Published : 23 Jun 2026, 09:14 PM
যুক্তরাজ্যে অ্যান্ডি বার্নাম যাতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রধানমন্ত্রী হতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে দলীয় নেতৃত্বের লড়াইয়ে নামার কথা ভাবছেন লেবার পার্টির অন্তত দুজন জ্যেষ্ঠ পার্লামেন্ট সদস্য (এমপি)।
সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আল কার্নস জানিয়েছেন তিনি এই দৌড়ে শামিল হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। অন্যদিকে, কিয়ার স্টারমারের চিফ সেক্রেটারি ড্যারেন জোনসও চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা নাকচ করে দেননি বলে বিবিসি জানতে পেরেছে।
সোমবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আকস্মিক পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর লেবার এমপি’দের মধ্যে এই বিশ্বাস জোরালো হচ্ছে যে, আগামী ১৭ জুলাইয়ের মধ্যেই বার্নাম দেশটির প্রধানমন্ত্রী হয়ে যেতে পারেন।
ওইদিন নতুন নেতা নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে দলের একটি বড় অংশ এমন একজন নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মেনে নিতে অস্বস্তি বোধ করছেন, যার নীতি সংক্রান্ত চিন্তাভাবনা কোনও নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় পরিক্ষীত বা যাচাই করা হয়নি।
কিছু এমপি ড্যারেন জোনসকে প্রার্থী হওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। জোনস এই সম্ভাবনা নাকচ না করলেও তার প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে।
মনোনয়ন পর্ব ও বার্নামের সম্ভাবনা
কিয়ার স্টারমার দলের পরিচালনা পর্ষদকে তার উত্তরসূরি নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের অনুরোধ জানিয়েছেন। সে অনুযায়ী, আগামী ৯ জুলাই মনোনয়ন পর্ব শুরু হবে এবং ১৬ জুলাই গ্রীষ্মকালীন অবকাশের আগে তা শেষ হবে।
চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় নামতে হলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের এই সময়ের মধ্যে অন্তত ৮১ জন লেবার এমপির সমর্থন জোগাড় করতে হবে।
গত সপ্তাহে মেকারফিল্ড উপ-নির্বাচনে রিফর্ম ইউকে-র প্রতিদ্বন্দ্বীকে বিপুল ব্যবধানে হারিয়ে স্টারমারের উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন অ্যান্ডি বার্নাম।
গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক এই মেয়র সোমবার হাউজ অব কমন্সে নতুন এমপি হিসেবে শপথ নিয়েছেন এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
বার্নামের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবা হচ্ছিল ওয়েস স্ট্রিটিংকে। তবে সাবেক এই স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্ট্রিটিং দ্রুতই বার্নামকে সমর্থন জানান। এর ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বার্নামের সরাসরি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হয়।
আনুষ্ঠানিক প্রতিযোগিতার দাবি ও বিরোধীদের সমালোচনা
রাগবির লেবার এমপি জন স্লিঙ্গার দলের ভেতরে অনেকের মনোভাব প্রকাশ করে বলেন, একটি পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্ব প্রতিযোগিতা হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, “জনগণ আমাদের উন্মাদ ভাববে যদি আমরা দেশের সর্বোচ্চ পদের জন্য যোগ্য ব্যক্তিদের একটি সাধারণ ও স্বাভাবিক যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়ে না নিয়ে যাই।”
ওদিকে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি বদেনখ স্টারমারকে একজন ‘ভয়াবহ প্রধানমন্ত্রী’ আখ্যা দিয়ে লেবার পার্টির নীতির সমালোচনা করেছেন। তার মতে, লেবার এমপিরা কেবল উচ্চ কর আরোপ করে সুযোগ-সুবিধা বিলিয়ে দিতে চান।
অন্যদিকে, লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভি বলেন, ব্রিটিশ জনগণ একের পর এক প্রধানমন্ত্রীর এই অন্তহীন নাটক দেখে ক্লান্ত।
রিফর্ম ইউকে-র নেতা নাইজেল ফারাজ অবিলম্বে সাধারণ নির্বাচনের দাবি তুলেছেন এবং গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি জানিয়েছেন, বার্নাম কোনো অর্থপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারবেন কিনা তা সময়ই বলে দেবে।