Published : 24 Jun 2026, 12:35 PM
সুসময়ে প্রশংসার খই ফোটে মুখে। সময় একটু খারাপ গেলেই ছুটে আসে সমালোচনার তির। প্রায় দুই যুগের পথচলায় এসব দেখে অভ্যস্ত ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বিশ্বকাপের শুরুতে আরও একবার এসবের শিকার হয়ে তাই মুষড়ে পড়েননি তিনি। বরং প্রতিজ্ঞা করেছেন জবাব দেওয়ার। সেই তৃপ্তিই এখন পর্তুগিজ অধিনায়কের কণ্ঠে।
লিওনেল মেসি, কিলিয়াম এমবাপে, আর্লি হলান্ডের মতো তারকারা যখন গোল উৎসবে মেতে উঠেছেন, রোনালদোর শুরুটা ছিল হতাশাময়। প্রথম ম্যাচে মাঠে অনেকটাই মিইয়ে ছিলেন তিনি। ডিআর কঙ্গোর সঙ্গে ড্র করে দলের শুরুটাও ছিল বিবর্ণ।
এরপর চারপাশ থেকে ধেয়ে আসতে থাকে সমালোচনার ঝড়। নিজ দেশেও সংবাদমাধ্যমে তুলাধুনা করা হয় তাদের। একাদশে রোনালদোর জায়গা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
পাহাড়সমান চাপ নিয়ে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে মঙ্গলবার খেলতে নামের রোনালদো। জবাব দিতে সময় নেন মাত্র ছয় মিনিট। ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার নজির গড়েন। পরে প্রথমার্ধেই গোল করেন আরেকটি। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সে জোড়া গোলের কীর্তিও গড়ে ফেলেন তাতে।
কিংবদন্তি ইউসেবিওকে ছাপিয়ে পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ডও এখন তার।
দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কিছু সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় হ্যাটট্রিক হয়নি তার। তবে দল জিতেছে ৫-০ গোলে।
ম্যাচের পর রোনালদো বললেন, কাঠগড়ায় তোলা হলেও তিনি কষ্টে মুষড়ে পড়েননি, বরং মাঠেই জবাব দেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছেন।
“খুব কঠিন একটা সপ্তাহ ছিল, কারণ সব ফুটবলারের প্রতি, বিশেষ করে আমার এবং কোচের প্রতি লোকের কথাবার্তা ছিল খুবই কঠোর। কিন্তু আমি কিছু মনে করি না। ২৩ বছর ধরে এই পেশায় আছি। যখনই সবকিছু ভালো যায়, লোকে বলে ‘ক্রিশ্চিয়ানো দারুণ খেলছে,’ কিন্তু যখন খারাপ যায়, তখন বলা হয়, ‘ক্রিশ্চিয়ানো অবসরে গেছে, তার বয়স হয়ে গেছে।’ এসব সবসময় এমনই থাকবে। কিন্তু আজ আমরা ভালোভাবে জবাব দিয়েছি।”
বাইরের আলোচনায় মাথা না ঘামিয়ে দল নিজেদের লক্ষ্যে একতাবদ্ধ, বললেন ৪১ বছর বয়সী তারকা।
“সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো দল, সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ থাকা। বাইরে থেকে আসা বাকিটা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব না। এটা আমরা জানি যে, যখন আমরা জিতি না, তখন আমাদেরকে আক্রমণ করা হয়, বিশেষ করে আমাকে।”