০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরানের কর্মকর্তা ও কারাগারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর বিক্ষোভে দমনপীড়ন বন্ধে চাপ অব্যাহত রাখার মধ্যে এই পদক্ষেপ নিল মার্কিন অর্থমন্ত্রণালয়।

ইরানের কর্মকর্তা ও কারাগারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
বিক্ষোভে উত্তাল ইরানে জ্বলছে গাড়ি। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Jan 2026, 01:19 AM

Updated : 26 Aug 2026, 05:34 PM

ইরানে বিক্ষোভ দমনের নেপথ্যে থাকার অভিযোগে দেশটির পাঁচ কর্মকর্তা এবং এর পাশাপাশি একটি কারাগারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। 

এছাড়াও, ইরানি নেতাদের আন্তর্জাতিক ব্যাংকে অনলাইনে স্থানান্তর করা অর্থ যুক্তরাষ্ট্র ট্র্যাক করছে বলে জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার মধ্যে এই পদক্ষেপ এল।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ইরানের সুপ্রিম কাউন্সিল ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি-এর সেক্রেটারি, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ও আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর কমান্ডারদের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

তাদেরকে ইরানে বিক্ষোভ দমন-পীড়নের ‘মূল কারিগর’ হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র একইসঙ্গে ফারদিস কারাগারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এই কারাগারে নারী বন্দিরা ‘নিষ্ঠুর, অমানবিক এবং অবমাননাকর’ আচরণের শিকার হয়েছেন।

নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ইরানের নেতাদের প্রতি ওয়াশিংটনের বার্তা স্পষ্ট, "যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রণালয় জানে যে,আপনারা ডুবন্ত জাহাজের ইঁদুরের মতো ইরানি পরিবারগুলোর কাছ থেকে চুরি করা অর্থ বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে স্থানান্তরের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। নিশ্চিত থাকুন, আমরা সেগুলো খুঁজে বের করব এবং আপনাদের ধরব।"

তিনি আরও বলেন, "তবে এখনও সময় আছে, যদি আপনারা আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে চান। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেমন বলেছেন, সহিংসতা বন্ধ করুন এবং ইরানের জনগণের পাশে দাঁড়ান।"

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে ইরানের মিশন এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও সাড়া দেয়নি। তবে ইরানের শাসকরা দেশের অস্থিরতায় উস্কানি দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিনের শত্রু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে আসছেন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, সরকার বিক্ষোভের মূলে থাকা কিছু অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে। তিনি দুর্নীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যা দরিদ্র মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াবে বলে তিনি জানান।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ইরানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ বর্তমানে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ-এর তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ২,৪৩৫ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৫৩ জন সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান। এ অবস্থায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার বিক্ষোভকারীদের পক্ষ নিয়ে ইরানে হস্তক্ষেপ করার হুমকি দিচ্ছেন।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার ইরানি জনগণের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে। শাসকগোষ্ঠীর নৃশংসভাবে মানবাধিকার দমনাভিযানের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করতে অর্থমন্ত্রণালয় প্রতিটি হাতিয়ার কাজে লাগাবে।"

নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ১৮ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, তারা একটি ‘শ্যাডো ব্যাংকিং’ নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে বিদেশের বাজারে ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল বিক্রির অর্থ পাচারের সাথে জড়িত ছিলেন।