Published : 20 Aug 2025, 02:54 PM
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষ উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে পৃথিবীর বাইরে কোথাও প্রাণের অস্তিত্ব আছে কি না। মহাবিশ্বে প্রাণের সূচনা কীভাবে হল এমন কিছু বড় প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে জ্যোর্তিবিজ্ঞানের একটি শাখা অ্যাস্ট্রোবায়োলজি।
পৃথিবীর বাইরে কোথাও কী প্রাণ থাকতে পারে? আর যদি থাকে আমরা কি সেটা কোনোদিন খুঁজে বের করতে পারব? এমন সব প্রশ্ন আমাদের সবার মনের মধ্যেই কম বেশি এসেছে।
গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক সাইট ‘প্লস ওয়ান’-এ। ‘লিডেন ইউনিভার্সিটি’র গবেষকদের করা নতুন এ গবেষণায় উঠে এসেছে, ১৯৯৬ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মানুষ কীভাবে পৃথিবীর বাইরে প্রাণ আছে কি না, সেই প্রশ্ন নিয়ে কথা বলেছেন বা আলোচনা করেছেন।
এজন্য বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র, প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও সংবাদ প্রতিবেদন এ তিন ধরনের তথ্যসূত্র বিশ্লেষণ করেছেন গবেষকরা। এর মাধ্যমে পৃথিবীর বাইরে প্রাণ আছে কি না তা নিয়ে জল্পনা ও সম্ভাবনা কীভাবে গণমাধ্যমে উঠে এসেছে সেটিও গবেষকরা বোঝার চেষ্টা করেছেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিজ্ঞানভিত্তিক সাইট নোরিজ।
গবেষণা দলটি বলছে, মানুষ সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি নিয়ে কল্পনা বা আলোচনা করেছে তা হল কোথাও প্রাণ থাকতে হলে কী কী দরকার হতে পারে। যেমন– পানি, সঠিক রাসায়নিক উপাদান বা গ্রহটির বায়ুমণ্ডল কেমন হতে হবে এমন সব বিষয়।
গবেষকরা বলছেন, অন্য কোথাও প্রাণের অস্তিত্ব আসলে আছে কি না তা নিয়েও অনেক জল্পনা ও আলোচনা হয়েছে ঘন ঘন।
তবে এ খোঁজার ফলাফল কী হতে পারে বা ভিনগ্রহে প্রাণের প্রমাণ মিলেছে বলে কোনও দাবি রয়েছে কি না– এমন আলোচনা বা ধারণা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।
পৃথিবীর বাইরে প্রাণ খুঁজে পাওয়ার কথা মানুষ যেভাবে আলোচনা করছে তাতে প্রযুক্তির কথা অনেক বেশি উঠে আসে।
গবেষণায় দেখা গেছে, বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বলছে, নতুন যন্ত্রপাতি ও টেলিস্কোপ আমাদেরকে প্রাণ খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে। এর তুলনায় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমন কথা বলা হয়েছে কেবল এক-পঞ্চমাংশে ও বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রে কেবল এক-দশমাংশে।
একইভাবে অ্যাস্ট্রোবায়োলজি প্রাণের সন্ধানে খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছে– এ ধরনের আশা জাগানিয়া সংবাদ ও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অনেকবার এলেও একাডেমিক গবেষণায় তা অনেক কম দেখা গিয়েছে বলে উঠে এসেছে এ নতুন গবেষণায়।
গবেষকরা খুব কমই দেখেছেন এমন সাহসী দাবি করা হয়েছে যে, ‘এরইমধ্যে প্রাণের সন্ধান মিলেছে’ বা ‘শিগগিরই প্রাণের সন্ধান মিলবে’।
এ গবেষণার প্রধান লেখক ডানিলো আলবেরগারিয়া বলেছেন, “সাধারণত নিজেদের গবেষণার ক্ষেত্রে প্রাণের সন্ধানের সম্ভাবনা নিয়ে উচ্চাকাঙ্খী আশা প্রকাশ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না বিজ্ঞানীরা।”
বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন মোটমুটিভাবে সবচেয়ে বেশি কল্পনাপ্রসূত ছিল, যেখানে বিজ্ঞপ্তি বা বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রের তুলনায় বেশি অনুমান ও আশাবাদ দেখানো হয়েছিল।
গবেষকরা বলছেন, গবেষণার গুরুত্ব বর্ণনা করার ক্ষেত্রে বেশি অনুমান বা কল্পনা করে বিভিন্ন প্রেস বিজ্ঞপ্তি। কারণ, তারা চায় সবাই যেন তাদের গবেষণার কথা শুনুক ও তা গুরুত্বপূর্ণ মনে করুক।
মজার ব্যাপার হল, প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিভিন্ন কল্পনা বা অনুমান অনেক সময় সরাসরি গবেষকদের মুখ থেকে উদ্ধৃতি কথার মতোই উপস্থাপন করা হয়।
সংবাদ প্রতিবেদনে কল্পনা বা অনুমান সমানভাবে এসেছে। একটি বিজ্ঞানীদের উদ্ধৃতি দিয়ে ও অন্যটি যেসব বক্তব্যের উৎস স্পষ্ট নয় বা কারো বলা হয়নি। এর থেকে ইঙ্গিত মেলে, প্রাণের সন্ধান পাওয়ার খবর কীভাবে প্রকাশ পায় বা জনমত গড়ার কাজ করছে সে বিষয়ে গবেষকরাই বড় ভূমিকা পালন করেন।
গবেষণায় উঠে এসেছে, প্রাণের সন্ধান নিয়ে আলোচনা সাধারণত অন্য তারার আশপাশের গ্রহ নিয়ে বেশি হয়। সেই তুলনায় আমাদের সৌরজগত বা ভিনগ্রহীয় বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজের কথা এতটা আলোচিত হয় না।
অনুমান বা কল্পনা অবশ্যই খারাপ কিছু নয় উল্লেখ করে আলবেরগারিয়া বলছেন, “কল্পনাশীল চিন্তা নতুন ধারণা ও অনুমান তৈরিতে সাহায্য করে, যা প্রাণ সন্ধানের পথে দিকনির্দেশনা দেয়। মহাবিশ্বে প্রাণ সম্পর্কে অনেক কিছুই আমাদের অজানা, তাই অ্যাস্ট্রোবায়োলজিতে অনুমান থাকাটাই স্বাভাবিক।”
গবেষণায় ইংরেজি, পর্তুগিজ ও স্প্যানিশ ভাষায় প্রকাশিত ছয়শ ৩০টি নিবন্ধ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস, গার্ডিয়ান, ফোলহা, এস্তাডো, পাবলিকো এবং এল পাইস’সহ বিশ্বের বড় বড় ছয়টি সংবাদপত্রের খবরও।