Published : 24 Jun 2026, 12:16 PM
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ মহসিন রশিদ, যিনি বাংলাদেশ মুসলিম লীগের একাংশের সভাপতি।
রিট আবেদনে আইনটিকে ‘অবৈধ’ দাবি করে এই ট্রাইব্যুনালকে ‘জুডিশিয়াল মার্ডারের ইন্সট্রুমেন্ট’ বা বিচারিক হত্যার হাতিয়ার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে এই রিট আবেদনে বিবাদী করা হয়েছে।
বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটির শুনানি চলছে জানিয়ে মহসিন রশিদ বলেন, “গত ৭ জুন রিট আবেদনটি করার পর গত ২২ জুন শুনানি হয়। সর্বশেষ শুনানির দিন রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জানানো হয় রিটে অ্যাটর্নি জেনারেল শুনানি করবেন। পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলা হয়, অ্যাটর্নি জেনারেল কবে শুনানি করবেন তা আদালতকে জানানোর জন্য। রাষ্ট্রপক্ষ এখন পর্যন্ত কিছু জানায়নি। এ অবস্থায় শুনানি মুলতবি হয়ে আছে। আগামী সপ্তাহে শুনানিতে উঠতে পারে।”
রিট আবেদনের আরজি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এই আইনজীবী বলেন, "বিদ্যমান আইসিটি আইনটি অবৈধ। এর কোনো পারপাস (উদ্দেশ্য) ছিল না। এর একটাই পারপাস ছিল, আর তা হলো—২০০৯ সালে একে সংশোধন ও ব্যবহার করে জুডিশিয়াল মার্ডার করা হয়েছে।"
আইসিটি আইনে আনা সাম্প্রতিক সংশোধনীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, "২০২৪ সালে আবার এতে অ্যামেন্ডমেন্ট (সংশোধনী) এনে একে জুডিশিয়াল মার্ডারের হাতিয়ার করা হয়েছে। এটি এমন এক ট্রাইব্যুনাল, যা মানুষকে বিচারিক প্রক্রিয়ায় হত্যা করে। এ জন্য এটি বন্ধ হওয়া উচিত।"
ভবিষ্যৎ শঙ্কার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, "এটি বন্ধ না হলে আমরা জানি না, আগামীতে আবার অ্যামেন্ডমেন্ট করে আজকে যারা শাসক আছেন, তাদের মধ্য থেকে কাউকে সেখানে মেরে ফেলা হয় কি না। তাই এটি বন্ধ করা উচিত। এটি জুডিশিয়াল মার্ডার করার একটি ইন্সট্রুমেন্ট।”
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য ১৯৭৩ সালে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল অ্যাক্ট’ করা হয়। এ ট্রাইব্যুনালে ব্যক্তি এবং গোষ্ঠীকে বিচারের আওতায় আনা এবং স্বাধীনভাবে ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ পরিচালনার বিধান যুক্ত করে ২০০৯ সালে আইনে কিছু সংশোধনী আনা হয়।
এর ভিত্তিতেই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১০ সালে ট্রাইব্যুনাল একাত্তরের যুদ্ধাপাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের বিচার শুরু হয়।
ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডের রায়ের ভিত্তিতে জামায়াতে ইসলামীর পাঁচ শীর্ষ নেতা এবং বিএনপির একজনের মৃত্যুদণ্ডও কার্যকর করা হয়।
২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ বিচারের জন্য এই ট্রাইব্যুনালকেই বেছে নেয়। সেখানে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল আইনে আরেক দফা সংশোধনী আনা হয়।
ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের পর ইতোমধ্যে চারটি মামলার রায় এসেছে। এসব মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।