Published : 24 Jun 2025, 07:08 PM
মিয়ানমারের পূর্বাঞ্চলে প্রতারণা কেন্দ্রগুলো থেকে উদ্ধার হওয়া ২০০ জনের বেশি বিদেশি এখনও থাইল্যান্ড-মিয়ানমার সীমান্তে আটকে আছেন। উদ্ধার পাওয়াদের দেশে ফেরানোর বিষয়টি তদারককারী একটি স্থানীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠী একথা জানিয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে থাই-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনলাইন প্রতারণায় কাজ করাতে শত-সহস্র মানুষকে পাচার করেছে সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র।
মিয়ানমারের কারেন ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ) বিদ্রোহী গোষ্ঠী জানিয়েছে, তারা মায়াবতী অঞ্চল থেকে সম্প্রতি ৮ হাজারের বেশি বিদেশিকে উদ্ধার করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে।
বর্তমানে তারা ভিয়েতনাম, চীন, ফিলিপিন্স ও ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকসহ মোট ২১৬ জনকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে।
কেএনএর মুখপাত্র নাইং মং জ’ বলেছেন, “আমরা তাদেরকে খাবার ও চিকিৎসা সহায়তা দিচ্ছি। এর মধ্যে কেউ কেউ গর্ভবতী, তাদের জন্যও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।”
প্রতারণা কেন্দ্রগুলো বন্ধ করতে থাইল্যান্ড সরকার ফেব্রুয়ারি থেকে মিয়ানমারের পাঁচটি সীমান্ত এলাকায় বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এর মধ্যে মায়াবতীও রয়েছে।
মায়াবতীর দুই বাসিন্দা রয়টার্সকে বলেন, গত কয়েক মাস ধরে থাইল্যান্ড থেকে কোনও বিদ্যুৎ সরবরাহ নেই। মিয়ানমার সরকারের বিদ্যুৎও অনিয়মিত, ফলে স্থানীয় প্রতারণা কেন্দ্রগুলো জেনারেটরের ওপর নির্ভরশীল।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পায়েতংতার্ন সিনাওয়াত্রা সোমবার জানান, তার সরকার এখন অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে ক্যাম্বোডিয়ায়ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের পরিকল্পনা করছে।
তিনি বলেন, “মিয়ানমারে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধের পর অভিযোগের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এখন প্রতারণার কেন্দ্রগুলো মিয়ানমার থেকে কাম্বোডিয়ায় চলে গেছে বলে জানা গেছে।”
ক্যাম্বোডিয়া সরকার অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসে চলতি বছরের জানুয়ারিতে চীনা অভিনেতা ওয়াং জিং অপহরণ ঘটনার পর।
তিনি থাইল্যান্ডে পৌঁছানোর পর নিখোঁজ হন এবং পরে মিয়ানমারে তাকে উদ্ধার করে থাই পুলিশ।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ইউএস ইনস্টিটিউট অব পিস জানিয়েছে, মায়াবতী অঞ্চলে চীনভিত্তিক অপরাধচক্রই এসব প্রতারণা কেন্দ্র পরিচালনা করছে।