Published : 23 Jul 2026, 05:15 PM
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় বালাপাড়া ইউনিয়নের গোপিডাঙ্গা মৌলভীবাজার এলাকার একটি সেতু প্রায় প্রায় ১২ বছর ধরে সংযোগ সড়ক ছাড়া পড়ে আছে।
২০১৪ সালে প্রায় ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি এখন স্থানীয়দের কাছে আশীর্বাদের বদলে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেতুর দুই পাশের মাটি ধসে যাওয়ায় অস্থায়ীভাবে বাঁশের সাঁকো বসিয়ে চলাচল করা হচ্ছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ পথ ব্যবহার করছেন আশপাশের অন্তত দশ গ্রামের মানুষ।
তবে এলজিইডির কাউনিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলাম বলেছেন, “সেতুটি পুনর্নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া গেছে।”
এলাকাবাসীর দাবি, বিলম্ব না করে দ্রুত নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা হোক। তাদের ভাষ্য, একটি নিরাপদ সেতু নির্মিত হলে শুধু যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতিই হবে না, হাজারো মানুষের জীবনঝুঁকিও কমে আসবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক না থাকায় বাঁশের সাঁকো দিয়েই মানুষকে সেতুতে উঠতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী সংস্কার না হওয়ায় সেতুর একাংশ হেলে পড়েছে। দুই পাশের সংযোগস্থলও ভেঙে যাওয়ায় সেখানে অস্থায়ী কাঠের পাটাতন বসিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ফলে শিক্ষার্থী, কৃষক, অটোরিকশা, ভ্যান ও ঘোড়ার গাড়ির চালকদের প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে।
গোপিডাঙ্গা গ্রামের ভ্যান চালক বলেন, “নির্বাচনের সময় সবাই আশ্বাস দেয়, কিন্তু ভোট শেষ হলে আর কেউ খোঁজ নেয় না। প্রায় ১২ বছর ধরে আমরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছি।
“সেতুটি এখন এতটাই নড়বড়ে যে উঠতেও ভয় লাগে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা ও বন্যা মৌসুমে সেতুর দুই পাশের মাটি ধসে যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হয় এবং কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। রাতের বেলায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

কাউনিয়া বালাপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, “ভাই প্রতিবছর বন্যার সময় সেতুর দুই পাশ ভেঙে যায়। তখন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। প্রশাসনের কাছে বহুবার জানিয়েও স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি।"
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৪ সালে ইউএসএআইডি ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে, কেয়ার বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নে ৩৭ লাখ ২৪ হাজার ১৮৩ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। তবে নির্মাণের পর থেকেই সংযোগ সড়ক ও মাটি ধসের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।
বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নিজস্ব উদ্যোগে কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে কি-না এমন প্রশ্নের উত্তরে পরিষদের সদস্য হাফিজার রহমান বলছিলেন, তাদের পক্ষে এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে।
বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলী বলেন, “গত বছর সেতুর দুই পাশে মাটি ভরাট করা হলেও ভারি বৃষ্টি ও বন্যায় তা আবার ধসে যায়।”
তিনি বলেন, “নতুন করে সেতু নির্মাণের জন্য একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে।”
এ প্রসঙ্গে এলজিইডি কাউনিয়া উপজেলা কার্যালয়ের উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, নতুন সেতু বা সংযোগ সড়ক নির্মাণের আগে যে প্রস্তুতিমূলক কাজগুলো করা হয়, তার দুটি ধাপ শেষ হয়েছে এবং এখন নকশা তৈরির কাজ চলছে।
দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে আশা করছেন তিনি।