Published : 07 Apr 2026, 08:19 PM
হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বারবার দেওয়া হুমকির জবাবে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের ইরানি দূতাবাসগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমত ব্যাঙ্গ করেছে।
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ খোলা নিয়ে এক্সে রসিকতা করে তারা বলেছে, এই প্রণালির চাবি হারিয়ে গেছে।
ইরানের কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখা হরমুজ প্রণালি না খুললে ধ্বংসাত্মক সামরিক হামলা চালানোর হুমকি এবং আল্টিমেটাম দিয়ে আসছেন ট্রাম্প।
গত রোববার ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে হরমুজ খোলা নিয়ে কড়া হুমকি দিয়ে সময়সীমাও বেঁধে দেন।
তিনি লেখেন, “মঙ্গলবার হবে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংসের দিন। নজীরবিহীন ঘটনা ঘটবে। প্রণালি খুলে দিন পাগলের দল, নইলে আপনাদের নরকে যেতে হবে। দেখুন কি হয়!”
পোস্টের শেষে ট্রাম্প “সব প্রশংসা আল্লাহর' কথাটি উল্লেখ করেন। ট্রাম্প এর কয়েকদিন আগে যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তি না করলে ইরানকে প্রস্তরযুগে পাঠানোরও হুমকি দিয়েছিলেন।
কিন্তু ইরান বরাবরই ট্রাম্পের এইসব হুমকিকে ‘নির্বোধ’ আখ্যা দিয়ে আসছে। ট্রাম্পের হুমকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে সোশাল মিডিয়ায় ট্রল করতে শুরু করেছে বিভিন্ন দেশের ইরানি দূতাবাস।
লন্ডন থেকে প্রিটোরিয়া, নয়াদিল্লি থেকে মস্কো পর্যন্ত ইরানের দূতাবাসগুলো সোশাল মিডিয়ায় ট্রাম্পের মানসিক বোধশক্তি ও তার ভাষা নিয়ে আক্রমণাত্মক পোস্ট দিচ্ছে এবং ব্যাঙ্গাত্মক প্রচার শুরু করেছে। শেয়ার করছে ব্যাঙ্গাত্মক মীমও।
ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি খোলার দাবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জিম্বাবুয়ের ইরানি দূতাবাসের ব্যাঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া সবচেয়ে বেশি ভাইরাল হয়েছে।
ট্রাম্পের হরমুজ খুলে দেওয়ার আল্টিমেটামকে ব্যাঙ্গ করে জিম্বাবুয়েতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস এক্সে এক পোস্টে লিখেছে, “আমরা চাবি হারিয়ে ফেলেছি।”
একই সুরে দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাসও কৌতুক করে এক্সে লেখে, “চুপ...চাবিটা ফুলের টবের নিচে রাখা আছে। কেবল বন্ধুরাই খুলতে পারবে।”
বিষয়টি নিয়ে আরেক ধাপ রসিকতা করে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের প্রসঙ্গ টেনে বুলগেরিয়ার ইরানি দূতাবাস বলেছে, “দ্বার কেবল বন্ধুদের জন্য খোলা। জেফরি এপস্টেইনের বন্ধুদের চাবি দরকার।”
সব মিলিয়ে ট্রাম্পের হুমকির পোস্টগুলোকে কেন্দ্র করে অনলাইনে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের ঢেউ বয়ে যাচ্ছে। হুমকি-ধামকিতে ইরান ভয় পাচ্ছে না বলেই আপাতত দৃশ্যমান হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়সীমা শেষে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় সেটিই এখন দেখার বিষয়।