১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা ছাড়া নিরস্ত্রীকরণ আলোচনায় বসবে না হামাস

গাজা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আলোচনা এবং দুই বছরের যুদ্ধ শেষে গত অক্টোবরে হওয়া যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দিতে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টিই এখন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা ছাড়া নিরস্ত্রীকরণ আলোচনায় বসবে না হামাস
গাজায় যুদ্ধবিধ্বস্ত আল-শিফা হাসপাতাল। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Apr 2026, 06:00 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:17 PM

গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী পুরোপুরি প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে কোনও আলোচনায় বসবে না বলে মধ্যস্থতাকারীদের সাফ জানিয়ে দিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনটি বিশ্বস্ত সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিস’ বা শান্তি পর্ষদ গাজার জন্য যে শান্তি পরিকল্পনা দিয়েছে, সেটি বাস্তবায়নের আলোচনা এবং দুই বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে গত অক্টোবরে হওয়া যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টিই এখন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মিশরীয় দুটি সূত্র এবং একজন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত মাসে পেশ করা নিরস্ত্রীকরণ প্রস্তাবের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া জানাতে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার কায়রোতে মিশরীয়, কাতারি এবং তুর্কি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে হামাসের একটি প্রতিনিধি দল।

সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানায়, হামাস বোর্ড অফ পিস-এর পরিকল্পনায় বেশ কিছু সংশোধনী ও দাবি উত্থাপন করেছে। যার মধ্যে রয়েছে, ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ করা, যুদ্ধবিরতির সব শর্ত মেনে চলা এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়া। 

হামাসের অভিযোগ, গাজায় শত শত মানুষকে হত্যার মাধ্যমে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের দাবি, সম্ভাব্য হামলা নস্যাৎ করতেই তারা এই সামরিক অভিযান চালাচ্ছে।

জটিল হচ্ছে আলোচনা

সূত্র মতে, ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা অব্যাহতভাবে সম্প্রসারণের বিষয়টি নিয়েও হামাস ব্যাখ্যা চেয়েছে। যুদ্ধবিরতির পর গাজার অর্ধেকেরও বেশি এলাকা বর্তমানে ইসরায়েলের দখলে রয়েছে। 

হামাস স্পষ্ট করেছে যে, এই অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে কোনও কথা বলবে না।

এই বিষয়ে হামাসের দুজন কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি। ইসরায়েল সরকার এবং ‘বোর্ড অফ পিস’-এর প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

‘বোর্ড অফ পিস’-এর চিন্তাভাবনা সম্পর্কে অবগত আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, হামাসের এই অনড় অবস্থানের কারণে নিরস্ত্রীকরণ আলোচনায় দ্রুত কোনো নাটকীয় মোড় বা অগ্রগতির সম্ভাবনা কম। 

আগামী সপ্তাহে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে হামাসের পুনরায় বসার কথা রয়েছে।

ওই সূত্র আরও জানায়, হামাস নিরস্ত্র না হলেও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র পুনর্গঠন কাজ শুরু করতে পারে। 

তবে ইরান যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোর দেওয়া পুনর্গঠন তহবিলের প্রতিশ্রুতিগুলো বর্তমানে আটকে আছে।

উভয় পক্ষের অনড় অবস্থান:

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা বলেন, হামাস এই পরিকল্পনা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করার সম্ভাবনা কম, তবে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ‘হ্যাঁ’ বলবে না। 

অন্যদিকে, ইসরায়েলের অবস্থানও অনড়; দেশটি জানিয়েছে, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত তারা গাজা থেকে সেনা সরাবে না।

মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের বিশেষ দূত নিকোলে ম্লাদেনভ গত বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে দাবি করেন যে, সব মধ্যস্থতাকারী পক্ষ এই পরিকল্পনা সমর্থন করেছে। 

তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এটি সমর্থন করেছে, এখন এটি বাস্তবায়নের কাঠামো নিয়ে একমত হওয়ার সময়। ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি, উভয় পক্ষের স্বার্থেই আর সময় নষ্ট করা যাবে না।”

ইসরায়েলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ১,২০০ জন নিহত হয়। এর জবাবে ইসরায়েলের দুই বছরের সামরিক অভিযানে গাজায় ৭২,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। 

গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডটিতে দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে দিয়েছে এবং প্রায় সব ভবন ধ্বংসসহ অধিকাংশ মানুষকে বারবার বাস্তুচ্যুত করেছে।