Published : 22 Jun 2026, 01:26 PM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববাজারে ইন্ডিয়াম ধাতুর চাহিদা ব্যাপক হারে বাড়ছে। পরবর্তী প্রজন্মের ডেটা সেন্টারে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ ও বিরল এ ধাতুটির বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইন্ডিয়াম রপ্তানির ওপর কড়া নজরদারি শুরু করেছে চীন।
রয়টার্স প্রতিবেদনে লিখেছে, ইন্ডিয়াম ধাতুর রপ্তানির ওপর চীন নজরদারি বাড়ানোর ফলে ক্রেতাদের মনে শঙ্কা তৈরি হয়েছে, পরবর্তী প্রজন্মের ডেটা সেন্টারের জন্য প্রয়োজনীয় এ বিরল ধাতুটিকেও হয়ত বেইজিং তাদের কঠোর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসতে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যযুদ্ধে চীনের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।
বিশ্বের মোট ইন্ডিয়ামের প্রায় ৭০ শতাংশ উৎপাদিত হয় চীনে। দস্তা পরিশোধনে উপজাত হিসেবে পাওয়া এ ধাতুটি সাধারণত ডিসপ্লে ও সোল্ডারিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হয়।
এআই ডেটা সেন্টারের জন্য উচ্চ-গতির অপটিক্যাল চিপ তৈরিতে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল ‘ইন্ডিয়াম ফসফাইড’ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ইন্ডিয়াম।
এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বেইজিং ‘ইন্ডিয়াম ফসফাইড’কে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ তালিকায় যোগ করেছিল।
এ বিধিনিষেধ পরবর্তী প্রজন্মের ডেটা সেন্টারগুলোর জন্য এতটাই বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, এনভিডিয়া’র সমর্থনপুষ্ট চিপ নির্মাতা কোম্পানি ‘কোহেরেন্ট’-এর প্রধান নির্বাহী বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য মে মাসে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বেইজিং সফর করেছিলেন।
বর্তমানে মূল ইন্ডিয়াম ধাতুটির ওপর সরাসরি কোনো রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও চীনের কাস্টমস যেভাবে তাদের কেনাকাটার ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে তা নিয়ে রয়টার্সের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দুজন ক্রেতা।
যেমন, এ বছরে প্রথমবারের মতো একজন ইউরোপীয় ক্রেতার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, এ ধাতুর মূল ব্যবহারকারী আসলে কারা এবং তারা কোথাকার।
একইভাবে উত্তর আমেরিকার একজন বড় ক্রেতা বলেছেন, আগে যেখানে কাস্টমসের অনুমোদন দিনে দিনেই পাওয়া যেত, এখন সেখানে নথিপত্র অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের কারণে কয়েক দিন সময় লেগে যাচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিটিকে তিনি ‘উত্তেজনাপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তবে এক্ষেত্রে তার কাছে বাড়তি কোনো তথ্য চাওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরাধে সাড়া দেয়নি চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কারণ, সেখানে সরকারি ছুটি চলছে। বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে সংশ্লিষ্ট ক্রেতাদের কেউই নিজেদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।
কাস্টমসের এ অতিরিক্ত নজরদারি বা কড়াকড়ি সব জায়গায় সমানভাবে হচ্ছে না।
অন্য দুজন ক্রেতা রয়টার্সকে বলেছেন, তারা এ বাড়তি কড়াকড়ির কথা শুনলেও নিজেরা এখনও এমন কোনো পরিস্থিতির মুখে পড়েননি। রয়টার্স এখনও পর্যন্ত এমন কোনো চালানের খোঁজ পায়নি, যা বেইজিং আটকে দিয়েছে।
এরপরও এ ছোট শিল্পসংশ্লিষ্টদের মনে উদ্বেগ, চীনের এমন আচরণ হয়ত ভবিষ্যতে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণেরই পূর্বাভাস।
চীন বা রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকা অন্যান্য দেশ বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল এবং এর দুর্বল নানা দিক মানচিত্রের মতো সুনির্দিষ্টভাবে বোঝার জন্য চূড়ান্ত ব্যবহারকারীর তথ্য প্রকাশের নিয়মটি ব্যবহার করে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইন্ডিয়াম ধাতু সম্ভাব্য দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এ কারণে বছরের শুরুতে আগামী তিন বছরে প্রায় ৪০৩ টন ইন্ডিয়াম মজুতের জন্য প্রস্তাব আহ্বান করেছে দেশটির ‘ডিফেন্স লজিস্টিকস এজেন্সি’।
এদিকে, উত্তর আমেরিকার আরেকজন ক্রেতা শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, তথ্য দেওয়ার এসব নতুন নিয়ম আসলে ‘রপ্তানির ওপর বড় বিধিনিষেধ বা সরাসরি নিষেধাজ্ঞা জারিরই প্রাথমিক লক্ষণ’।