করছে, তাহলে তা মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তায় মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে,” বলেছেন এ প্রতিবেদক।
সম্ভাব্য মার্কিন অভিযান মোকাবেলায় ইরান এরই মধ্যে খার্ক দ্বীপে অতিরিক্ত সেনা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা পাঠিয়েছে ও জোরদার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সিএনএন।
ইরানি আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমকে পরে অনামা এক সামরিক সূত্র বলেছে, ‘ইরানি দ্বীপ বা আমাদের ভূখণ্ডের অন্য কোথাও’ যদি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয় তাহলে ইরান লোহিত সাগরের মুখে নতুন রণাঙ্গন খুলে দিতে পারে।
ইয়েমেন ও দিজিবুতির মধ্যে অবস্থিত বাব আল-মানদেব প্রণালিতে ইরান ‘বিশ্বাসযোগ্য হুমকি’ সৃষ্টির সক্ষমতা রাখে, বলেছে সূত্রটি।
‘শত্রদের আরও শাস্তি দিতে বাব আল-মানদেব নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন পড়লে’ ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত, বিষয় সম্বন্ধে অবগত এক সূত্রের বরাত দিয়ে পরে জানিয়েছে তাসনিম।