Published : 11 Jun 2026, 06:24 PM
যুক্তরাষ্ট্রে গত মাসে পণ্যের দাম তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতহারে বাড়ার সরকারি পরিসংখ্যান দেখার পরও একে ইতিবাচক বলেছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, “আমি মূল্যস্ফীতি পছন্দ করি।”
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে পণ্যের দাম একবছর আগের তুলনায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে, যা তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত এপ্রিলে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৮।
ইরানে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম এপ্রিলের ৩ দশমিক ৮ থেকে সবচেয়ে দ্রুতহারে বেড়ে মে মাসে ৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।
আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই ভোক্তা মূল্যস্ফীতি রিপাবলিকানদের অগ্রগতি ব্যাহত করবে কিনা জানতে চাইলে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আমি এই মূল্যস্ফীতি পছন্দ করি।”
হোয়াইট হাউজে তিনি বলেন, “আমি এটি (মূল্যস্ফীতি) পছন্দ করি। সংখ্যাগুলো দারুণ। জানেন আমি কী সবচেয়ে বেশি পছন্দ করি? আমি মূল্যস্ফীতি পছন্দ করি।”
তবে ট্রাম্প আশ্বাস দেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলে মূল্যস্ফীতি ‘একলাফে নিচে নেমে আসবে’। সম্প্রতি কয়েকদিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবার পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়েছে।
ইরান যুদ্ধের মধ্যে বাড়তে থাকা খরচ এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে গোপনে তেল ট্যাংকার চলাচলের একটি পরিকল্পনায় কীভাবে সবুজ সংকেত দিয়েছিলেন তা ব্যাখ্যা করেছেন ট্রাম্প।
এই অভিযানকে সফল দাবি করে তিনি বলেন, “আমার হিসাব অনুযায়ী, এই অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়াটা সঠিক ছিল।” চলমান যুদ্ধ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, এটি শেষ হওয়া মাত্রই বিশ্ববাজারে তেলের দাম আগের জায়গায় ফিরে আসবে এবং এটি খুব দ্রুত কমে যাবে।
ট্রাম্প ইরান যুদ্ধকে একটি সাময়িক মোড় পরিবর্তন হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন এবং একে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হিসাবে চিত্রিত করেছেন। ইরান আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় গ্যাসোলিন ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়েছে।
পণ্য মূল্যবৃদ্ধির কারণে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানো থেকে পিছিয়ে আসতে পারে। সুদের হার কমলে ঋণ নেওয়ার খরচ কমে আসত, যা করার জন্য ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই চাপ দিয়ে আসছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে চেষ্টা করছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দল। তবে জীবনযাত্রার ব্যয় ভোটারদের প্রধান সমস্যা হওয়ায় এই মূল্যস্ফীতি শেষ পর্যন্ত বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পথ সহজ করতে পারে বলে অনেক রিপাবলিকানই আশঙ্কা করছেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনে ডনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ ছিল মূল্যস্ফীতি কমানোর প্রতিশ্রুতি। তবে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর জীবনযাত্রা ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় ট্রাম্পের জনসমর্থন এখন তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার কূটনৈতিক চেষ্টা এখন পর্যন্ত থমকে আছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, আগামী সপ্তাহগুলোতে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে যা আর্থিক বাজারকে বড় ধাক্কায় ফেলবে।
দুই দেশের মধ্যে দ্রুতই কোনও শান্তিচুক্তি হলেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস সময় লাগবে। ফলে পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন পুরো ২০২৬ সাল জুড়েই বজায় থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিনিরা অন্যান্য দেশের তুলনায় জ্বালানির দাম বাড়ার মুখে কিছুটা নিরাপদ হলেও ক্রমাগত উচ্চ জ্বালানি মূল্য দীর্ঘ মেয়াদে ভোক্তা ব্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের এই আর্থিক সংকট নিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন যে, তিনি মার্কিনীদের অর্থনৈতিক সংগ্রামকে তার যুদ্ধ নীতির ক্ষেত্রে কোনো বাধা মনে করেন না।
ইরানের ওপর নতুন হামলার হুমকি দিয়ে তিনি বলেছিলেন, “আমি মার্কিনিদের আর্থিক অবস্থা নিয়ে ভাবি না। আমি কারও কথা ভাবি না। আমি কেবল একটি বিষয় নিয়েই ভাবি, আর তা হল: আমরা কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দিতে পারি না।”