শিশু মানসিক স্বাস্থ্য: সামাজিক মাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে নিউ ইয়র্কের মামলা

প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে শহরের যুব মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবাগুলোর খরচ বহন করতে হবে এ মামলায় দাবি করেছে শহরটির কর্তৃপক্ষ।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 Feb 2024, 06:38 AM
Updated : 16 Feb 2024, 06:38 AM

দেশজুড়ে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সংকট উসকে দেওয়ার অভিযোগে মেটা, গুগল, স্ন্যাপ ও টিকটকের বিরুদ্ধে মামলা করছে মার্কিন শহর নিউ ইয়র্ক সিটি’র কর্তৃপক্ষ। এর আগে জানুয়ারির শেষ নাগাদ সামাজিক মাধ্যমকে ‘জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি’ হিসাবে চিহ্নিত করেছিল শহরটির কর্তৃপক্ষ।

সুনির্দিষ্ট ভাবে, এ মামলায় কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে যার মধ্যে ‘জনসাধারণকে উপদ্রব’, ‘অবহেলা’ ও ‘চরম অবহেলা’ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট।

এ ছাড়া, ইনস্টাগ্রাম, ফেইসবুক, স্ন্যাপচ্যাট ও ইউটিউবের বিপক্ষে ‘শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যকে বিপন্ন করার, আসক্তির প্রচার করার ও অনিরাপদ আচরণকে উৎসাহিত করার’ অভিযোগ আনা হয়েছে শহরের মেয়র এরিক অ্যাডামসের প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

ক্ষতিকারক অ্যালগরিদম, জুয়ার মতো প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক কারসাজির মাধ্যমে এসব অর্জন করা হয় বলেও অভিযোগ আনা হয়েছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার বেড়ে যাওয়া ও স্থানীয় শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সংকট দেখা দেওয়ার মধ্য সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা প্রকাশ করেছে নিউ ইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ।

এর প্রতিক্রিয়ায় গুগল ও মেটা সিএনবিসি নিউজকে জানিয়েছে তারা সবসময় শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করে আসছে ও অভিভাবকরা যেন শিশুদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন সে লক্ষ্যে বিভিন্ন টুল সরবরাহ করেছে।

এ ছাড়া, বাইটড্যান্স মালিকানাধীন টিকটক মার্কিন সংবাদ সাইট ‘এক্সিওস’-এর কাছে তাদের কিছু নির্দিষ্ট টুল তুলে ধরেছে, যার মধ্যে রয়েছে ‘এজ লিমিটেশন’ বা বয়সের সীমাবদ্ধতার ফিচার, অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণ ও ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য স্বয়ংক্রিয় ৬০ মিনিটের সময়সীমা।

তবে, কোনো কোম্পানিই অ্যাডামস প্রশাসনের তালিকাভুক্ত সমস্যাযুক্ত ফিচারগুলোর কথা স্বীকার করেনি বলে প্রতিবেদনে লিখেছে এনগ্যাজেট।

সম্প্রতি অনলাইন শিশু সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ে মার্কিন সেনেটের এক শুনানির পরপরই এ মামলা হলো। ওই শুনানিতে গুগল বাদে, উল্লিখিত সব প্রযুক্তি কোম্পানির সিইও উপস্থিত ছিলেন। অনলাইনে শিশুদের হয়রানি ও সাইবার বুলিইং-কে উল্লেখ করে, সেনেটর লিন্ডজি গ্রেহাম তার বক্তব্যের শুরুতে এসব শীর্ষ কর্মকর্তাদের বলেছিলেন, “আপনাদের হাতে রক্ত।”

প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে শহরের শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবার খরচ বহন করতে হবে এ মামলায় দাবি করেছে শহরটির কর্তৃপক্ষ। এ খাতে প্রতি বছর ১০ কোটি ডলার ব্যয় হয় বলে প্রতিবেদনে লিখেছে এনগ্যাজেট।

তবে মূল উদ্দেশ্য হল, শিশু ও তরুণ ব্যবহারকারীদের আসক্তিমূলক আচরণ উসকে দেওয়ার মতো কারসাজি বন্ধ করতে শীর্ষ প্রযুক্তি জায়ান্টদের বাধ্য করা ও  সামাজিক মাধ্যমে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করে এমন নতুন ফেডারেল আইন প্রণয়নের জন্য নীতিনির্ধারকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।

নিউ ইয়র্ক সিটির এ মামলার আগে, গত বছরের অক্টোবরে মেটার বিরুদ্ধে একই ধরনের একটি মামলা করেছিল ৪১টি অঙ্গরাজ্য। ওই মামলায় প্ল্যাটফর্মের আসক্তিমূলক ফিচারের সুরক্ষা সম্পর্কে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ উঠেছিল মেটার বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া, মেটা, স্ন্যাপ, টিকটক, গুগল নিজেদের প্ল্যাটফর্মের আসক্তিমূলক ফিচারের জন্য ২০২২ সালে একটি ‘মাল্টি ডিস্ট্রিক্ট’ মামলার মুখোমুখি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে এনগ্যাজেট।