Published : 11 Aug 2026, 08:02 PM
সূর্যকে কেন্দ্র করে বহুদিনের অজানা রহস্য উদঘাটনে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণকে কাজে লাগাচ্ছেন একদল বিজ্ঞানী।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট প্রতিবেদনে লিখেছে, সূর্যকে ঘিরে মানুষের জানার পরিধিকে বদলে দিতে পারে এমন এক বিশেষ বৈজ্ঞানিক যন্ত্রের চূড়ান্ত কাজ শেষ করেছেন আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের একটি দল।
ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় পাদুয়া শহরের বিজ্ঞানীদের তৈরি ‘সার্কুলার স্লিট স্পেকট্রোমিটার’ নামের যন্ত্রটির চূড়ান্ত ও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে স্পেনের ‘হাভালামব্রে অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল অবজারভেটরি’তে ১২ অগাস্টের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সময়।
দলটির দাবি, যন্ত্রটি সূর্যের বায়ুমণ্ডলের বাইরের স্তর, অর্থাৎ ‘সৌর করোনা’ গবেষণায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে।
অন্যান্য যন্ত্রের তুলনায় নতুন যন্ত্রটি কয়েক গুণ দ্রুত গতিতে সূর্যের আলোকে বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যে বিভক্ত করতে পারে। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সময় সৌর করোনা বেশি স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
সূর্যের আশপাশের এ অঞ্চলের আচরণ পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তা পৃথিবীর যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নেটওয়ার্কে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
‘তুরিন অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল অবজারভেটরি’র প্রধান গবেষক ফেদেরিকো লান্দিনি বলেছেন, সাধারণ বা প্রচলিত রৈখিক স্পেকট্রোমিটারের চেয়ে নতুন প্রোটোটাইপটি একেবারেই আলাদা।
“এতে গোলাকার স্লিট রয়েছে, যার মাধ্যমে সূর্যকেন্দ্র থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে থাকা পুরো সৌর করোনার বর্ণালী কেবল একটি একক ছবিতে ধারণ করা সম্ভব।”
নতুন অপটিক্যাল প্রযুক্তি
পুরানো যন্ত্রগুলোর বড় সীমাবদ্ধতা দূর করতেই এ নতুন পদ্ধতি ডিজাইন করা হয়েছে। আগের বিভিন্ন যন্ত্র দিয়ে সৌর করোনার প্রতিটি রেখা একে একে স্ক্যান করতে কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যেত, অথচ এ অঞ্চলে পরিবর্তন ঘটে কেবল কয়েক মিনিটের ব্যবধানে।
গবেষকরা যদি এ নতুন অপটিক্যাল নীতি বা প্রযুক্তির কার্যকরিতা প্রমাণ করতে পারেন তবে পরবর্তী ধাপে সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল পর্যবেক্ষণে কোনো ভবিষ্যৎ মহাকাশ অভিযানে তা ব্যবহৃত হতে পারে।
এর আগে, ব্যবহৃত ‘ইউভি সিএস’ নামের অতিবেগুনি স্পেকট্রোমিটারটি ১৯৯৬ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা ও নাসার এসওএইচও মহাকাশযানে কাজ করেছিল। তবে পুরো করোনা অঞ্চলের মানচিত্র তৈরিতে সেটিরও অনেক ঘণ্টার প্রয়োজন হত।
এর আগে, বিজ্ঞানীদের প্রস্তুত হতে হবে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সেই ক্ষণস্থায়ী সময়টুকুর জন্য, যে সময় চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দেবে। মুহূর্তটিতেই সৌর করোনা পর্যবেক্ষণের সুযোগ মিলবে এবং বিজ্ঞানীদের আড়াই বছরের হাড়ভাঙা খাটুনির আসল পরীক্ষা হবে।
পাদুয়ার ‘ইন্সটিটিউট ফর ফোটোনিক্স অ্যান্ড ন্যানোটেকনোলজি’র জ্যেষ্ঠ গবেষক পাওলা জুপেলা বলেছেন, “এখানে অপ্রত্যাশিত কোনো ভুলের সুযোগ বা সময় কোনোটিই নেই।”
তিনি বলেছেন, অনুকূল আবহাওয়ার মতোই পুরো দলের সঠিক সমন্বয়ও এ পরীক্ষার সাফল্যের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।
প্লেনে না গিয়ে বিজ্ঞানী দলটি শুক্রবার সড়কপথে একটি ভ্যানে করে স্পেনের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন, যাতে যন্ত্রটি খুলে আবার নতুন করে অ্যাসেম্বল বা জোড়া লাগাতে না হয়।
পাশাপাশি যাত্রাপথে যেন কোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত বিঘ্ন না ঘটে, সেটাও নিশ্চিত করা তাদের উদ্দেশ্য।
প্রধান গবেষক ফেদেরিকো লান্দিনি বলেছেন, “বর্তমানে প্লেনের যে পরিস্থিতি, শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট বাতিল হয়ে যেতেই পারে। ফলে সময়মতো আমাদের সেখানে পৌঁছানো নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত।”