১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

অনলাইন ভিডিওর ধারায় পুনরুত্থান ঘটছে ডিজিটাল ক্যামেরার

গত ১২ মাসে সামাজিক প্ল্যাটফর্ম টিকটকে ‘#digitalcamera’ সংশ্লিষ্ট ভিডিওগুলোর ভিউ সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২২ কোটি।

অনলাইন ভিডিওর ধারায় পুনরুত্থান ঘটছে ডিজিটাল ক্যামেরার

|

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Feb 2023, 03:49 PM

Updated : 12 Feb 2023, 04:44 PM

চলমান অনলাইন ট্রেন্ডের কারণে বেশিরভাগ তরুণ-তরুণীর চাহিদার তুঙ্গে থাকা গ্যাজেট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে আজ থেকে ২০ বছর আগের ডিজিটাল ক্যামেরাগুলো।

ইবে ও ইটসি’র মতো অনলাইন মার্কেটপ্লেসে এই পুরোনো গ্যাজেট খোঁজার  সংখ্যা বেড়েই চলছে।

আর গত ১২ মাসে সামাজিক প্ল্যাটফর্ম টিকটকে ‘#digitalcamera’ সংশ্লিষ্ট ভিডিওগুলোর ভিউ সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২২ কোটি।

বিশ্লেষকরা এই ট্রেন্ডকে বর্ণনা করেছেন শতাব্দী পুরোনো ফ্যাশন সামগ্রীর পুনরুত্থানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বলে।

বর্তমানে ‘রেট্রো কিট’ হিসেবে বিবেচিত ক্যামেরাটি ব্যবহার করে নিজের টিকটক অ্যাকাউন্টে ৫০ লাখের লাইক পেয়েছেন স্কটল্যান্ডের ‘আইল অফ আরান’ দ্বীপে বসবাসকারী ৩২ বছর বয়সী স্কট ইওয়ার্ট।

“অনেক ব্যবহারকারীর কাছেই এটি আরামদায়ক হিসেবে বিবেচিত। নিজের শৈশবের পাশাপাশি এটি তাদের তুলনামূলক সহজ সময়গুলোর কথাও মনে করিয়ে দেয়।”

“এতো সহজ ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ায় আমার বেশ ফুরফুরে লাগে। তুলনামূলক পুরোনো ক্যামেরায় ভালো ছবি বা এর সেরাটা বের করে আনতে আপনাকে কিছুটা অতিরিক্ত কাজ করতে হবে। কারণ, আপনার কেনা স্মার্টফোনে বাজে ছবি তোলা প্রায় অসম্ভব।”

স্কট এই অনুসন্ধান শুরু করেন নিজের মা-বাবা’র কাছে থাকা বিভিন্ন পুরোনো ক্যামেরা খোঁজার মাধ্যমে। তবে, দ্রুতই তার সংগ্রহ ৩০-এর ঘর ছাড়িয়েছে।

তিনি আরও যোগ করেন, “আমাকে লোকজন জিজ্ঞেস করেন ‘তুমি কোথা থেকে এইসব ছবি এডিট করো বা এগুলো কীভাবে এডিট করা?’ আমি সবসময় বলি, এগুলো মোটেই এডিট করা নয় আর আমি দেখাতে চাই ঠিক কীভাবে এগুলো ক্যামেরা থেকে বেরিয়েছে।”

ই-কমার্স সাইট ইবে’র যুক্তরাজ্যের অংশ বিবিসিকে জানিয়েছে, ২০২২ সালের শেষ তিন মাসে লোকজনের এই ধরনের ডিভাইস খোঁজার প্রবণতা বেড়েছে। এর মধ্যে আছে সার্চ ট্রাফিকিংয়ে ‘ভিনটেজ ডিজিটাল ক্যামেরা’ শব্দের ব্যবহার ১৩ শতাংশ ও ‘রিফারবিশড ক্যামেরা’ শব্দের ৫২ শতাংশ বৃদ্ধি।

হাতে তৈরি ও পুরোনো সামগ্রী বিক্রির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত মার্কেটপ্লেস ইটসি’র ক্ষেত্রেও গত ছয় মাসে এমনটি ঘটেছে। বর্তমানে ডিজিটাল ক্যামেরা সংশ্লিষ্ট ১৯ হাজার সামগ্রী তালিকাভুক্ত আছে সাইটটিতে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরের ব্রুকলিনের ২৫ বছর বয়সী বাসিন্দা কেটি গ্লাসগো নিজেকে ‘জেনারেশন জি’র সম্ভাব্য সবচেয়ে পুরোনো সদস্য’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনিও এখনও তার বাবা মা’র পুরোনো ডিভাইস ব্যবহার করে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।

“এটি মানুষের স্মৃতির মতো দেখায়, কারণ এটি অস্পষ্ট ও অসম্পূর্ণ। আমরা যেভাবে বিভিন্ন স্মৃতি মনে রাখি, এটিও অনেকটা তেমনই দেখায়।” --বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, তুলনামূলক তরুণ ব্যবহারকারী, যাদের কাছে ২০ শতকের জনপ্রিয় ক্যামেরাগুলোর কোন ভার্চুয়াল সংগ্রহ নেই, তাদের বেলায় এক ধরনের ‘নস্টালজিক পৃথিবী’র অনুভূতি দেয় এটি।

“এগুলো এমন ক্যামেরা, যা আমার বড় বোন স্কুলের আয়োজনে নিয়ে যেতেন, ভাই কলেজে নিয়ে যেতো বা ছোটবেলার স্মৃতি এতে রেকর্ড করা থাকতো।”

“আপনারা ফোনে প্রায় সবকিছুরই ছবি বা ভিডিও ধারণ করতে পারেন। ফলে, আপনার লাইব্রেরিও বিশাল। এর বিপরীতে এইসব ডিভাইসের বেলায় আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় ‘এই স্মৃতি আমি আসলেই সংরক্ষণ করে রাখব কি না।”

‘উই আর সোশাল’ নামের ক্রিয়েটিভ এজেন্সি’র গবেষণা প্রধান পল গ্রিনউড বলেন, এটি একটি ‘প্রাকৃতিক চক্র’, যেখানে লোকজনের বয়স ২০-এর ঘর অতিক্রম করলে তারা নিজেদের ‘তারুণ্যের সাংস্কৃতিক স্পর্শ পেতে স্মৃতিকাতর’ হয়ে ওঠে।

তিনি আরও যোগ করেন, “তারা স্বস্তি পেতে চান যখন বাস্তব পৃথিবীতে অস্বস্তি বোধ করেন। আর মানুষের অস্বস্তির পেছনে কিছু সংখ্যক কারণও রয়েছে। এর মধ্যে আছে ইউক্রেইনে আপনার দেখা অস্তিত্ব ভীতি, মহামারী ও সম্পদে বৈষম্যের মতো বিষয়গুলো।”

“একে তুলনামূলক বাস্তব ও প্রকৃত হিসেবে দেখা হয়। আর এজন্যই আপনি এই চলমান প্রবণতা দেখতে পাচ্ছেন। কারণ, তুলনামূলক অস্পষ্ট ধরনের কনটেন্টে আপনার কাছে সাধারণত সত্যতা ও বাস্তবতা ফুটে ওঠে। এটিই খুঁজে দেখছে জেনারেশন জি।”