Published : 04 Aug 2025, 04:52 PM
মার্কিন সার্চ জায়ান্ট গুগল থেকে চ্যাটজিপিটি কথোপকথন বা চ্যাটিং সরিয়ে ফেলছে চ্যাটবটটির নির্মাতা ওপেনএআই।
এআইনির্ভর কোম্পানিটি এমন এক ফিচার গুগল থেকে সরিয়ে নিচ্ছে, যা শেয়ার করা চ্যাটজিপিটির বিভিন্ন আলাপকে গুগলের মতো সার্চ ইঞ্জিনের ফলাফলে দেখাত।
ফিচারটি প্রথমে চালু হয়েছিল একটি ‘স্বল্পমেয়াদি পরীক্ষা’ হিসেবে, যেখানে ব্যবহারকারীরা চ্যাটবটের লিংক তৈরি করার অপশন ব্যবহার করতে পারতেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি বিষয়ক সােইট এনজ্যাজেট।
তবে ব্যবহারকারীদের অভিযোগের পর ওপেনএআইয়ের প্রধান তথ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা ডেন স্টুকি বলেছেন, এখন সেইসব আলাপচারিতাকে সার্চ ইঞ্জিন থেকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছেন তারা।
জনসাধারণের ক্ষোভের সূত্রপাত হয় এ সপ্তাহের শুরুতে প্রকাশিত ‘ফাস্ট কোম্পানি’র এক প্রতিবেদন থেকে। ফাস্ট কোম্পানি বলেছে, গুগল সার্চে হাজার হাজার চ্যাটজিপিটি চ্যাটিং খুঁজে পেয়েছে তারা।
সার্চে ওঠা বিভিন্ন চ্যাটিংয়ে সরাসরি কোনো ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশ না থাকলেও কিছু আলাপে এমন নির্দিষ্ট তথ্যও রয়েছে, যা দেখে সম্ভবত ব্যবহারকারীর পরিচয় শনাক্ত করা যেত। ফলে এ ঘটনায় ব্যবহারকারীদের প্রাইভেসি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে এটি কোনও হ্যাকিং বা তথ্য ফাঁসের ঘটনা নয়। বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ব্যবহারকারীদের বেছে নেওয়া অপশনের সঙ্গে জড়িত। তারা যখন চ্যাটজিপিটিতে কোনো শেয়ার করা লিংক তৈরি করত ওই সময় ‘মেইক দিস চ্যাট ডিসকভারেবল’ নামের একটি বক্স আসত। আর এ অপশনটি টিক দিলে সেই চ্যাট সার্চ ইঞ্জিনে দেখা যেত।
এ অপশনের নিচে ছোট ও হালকা রঙের অক্ষরে লেখা থাকত ‘অ্যালাও ইট টু বি শোউন ইন ওয়েব সার্চেস’, অর্থাৎ ব্যবহারকারী নিজে ইচ্ছা করে সেই বক্সে টিক না দিলে চ্যাটটি সার্চ ইঞ্জিনে যেত না।
তবে অনেকে অভিযোগ করছেন, এ ব্যাখ্যাটি পরিষ্কারভাবে বোঝানো হয়নি। ফলে কিছু ব্যবহারকারী না বুঝেই সেই বাক্সে টিক দিয়েছিলেন।
ফাস্ট কোম্পানি বলেছে, অনেক ব্যবহারকারী সেই লিংক বানিয়েছিলেন কেবল মেসেজিং অ্যাপে শেয়ার করার জন্য বা পরে সহজে ফিরে যাওয়ার উপায় হিসেবে। অর্থাৎ অনেকে চাইতেন লিংক থাকুক, তবে সেটি যেন সার্চ ইঞ্জিনে প্রকাশ না হয়।
বর্তমানে ‘পাবলিক ডিসকভারিবিলিটি’ অপশনটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ফলে নতুন করে কেউ তাদের চ্যাটজিপিটি আলাপ শেয়ার করলে তা আর গুগল বা অন্য সার্চ ইঞ্জিনে দেখা যাবে না।
ফাস্ট কোম্পানি’র প্রতিবেদনে শুরুতে এ ফিচারকে ‘যথেষ্ট স্পষ্ট’ বলে বর্ণনা করেছেন ডেন স্টুকি। তবে জনমতের চাপ বাড়ার পর ওপেনএআই নিজেদের সিদ্ধান্ত বদলায়।
বৃহস্পতিবার স্টুকি বলেছেন, “শেষ পর্যন্ত আমরা মনে করি, ফিচারটি অনেক বেশি সুযোগ তৈরি করছিল মানুষদের জন্য ভুল করে এমন কিছু শেয়ার করার, যা তারা আসলে শেয়ার করতে চাননি। ফলে আমরা অপশনটি সরিয়ে দিচ্ছি।”