Published : 09 Jun 2025, 04:05 PM
পরীক্ষায় নকল ঠেকাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইনির্ভর নানা টুল নিজে থেকেই সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে চীনা বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানি।
চীনে শনিবার থেকে শুরু হয়েছে চারদিনব্যাপী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ ভর্তি পরীক্ষা, যাকে দেশটিতে ‘গাওকাও’ বলা হয়। এ পরীক্ষায় ১ কোটি ৩৩ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। পরীক্ষার ফলের ওপর নির্ভর করে নিজেদের কাঙ্খিত ইউনিভার্সিটিতে ভর্তির সুযোগ পাবেন এরা।
এ পরীক্ষা চলাকালীন কেউ যাতে নকল করতে না পারে তা ঠেকাতে দেশটির বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানি তাদের কিছু এআই ফিচার বা সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে।
কোম্পানির এমন উদ্যোগে এ বছর যারা উন্নত এআই টুল ব্যবহার করে কিছুটা সাহায্য পাওয়ার আশা করেছিলেন তাদের গুড়ে বালি বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক পত্রিকা গার্ডিয়ান।
অনলাইনে শেয়ার করা একটি স্ক্রিনশটে দেখা গিয়েছে, পরীক্ষাবিষয়ক একটি প্রশ্ন ‘ডাউবাও’ অ্যাপে পোস্ট করেছেন একজন চীনা ব্যবহারকারী। ডাউবাও হচ্ছে টিকটকের মূল কোম্পানি বাইটড্যান্সের মালিকানাধীন একটি অ্যাপ।
ডাউবাও উত্তর দিয়েছে, “ভর্তি পরীক্ষার সময় সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুসারে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সেবা বন্ধ থাকবে।”
ওই ব্যবহারকারী যখন অ্যাপটিকে বলেন, “এটি ভর্তি পরীক্ষা সম্পর্কিত প্রশ্ন নয়,” তখনও অ্যাপটি একই উত্তর দিয়েছে।
আরেকটি স্ক্রিনশটে দেখা গিয়েছে, চীনের বাজারে নতুন আসা শীর্ষস্থানীয় জেনারেটিভ এআই টুল ডিপসিক ব্যবহারকারীদের বলেছে, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাদের সেবা বন্ধ থাকবে। কারণ ভর্তি পরীক্ষায় “ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে” এমন পদক্ষেপ নিয়েছে তারা।
মার্কিন বাণিজ্য প্রকাশনা ব্লুমবার্গ প্রতিবেদনে লিখেছে, পরীক্ষার সময় ছবি চিনে নেওয়ার ফিচার বন্ধ করে দিয়েছে টেনসেন্টের মালিকানাধীন ‘ইউয়ানবাও’, আলিবাবার ‘কুয়েন’ ও মুনশট-এর ‘কিমি’ নামের তিনটি এআই টুলও।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য গার্ডিয়ানের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি এসব কোম্পানি। এ পরিষেবা বন্ধের খবর এসেছে বেশিরভাগ ইউনিভার্সিটি’র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে, যারা এসব টুল ব্যবহার করে পড়াশোনা ও অ্যাসাইনমেন্ট করত। তবে এখন তা করতে পারছেন না তারা।
একজন ব্যবহারকারী উইবো’তে রসিকতা করে লিখেছেন, “ভর্তি পরীক্ষার পরীক্ষার্থীরা, তোমরা সবাই বাজে। কারণ, তোমাদের জন্য আমি ডিপসিকে ছবি আপলোড করতে পারছি না, আমাকে এখন আবার চ্যাটজিপিটি ডাউনলোড করতে হবে, আশা করি তোমরা সবাই কমিউনিটি কলেজেই ভর্তি হবে।”
গাওকাও পরীক্ষার সময় নকল ঠেকাতে কেবল এআই টুল বন্ধ করাই একমাত্র হাতিয়ার নয়, বরং আরও অনেক ব্যবস্থা নিয়েছে চীন। কারণ, তরুণদের ভবিষ্যৎ ঠিক করে দেয় এ পরীক্ষা।
গুরুত্বপূর্ণ এ পরীক্ষার আগেই চীনের বেশ কয়েকটি অঞ্চল ঘোষণা করেছে, এআই নজরদারি টুল ব্যবহার করবে তারা, যাতে পরীক্ষার সময় কেউ ‘অস্বাভাবিক আচরণ’ যেমন ফিসফিস বা বারবার একে অন্যের দিকে তাকালে তা ধরা যায়।
চীনের ঝিয়াংসি প্রদেশে পরীক্ষা শেষে ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করা হবে এবং যদি কেউ পরীক্ষার নিয়ম ভাঙে বা খারাপ কাজ করে তাহলে “সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুসারে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” বলে প্রতিবেদনে লিখেছে দেশটির রাষ্ট্র সমর্থিত সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস।
গত মাসের শেষ দিকে পরীক্ষায় প্রবেশের সময় কঠোর চেকিং ব্যবস্থা চালু করেছে চীনের কর্তৃপক্ষ, যেখানে বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ, ডিজিটাল ডিভাইসের উন্নত স্ক্রিনিং এবং রেডিও সিগন্যাল ব্লকার ব্যবহারের ব্যবস্থা রয়েছে।