Published : 14 May 2026, 10:53 AM
ইরান যুদ্ধের সবচেয়ে উত্তাল সময়ে গোপনে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছিলেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
তিনি বলেছেন, ওই সফরে তিনি আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
বুধবার রাতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, “এই সফরের ফলে ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক অগ্রগতি হয়েছে।”
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৬ মার্চ ওমান সীমান্তবর্তী মরু শহর আল আইন-এ দুই নেতা কয়েক ঘণ্টা বৈঠক করেন।
একটি সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি লিখেছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে সামরিক পদক্ষেপ সমন্বয়ের জন্য অন্তত দুবার আমিরাত সফর করেন ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের পরিচালক ডেভিড বার্নিয়া। তার ওই সফরের খবর প্রথম প্রকাশ করেছিল ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
গার্ডিয়ান লিখেছে, কথিত ওই সফরকে পশ্চিম এশিয়ায় দ্রুত বিকাশমান এক জোটের নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইসরায়েলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি গত মঙ্গলবার বলেন, যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েল তার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে আমিরাতকে সহযোগিতা করেছে। সেজন্য ‘আয়রন ডোম’ ব্যাটারি এবং তা পরিচালনার জন্য সামরিক বিশেষজ্ঞও পাঠানো হয়েছিল।
হাকাবি বলেন, "সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইসরায়েলের মধ্যে এক অসাধারণ সম্পর্ক বিদ্যমান"।
তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নেতানিয়াহুর সফরের খবর অস্বীকার করেছে। তারা এ ধরনের দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, তেল স্থাপনায় ইরানি হামলার প্রতিশোধ নিতে আমিরাতও গোপনে ইরানে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে এপ্রিলের শুরুর দিকে লাভান দ্বীপের একটি শোধনাগারে হামলাও ছিল।
২০২০ সালে 'আব্রাহাম অ্যাকর্ডস'-এর আওতায় প্রথম মুসলিম দেশ হিসেবে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তিতে সই করে আমিরাত। পরে বাহরাইন, মরক্কো ও সুদানও তাতে যোগ দেয়।
এই চার দেশের মধ্যে আমিরাতই ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ককে কার্যত জোটে রূপ দিতে সবচেয়ে বেশি এগিয়েছে।
আমিরাতের শাসকেরা ক্রমেই তাদের বড় প্রতিবেশী সৌদি আরব থেকে আলাদা একটি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের চেষ্টা করছেন। এই মাসের শুরুতেই তারা সৌদি নেতৃত্বাধীন তেল জোট ওপেক থেকে বেরিয়ে গেছে, যা বিশ্ববাজারে এই সংগঠনের প্রভাবকে অনেকটাই দুর্বল করে দিয়েছে।
ইসরায়েল ও আমিরাত দুই দেশেরই যুক্তরাষ্ট্রের ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, যা ইরান যুদ্ধের মাধ্যমে আরও জোরালো হয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের প্রশাসন বা নীতিগত অবস্থান বদলে গেলে তারা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এদিকে দুই দেশই যুদ্ধাপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনার মুখে রয়েছে।
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যার অভিযোগে রয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে।
অন্যদিকে সুদানে ব্যাপক নৃশংসতায় অভিযুক্ত র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে আমিরাতের বিরুদ্ধে। পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ থাকা সত্ত্বেও আমিরাত সরকার ওই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।