Published : 14 Jul 2026, 05:48 PM
বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে আসরের দুই ফেভারিট ফ্রান্স ও স্পেন।
ডালাসে প্রথম সেমি-ফাইনাল ম্যাচটি শুরু হবে ১৫ জুলাই বাংলাদেশ সময় ১টায় (এএম)।
এর আগে দেখে নেওয়া যাক কিছু পরিসংখ্যান:
২০ বছর পর
এই নিয়ে কেবল দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন ও ফ্রান্স। আগের একমাত্র সাক্ষাৎটি ছিল ২০০৬ সালের জার্মানি আসরে।
শেষ ষোলোর ম্যাচটিতে দাভিদ ভিয়ার গোলে এগিয়ে যায় স্পেন। প্রথমার্ধেই ফ্রান্সকে সমতায় ফেরান ফ্রাঙ্ক রিবেরি। ৮২ মিনিট পর্যন্ত স্কোরলাইন ছিল ১-১। পরের ১০ মিনিটে স্পেনের জালে বল পাঠান পাত্রিক ভিয়েরা ও জিনেদিন জিদান। ৩-১ গোলের জয় তুলে নেয় ফরাসিরা।
দাপুটে স্পেন
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৩৮ বার মুখোমুখি হয়েছে এই দুটি দল। যেখানে স্পেনের জয় ১৮টিতে, ফ্রান্স জিতেছে ১৩টি। বাকি সাতটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
সবশেষ ১০ সাক্ষাতের মধ্যে স্পেন কেবল দুটিতে হেরেছে (সাত জয়, এক ড্র) এবং সবশেষ দুটিই জিতেছে। আর সেই দুটি ম্যাচ ছিল সেমি-ফাইনাল।
২০২৪ ইউরোর সেমি-ফাইনালে নবম মিনিটে রন্দাল কোলো মুয়ানির গোলে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। তবে ২১ থেকে ২৫, চার মিনিটের মধ্যে লামিন ইয়ামাল ও দানি ওলমোর গোলে, শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয়ে ফাইনালে ওঠে স্পেন। পরে চ্যাম্পিয়ন হয় তারাই।
আর ২০২৫ সালের জুনে উয়েফা নেশন্স লিগের শেষ চারে ৯ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে স্পেন জয় পায় ৫-৪ ব্যবধানে। ম্যাচে দুটি গোল করেন ইয়ামাল।
কোয়ার্টার-ফাইনালে বেলজিয়ামকে হারিয়ে ফ্রান্স ম্যাচ নিয়ে ইয়ামাল বলেন, “দুটি সম্ভাবনা আছে: হয় তারা টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছাবে, অথবা আমরা তাদের টানা তিনবার হারাব। জানি না কী হতে পারে, কিন্তু আমরা মোটেও ভীত নই।”
অপরাজেয় যাত্রা
স্পেন তাদের সবশেষ ৩৬ ম্যাচে অপরাজিত আছে (২৭ জয়, ৯ ড্র)। সবশেষ তারা হেরেছিল ২০২৪ সালের মার্চে, কলম্বিয়ার কাছে ১-০ গোলে।
পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে স্পেনের চেয়ে টানা বেশি ম্যাচে অপরাজিত থাকার নজির আছে শুধু ইতালির। ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত ছিল চারবারের বিশ্বকাপ জয়ীরা, যারা গত তিনটি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।
দুর্বার পথচলা
২০১৮ বিশ্বকাপের শুরু থেকে স্পেন বড় টুর্নামেন্টগুলোতে তাদের ২৭ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে হেরেছে (১৬ জয়, ১০ ড্র)। ২০২২ বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে ২-১ গোলে হারের পর থেকে বড় টুর্নামেন্টগুলোতে তারা ১৪ ম্যাচে অপরাজিত আছে, যেখানে তারা কেবল পাঁচটি গোল হজম করেছে এবং কোনো ম্যাচেই একটির বেশি গোল খায়নি (৯টি ক্লিন শিট)।
রক্ষণ যেন চীনের প্রাচীর
চলতি বিশ্বকাপে প্রতিপক্ষের আক্রমণভাগকে আটকে রাখতে বেশ প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছে স্পেন। শেষ আটে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানের জয়ে শার্লে ডে কেটলারের গোলটি আসরে তাদের হজম করা একমাত্র গোল। এতে থেমে যায় বিশ্বকাপে তাদের ৬৪৯ মিনিট গোল না খাওয়ার রেকর্ড যাত্রা।
স্পেনই প্রথম দল, যারা বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা ছয় ম্যাচে ক্লিন শিট রাখতে পেরেছে। ডে কেটলারের গোলটির আগে সবশেষ স্পেনের জালে বল পাঠিয়েছিল জাপান, ২০২২ আসরে গ্রুপ পর্বে।
সেমি-ফাইনাল ভাগ্য
এই নিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে উঠেছে স্পেন। এর আগে তাদের এই অভিজ্ঞতা হয়েছিল ২০১০ সালে এবং সেবারই জিতেছিল নিজেদের একমাত্র বিশ্বকাপ শিরোপাটি।
বড় টুর্নামেন্টে মোট সাতটি সেমি-ফাইনাল খেলে একবারই কেবল বিদায় নিয়েছে স্পেন। ২০২০ ইউরোয় ইতালির বিপক্ষে ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে ১-১ সমতার পর, পেনাল্টি শুটআউটে ৪-২ গোলে হারে স্প্যানিশরা।
সেরা সুপার সাব
বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনালে যখন ১-১ গোলে সমতা, ৮৬তম মিনিটে মিকেল মেরিনোকে বদলি হিসেবে মাঠে নামান স্পেন কোচ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। মাঠে নামার মাত্র ১১৫ সেকেন্ড পরই তিনি জয়সূচক গোলটি করেন।
আগের রাউন্ডে, শেষ ষোলোতেও একইভাবে প্রভাব রাখেন মেরিনো। ৮৫তম মিনিটে বদলি নেমে, ৯১তম মিনিটে তার করা একমাত্র গোলেই পর্তুগালকে বিদায় করে দেয় স্পেন।
বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে বদলি হিসেবে নকআউট পর্বের ভিন্ন দুই ম্যাচে জয়সূচক গোল করা প্রথম খেলোয়াড় মেরিনো। চলতি আসরে তার এই দুটি গোল এসেছে স্রেফ চারটি শট থেকে।
চলতি আসরে টানা তিন ম্যাচে বদলি নেমে গোল করতে পেরেছেন কেবল বেলজিয়ামের রোমেলু লুকাকু।
ইতিহাসের হাতছানি যত
ফ্রান্সকে হারাতে পারলে, প্রথম ইউরোপিয়ান দেশ হিসেবে বড় টুর্নামেন্টে টানা আটটি নকআউট ম্যাচ জয়ের কীর্তি গড়বে স্পেন। সেক্ষেত্রে ১৯৩৪ থেকে ১৯৩৮ পর্যন্ত ইতালির এবং ২০০৮ থেকে ২০১২ পর্যন্ত নিজেদের টানা সাতটি নকআউট ম্যাচ জয়কে ছাড়িয়ে যাবে তারা।
কোয়ার্টার-ফাইনালে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে চলতি বিশ্বকাপে টানা ছয়টি জয় তুলে নেয় ফ্রান্স। স্পেনকে হারাতে পারলে, দ্বিতীয় ইউরোপিয়ান দল হিসেবে বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচ জয়ের কীর্তি গড়বে তারা। ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ আসর মিলিয়ে এই স্বাদ পেয়েছিল ইতালি।
জার্মানি (১৯৮২, ১৯৮৬, ১৯৯০) ও ব্রাজিলের (১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২) কীর্তির পুনরাবৃত্তি করে টানা তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার হাতছানি ফ্রান্সের সামনে।
এবং গোলমেশিন এমবাপে
আরেকটি দারুণ বিশ্বকাপ কাটাচ্ছেন কিলিয়ান এমবাপে। শেষ আটে মরক্কোর বিপক্ষে দুর্দান্ত একটি গোল করে দলকে পথ দেখান তিনি। আট গোল করে লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে চলতি আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা ফ্রান্স অধিনায়ক।
২০ গোল নিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। একটি গোল বেশি নিয়ে চূড়ায় মেসি।
তবে নকআউট পর্বে এমবাপের ১২ গোলই কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ। শেষ বত্রিশ (২), শেষ ষোলো (৫), কোয়ার্টার-ফাইনাল (১) ও ফাইনালে (৪) গোল করলেও, আগের দুটি সেমি-ফাইনালে অবশ্য কোনো গোল করতে পারেননি তিনি।