অ্যানথ্রপিকের অদৃশ্য ওয়াটারমার্ক যোগ হচ্ছে পুরনো মডেলেও
ইইউর নিয়ম মেনে চলার ইঙ্গিত অন্যান্য প্রযুক্তি কোম্পানি দিলেও তা কেবল ইউরোপে সীমিত না রেখে বিশ্বজুড়ে তা চালুর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত দেখাল অ্যানথ্রপিক।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইচালিত চ্যাটবট ক্লড এর মাধ্যমে তৈরি করা লেখায় অদৃশ্য এক ওয়াটারমার্ক যোগ করার প্রযুক্তিটি আরও ব্যাপকভাবে চালু করতে যাচ্ছে এর নির্মাতা কোম্পানি অ্যানথ্রপিক।
কোম্পানিটির এমন পদক্ষেপের ফলে এআই দিয়ে লেখা যে কোনো টেক্সটের পেছনে অদৃশ্য এক সংকেত থেকে যাবে, যা লেখাটি ক্লডের তৈরি বলে প্রমাণ করবে।
অগাস্টে অ্যানথ্রপিক ঘোষণা দিয়েছিল, তারা নিজেদের এআই মডেলগুলোতে টেক্সট ওয়াটারমার্ক সুবিধা যোগ করতে যাচ্ছে। এটা লেখার শব্দের ভেতরে এমন অদৃশ্য প্যাটার্ন তৈরি করে, যা কেবল স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের মাধ্যমেই শনাক্ত করা সম্ভব।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট প্রতিবেদনে লিখেছে, জেনারেটিভ এআই টুলগুলোর জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউর কড়া বিধিমালার শর্ত পূরণ করতেই এ প্রযুক্তি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি।
প্রাথমিক পর্যায়ে কেবল অ্যানথ্রপিকের আধুনিক এআই মডেলগুলোতে এই সুবিধা যোগ হয়েছিল। সম্প্রতি কোম্পানিটি বলেছে, তাদের আগের বা পুরনো মডেল, যেমন ‘মিথোস ৫’, ‘ওপাস ৪.৭’ ও ‘সনেট ৪.৭’-এও এই ওয়াটারমার্ক ব্যবস্থা চালু হবে।
এ টুল চালুর প্রাথমিক উদ্যোগের মতোই ব্যবহারকারীদের জন্য এটি বন্ধ করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। সুবিধাটি ইইউ আইনে তৈরি হলেও বিশ্বজুড়ে সব দেশের ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
ব্যবহারকারীরা এই চিহ্নটি একেবারেই দেখতে পাবেন না এবং নিজের কোনো লেখায় এই ওয়াটারমার্ক পড়েছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখার কোনো সুযোগও তাদের থাকবে না।
বর্তমানে কেবল ইইউ আইন অনুসারে, স্বীকৃত বিভিন্ন সংস্থা, যেমন নিয়ন্ত্রক সংস্থা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সাংবাদিক ও গবেষকরাই এই ওয়াটারমার্ক শনাক্ত করতে পারবেন।
এ ছাড়া যেসব কোম্পানির ক্ষেত্রে ‘ইইউ এআই অ্যাক্ট’-এর অধীনে ওয়াটারমার্ক যাচাই করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে তারাও এই সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
অগাস্টে এআইভিত্তিক লেখায় এমন পরিবর্তনের ঘোষণার পর ব্যবহারকারীদের একাংশের কাছ থেকে তীব্র সমালোচনা ও অসন্তোষ দেখা যায়।
ব্যবহারকারীদের অনেকে বলছেন, ক্লড দিয়ে কোনো লেখা কেবল এডিটিং, প্রুফরিডিং বা তথ্যের সত্যতা যাচাই করা হলেও সেটিতে ওয়াটারমার্কওয়ালা শনাক্তকারী সংকেত পড়ে যাওয়া কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়।
পাশাপাশি, অসাধু ব্যবহারকারীরা অন্য কোনো এআই ব্যবহার করে লেখাটির ভাষা সামান্য বদলে দিলে সহজেই এই ওয়াটারমার্ক আড়াল করে ফেলতে পারবে।
অ্যানথ্রপিক বলেছে, এ ওয়াটারমার্ক প্রযুক্তির কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ছোট আকারের লেখায় শনাক্তকরণের উপযোগী পর্যাপ্ত সংকেত নাও থাকতে পারে।
তবে ওয়াটারমার্কের কারণে লেখার মান খারাপ হয়ে যায় ব্যবহারকারীদের এমন দাবি ও অন্যান্য সমালোচনা নাকচ করে দিয়েছে কোম্পানিটি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এখনও ব্যবহারকারীদের ওয়াটারমার্ক এড়ানোর পথ খোলা রেখেছে কোম্পানিটি।
অ্যানথ্রপিক বলেছে, তাদের দুটি অপেক্ষাকৃত পুরনো মডেল ‘ওপাস ৪.৬’ ও ‘ক্লড সনেট ৪.৬’-এ এপিআইয়ের মাধ্যমে শব্দ চয়নের সেটিং পরিবর্তন করে ওয়াটারমার্ক সরিয়ে ফেলা সম্ভব।
এ ছাড়া ব্যবহারকারীরা চাইলে আরও পুরনো এআই মডেল ব্যবহার করতে পারেন, যেগুলোতে এখনও ওয়াটারমার্কের আপডেট আসেনি।
ক্লড প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীরা ২০২৩ সালে প্রথম প্রকাশ পাওয়া ‘ওপাস ৩’ মডেল পর্যন্ত ফিরে যাওয়ার সুবিধা পাচ্ছেন, যা এই ওয়াটারমার্ক নীতিমালার বাইরে রয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ম মেনে চলার ইঙ্গিত অন্যান্য প্রযুক্তি কোম্পানিও দিয়েছে। তবে কেবল ইউরোপে সীমিত না রেখে বিশ্বজুড়ে তা চালুর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত দেখাল অ্যানথ্রপিক।
ওপেনএআই চ্যাটজিপিটিতে ‘টেক্সটগ্রেইন’ নামে একই ধরনের ফিচার যোগ করলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেবল ইউরোপীয় ব্যবহারকারীদের জন্যই কার্যকর করা হবে।
