Published : 23 Feb 2026, 07:24 PM
ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইতোমধ্যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করেছেন। তাকে থামানোর একমাত্র উপায় হল সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা।
রাজধানী কিইভের সরকারি দপ্তরে বিবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি পুতিন ইতোমধ্যেই এটি শুরু করেছেন। প্রশ্ন হল, তিনি কতটা ভূখণ্ড দখল করতে পারবেন এবং তাকে কীভাবে থামানো যায়। রাশিয়া বিশ্বে ভিন্ন এক জীবনধারা চাপিয়ে দিতে চায় এবং জনগণের পছন্দ করা জীবনধারা বদলে দিতে চায়।”
রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্কের প্রায় ২০ শতাংশ অঞ্চল (যেখানকার শহরগুলোকে ইউক্রেইন ‘দুর্গ শহর’ বলে) এবং দক্ষিণের খেরসন ও জাপোরিঝিয়ার আরও কিছু এলাকা ইউক্রেইনকে ছেড়ে দিতে হবে।
এ বিষয়ে জেলেনস্কি বলেন, “আমি বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখি। আমি এটিকে শুধু ভূমি হিসেবে দেখি না। আমি দেখি এটি আমাদের অবস্থানকে দুর্বল করা এবং সেখানে বসবাস করা লাখো মানুষকে পরিত্যাগ করা হিসাবে। আমি নিশ্চিত যে, এই প্রত্যাহার আমাদের সমাজকে বিভক্ত করবে।”
কিন্তু পুতিন সন্তুষ্ট হলে কি এটি একটি ভাল মূল্য পরিশোধ করা উচিত নয়? এই ভূমি ছাড়ে কি তিনি সন্তুষ্ট হবেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে জেলেনস্কি বলেন, “এ পদক্ষেপ হয়ত তাকে কিছু সময়ের জন্য সন্তুষ্ট করবে...
“তার একটু বিরতি নেওয়া দরকার। কিন্তু একবার তিনি শক্তি সঞ্চয় করলে, আমাদের ইউরোপীয় অংশীদাররা বলেন- এটি করতে পুতিনের তিন থেকে পাঁচ বছর লাগবে। আমার মতে, তিনি (পুতিন) কয়েক বছরের মধ্যেই শক্তি সঞ্চয় করবেন। তারপর তিনি কোথায় নজর দেবেন আমরা জানি না। কিন্তু তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাইবেন, এটাই বাস্তব।”
যুদ্ধের ফল নিয়ে জেলেনস্কি বলেন, “আমরা হারব না। আমরা ইউক্রেইনের স্বাধীনতার জন্য লড়ছি।” জেলেনস্কি প্রায়ই বলে এসেছেন ইউক্রেইন জিততে পারে। কিন্তু সেই জয় কেমন হবে?
তিনি বলেন, “অবশ্যই জয় মানে ইউক্রেইনীয়দের জন্য স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে আনা, হত্যা বন্ধ হওয়া। তবে জয়ের বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ হল সর্বোপরি সেই হুমকি যেটি পুতিনের কাছ থেকে আসে।
“আমি বিশ্বাস করি আজকের দিনে পুতিনকে থামানো এবং তাকে ইউক্রেইন দখল করতে না দেওয়াটাই বিশ্বের জন্য জয়। কারণ, পুতিন কেবল ইউক্রেইনেই থেমে থাকবেন না।”