উল্কাপিণ্ডের মহাজাগতিক ধূলিকণায় মিলবে সুপারনোভার সূত্র?

উল্কা বা মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে পৌঁছানো বিভিন্ন শিলার বেশিরভাগই আমাদের নিজস্ব সৌরজগতের উপাদান দিয়ে তৈরি হয়ে থাকে। তবে কখনও কখনও উল্কা খুব বিশেষ কিছু বহন করতে পারে।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 April 2024, 01:27 PM
Updated : 3 April 2024, 01:27 PM

সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এক উল্কাপিণ্ডে প্রাচীন মহাজাগতিক ধূলিকণা খুঁজে পেয়েছেন, যা সুপারনোভা উৎপত্তির সূত্র দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ চমকপ্রদ অনুসন্ধান চালিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ‘কার্টিন ইউনিভার্সিটি’র বিজ্ঞানীরা, যেখানে প্রাচীন উল্কাপিণ্ডের মধ্যে ধূলিকণার একটি বিরল টুকরার খোঁজ মিলেছে, যা সূর্য থেকে অনেক দূরের এক তারা’র রহস্য উন্মোচনের সম্ভাবনা দেখিয়েছে।

গবেষণাটির নেতৃত্বে ছিলেন ড. নিকোল নেভিলের পিএইচডি গবেষণার বিষয় ছিল এটি। বর্তমানে কাজ করছেন নাসা’র ‘জনসন স্পেস সেন্টার’-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘লুনার অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্স ইনস্টিটিউট’-এর গবেষক হিসেবে। তিনি বলছেন, একটি ক্ষুদ্র ধূলিকণা পরীক্ষার মাধ্যমে বিভিন্ন তারার আদ্যোপান্ত জানার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

উল্কা বা মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে পৌঁছানো শিলার উপাদান সাধারণত আমাদের সৌরজগতের উপাদানের সঙ্গে মেলে।

তবে কখনও কখনও উল্কাতে একেবারেই আলাদা উপাদান পাওয়া যেতে পারে যেটি গবেষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। যেমন— তারা থেকে মহাজাগতিক ধূলিকণার ক্ষুদ্র দানা বা টুকরা, যার বয়স আমাদের সূর্যের চেয়েও অনেক বেশি।

এইসব ‘প্রিসোলা’র টুকরা মূলত মহাবিশ্বের মাইক্রোস্কোপিক বা আণুবীক্ষণিক সূত্র, যেখানে প্রাচীন নক্ষত্রের নানা গল্প লুকিয়ে আছে। উল্লেখ্য, এ ধরনের দানা মূলত আন্তঃনাক্ষত্রিক কঠিন পদার্থ, যা সূর্যের গঠনের অনেক আগেই উৎপন্ন হয়েছিল।

গবেষণায় ‘অ্যাটম প্রোব টোমোগ্রাফি’ নামে পরিচিত এক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন ড. নেভিল ও তার দল, যেখানে তারা বিভিন্ন ‘প্রিসোলা’র টুকরা থেকে একটি টুকরা নিয়ে পরীক্ষা করে এর রাসায়নিক রহস্য উন্মোচন করেছেন।

এ পরীক্ষা গবেষকদের দেখতে সাহায্য করেছে, ধূলিকণা কী দিয়ে তৈরি ও সৌরজগতের কাছাকাছি যা কিছু দেখা যায় তার থেকে এটি কীভাবে আলাদা।

গবেষণা দলটি আবিষ্কার করেছে, মহাজাগতিক ধূলিকণার এই বিশেষ টুকরাটির একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তা হল, এটি ম্যাগনেসিয়ামের একটি আইসোটোপ। এর মানে হচ্ছে, পৃথিবীতে আমরা যে ম্যাগনেসিয়াম পাই তার তুলনায় এতে  নিউট্রন সংখ্যা বেশি। পৃথিবীতো দূরের কথা, গোটা সৌরজগতেই ম্যাগনেসিয়ামের এই আইসোটোপ আগে কখনই পাওয়া যায়নি।

প্রকৃতপক্ষে এতে নিউট্রন এতোই বেশি ছিল যে, এটি একটি নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে।

গবেষকরা বলছেন, এ বিস্ময়কর অনুসন্ধানটি বিশেষ এক ধরনের নক্ষত্রের উৎপত্তিকে নির্দেশ করে, যা একটি জ্বলন্ত হাইড্রোজেনের তৈরি সুপারনোভা।

সুপারনোভা এমন বিশাল আকারের বিস্ফোরণ, যা একটি নক্ষত্রের মৃত্যু ঘটাতে পারে। আর জ্বলন্ত হাইড্রোজেনের তৈরি সুপারনোভা খুবই বিরল, এটি সম্প্রতি শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষণা দলের আরেক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ড. ডেভিড স্যাক্সি জোর দিয়ে বলেছেন, কীভাবে এ গবেষণাটি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও তারা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণার সীমাবদ্ধতাকে স্রেফ বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়েছে।

এ গবেষণায় ব্যবহৃত ‘অ্যাটম প্রোব’ প্রযুক্তিটি নজিরবিহীনভাবে প্রাচীন ‘প্রিসোলা’র টুকরার চেহারা বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করার নতুন পথ খুলে দিয়েছে, যে সুযোগ আগে কখনও মেলেনি।

‘অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নালে’ প্রকাশিত এ গবেষণাটি কেবল মহাজাগতিক বিষয় সম্পর্কে প্রচলিত ধারণায় একটি নতুন অধ্যায়ই যোগ করে না, বরং মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন আধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক কৌশলের অবিশ্বাস্য ক্ষমতাও প্রদর্শন করে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে সংবাদ সাইট নোরিজ।