Published : 18 Jul 2026, 10:06 AM
গেল কয়েক বছর ধরেই ওয়ানপ্লাসের বাজারে তেমন কোনো বড় ধরনের সাড়া ছিল না। ওয়ানপ্লাসের জন্য গত কয়েক বছর বেশ শান্তই কেটেছে।
বহুল প্রতীক্ষিত ফোল্ডএবল ফোন ওয়ানপ্লাসের বাজারে আনতে দেরি করা ও পরবর্তীতে তা পুরোপুরি বাতিল বা মূল কোম্পানি অপোর একের পর এক ফ্ল্যাগশিপ ও ফোল্ডএবল ফোনের বাজারে দাপট সব মিলিয়ে ওয়ানপ্লাসের ভবিষ্যৎ কী হতে যাচ্ছে তা আগে থেকেই আঁচ করা যাচ্ছিল।
অবশেষে ওয়ানপ্লাসের সেই পথচলা নিয়ে বড় ঘোষণা এল। ওয়ানপ্লাস ও অপো যৌথভাবে এক ঘোষণায় বলেছে, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বাজারে আর কোনো নতুন ডিভাইস বা স্মার্টফোন আনবে না তারা।
ওয়ানপ্লাস ও অপো বিষয়টিকে তাদের নতুন ‘কৌশলগত ফোকাস’ হিসেবে বর্ণনা করলেও ওয়ানপ্লাস অন্য কোনো অঞ্চলে পণ্য উন্মোচন করা চালিয়ে যাবে কি না সে বিষয়ে কিছু জানায়নি বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
অপো বলেছে, এ সিদ্ধান্তের ফলে ওয়ানপ্লাসের সক্ষমতা, প্রযুক্তি ও পণ্য তৈরির দর্শন এখন থেকে অপোর সঙ্গেই একীভূত হয়ে যাবে।
ওয়ানপ্লাসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পিটার লাউ সম্প্রতি অপো’তে প্রধান পণ্য কর্মকর্তা হিসেবে পুনরায় যোগ দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে এ দুই কোম্পানি একই ধরনের হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার ও সাপ্লায়ার ব্যবহার করে আসছিল। ফলে করপোরেট দিক থেকে বিষয়টিকে খুব বড় কোনো ওলটপালট বলা যাচ্ছে না।
তবে পশ্চিমা দেশগুলোতে ওয়ানপ্লাস ব্র্যান্ডটি যেভাবে মানুষের কাছে পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল অপো এখনো সেই জায়গা তৈরি করতে পারেনি।
ফলে অপো ও ওয়ানপ্লাসের একই ধরনের ফোন যখন বাজারে আসে তখন ওয়ানপ্লাসের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড নামটিকে অপো কেন পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারল না তা পশ্চিমা বিশ্লেষকদের কাছে সব সময়ই বড় প্রশ্ন হয়ে ছিল।
ওয়ানপ্লাস উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের বাজার থেকে পাততাড়ি গোটানোর ঘোষণা দেওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই বর্তমান ব্যবহারকারীদের মনে প্রশ্ন জেগেছে, ‘তাহলে আমাদের ওয়ানপ্লাস ফোনগুলোর কী হবে?’
এ উদ্বেগের জবাবে কোম্পানির মুখপাত্ররা গণমাধ্যমকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, বর্তমান গ্রাহকদের সব ধরনের সুবিধা থাকছে। যার মধ্যে রয়েছে বিক্রয়োত্তর সেবা, সফটওয়্যার ও প্রোডাক্ট আপডেট এবং বর্তমান বিভিন্ন সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে সেবা সচল রাখা।
বর্তমান ব্যবহারকারীদের জন্য বড় পরিবর্তনও আসছে।
অপো বলেছে, আগামী মাসগুলোতে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় থাকা ওয়ানপ্লাস ডিভাইসগুলোতে তাদের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম ‘কালারওএস’ চালু হবে, যা ওয়ানপ্লাসের চিরচেনা ‘অক্সিজেনওএস’-এর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছে।
এর মানে এই নয় যে অপো এখনই মার্কিন বাজারে বড় কোনো জোরদার পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে তাদের সাম্প্রতিক ফোনগুলো বেশ শক্তিশালী।
অপো ইউরোপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এলভিস ঝো বলেছেন, ইউরোপ এখনও তাদের জন্য ‘প্রধান বাজার’। অপোর সাম্প্রতিক ফ্ল্যাগশিপ ফোন ‘ফাইন্ড এক্স৯ আল্ট্রা’ ছিল ইউরোপের বাজারে তাদের অন্যতম বড় উন্মোচন।
অপোর নিজস্ব ইউরোপীয় ও ইউকে সেলস পোর্টাল থাকার পরও গ্রাহকদের জন্য তাদের বিভিন্ন ফ্ল্যাগশিপ ফোন সরাসরি কেনার ক্ষেত্রে এখনও কিছু জটিলতা রয়েছে।
এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে কোম্পানিটি সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে আরও বেশিসংখ্যক পণ্য নিয়ে তাদের অনলাইন শপ নতুন করে চালু করেছে। একইসঙ্গে ঝো বলেছেন, অপো ইউরোপে তাদের দলকে আরও শক্তিশালী করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, যেখানে এ অঞ্চলে ফ্ল্যাগশিপ ফোন বাজারে আনাকেই সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।