Published : 25 Sep 2025, 05:43 PM
বর্তমানে ‘পারসোনালিটি রাইটস’ বা ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করছেন বলিউডের অনেক তারকা। এখন ডিপফেইক প্রযুক্তির কারণে তাদের ছবি বা ভিডিও নিয়ে মিথ্যা বা ভুয়া কনটেন্ট তৈরির ঘটনা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
গত কয়েক সপ্তাহে বলিউডের কয়েকজন বড় বড় তারকা নিজেদের ‘পারসোনালিটি রাইটস’ বা ব্যক্তিত্বের অধিকার আইনিভাবে রক্ষার চেষ্টা করেছেন। এ তালিকায় রয়েছেন পরিচালক কারান জোহর, অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন এবং তার স্বামী ও অভিনেতা অভিষেক।
ডিপফেইক প্রযুক্তির মাধ্যমে কারো চেহারা বা কণ্ঠস্বর নকল করে ভুয়া ভিডিও বা ছবি তৈরি করা হয়, যা কারো সুনাম বা পরিচয় ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে। ফলে এ ধরনের কাজের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন সামনের সারির এই তারকারা।
‘পারসোনালিটি রাইটস’ বা ব্যক্তিত্বের অধিকারকে প্রচারের অধিকারও বলা হয়, যা বলতে বোঝায়, একজন ব্যক্তির তার পরিচয় বা স্বতন্ত্র চরিত্র থেকে ব্যবসায়িক বা অন্য কোনো সুবিধা পাওয়ার অধিকার। যার মধ্যে রয়েছে ওই ব্যক্তির নাম, ছবি, কণ্ঠস্বর, স্বভাব-ভঙ্গি বা এমন কোনো কথা বা অঙ্গভঙ্গি যা বিশেষভাবে তার মধ্যেই রয়েছে।
‘পাবলিসিটি রাইটস’ একজন ব্যক্তির পরিচয়কে ভুলভাবে ব্যবহার বা ব্যবসায়িকভাবে শোষিত হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে এবং এ অধিকার কেবল সেই ব্যক্তির জন্যই প্রযোজ্য, অন্য কারো জন্য নয়। এক্ষেত্রে কারো পরিচয় অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে তা বেআইনি বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
একজন তারকা তার খ্যাতি ব্যবহার করে কোনো পণ্যের প্রচারের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। তবে তার অনুমতি ছাড়া কেউ অন্য কেউ তার ছবি বা পরিচয় ব্যবহার করে কোনো পণ্য প্রচার করতে পারেন না।
ভারতে ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষার জন্য কোনো নির্দিষ্ট আইন নেই। এজন্য দেশটির সাধারণ আইনের ওপর নির্ভর করেন বিচারকরা। মামলার সিদ্ধান্ত বিচারকরা পুরনো বিচারিক সিদ্ধান্ত ও আইনগত নীতিমালা দেখে নেন। তবে আমেরিকার কিছু রাজ্যে, যেমন ক্যালিফোর্নিয়ায় ‘পাবলিসিটি রাইটস’ রক্ষার জন্য বিশেষ আইন রয়েছে।
ভারতে ‘পাবলিসিটি রাইটস’ নিয়মিত লঙ্ঘন করা হচ্ছে, যেখানে ছোট বিভিন্ন ব্যবসা ও দোকানের কাছে প্রচারের জন্য বলিউড তারকাদের ছবি ব্যবহারের বিষয়টি খুবই সাধারণ ব্যাপার।
বিবিসি লিখেছে, দিল্লি হাই কোর্টে দাখিল করা আবেদনপত্রে নিজেদের পরিচয় অবৈধভাবে ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলিউড তারকারা, যার মধ্যে রয়েছে অনুমতি ছাড়া পণ্য বিক্রি, ভুয়া প্রোফাইল ও ওয়েবসাইট তৈরি এবং এআইনির্মিত আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরির মতো ঘটনা।
আদালত এসব তারকাদের ‘পাবলিসিটি রাইটস’ বা ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষার পদক্ষেপকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মকে অবৈধ কনটেন্ট সরানোরও নির্দেশ দিয়েছে।
তবে, এমন ঘটনা এটিই প্রথমবার নয়, এ বিষয়টি নিয়ে আগেও আদালতে গিয়েছেন তারকারা।
অভিনেতা অনিল কাপুর ২০২৩ সালে নিজের নাম, ছবি, কণ্ঠস্বর ও তার একটি চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত ‘ঝাকাস’ শব্দের বাণিজ্যিক ব্যবহার নিয়ে বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট ও প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন।
গত বছর অভিনেতা জ্যাকি শ্রফের অনুমতি ছাড়া তার নাম, ছবি ও ডাকনাম ব্যবহারের বিষয়টি নিষিদ্ধ করেছে দিল্লি হাই কোর্ট।
‘কে ল’ ফার্মের সিনিয়র পার্টনার নিখিল কৃষ্ণমূর্তি বলেছেন, ভারতের কোনো তারকা তার ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষার জন্য প্রথমবার মামলা করেছিলেন ২০০২ সালে। সেই সময় ভাঙ্গড়া সংগীতকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করার জন্য পরিচিত গায়ক দালের মেহেন্দি আদালতে অভিযোগ করেছিলেন, তার চেহারা নকল করে অনুমতি ছাড়া পুতুল তৈরি করা হচ্ছে, যা ছিল ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষার জন্য ভারতে প্রথম বড় কোনো মামলা।
ওই সময় মেহেন্দির আইনজীবী ছিলেন কৃষ্ণমূর্তি। সেই সময়ে কথা স্মরণ করে তিনি বলেছেন, মেহেন্দির চেহারার নকল করে তৈরি এসব পুতুল তখন স্থানীয় বাজারে ব্যাপকভাবে বিক্রি হত। গায়কের মতোই রঙিন পাগড়ি ও পোশাক পরানো হত এসব পুতুলকে। আর ব্যাটারিচালিত বিভিন্ন পুতুল মেহেন্দির জনপ্রিয় গানও গাইত।
দিল্লি হাই কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে মেহেন্দির অনুমতি ছাড়া পুতুল তৈরি ও বিক্রি বন্ধ হয়েছিল ওই সময়, যা পরবর্তী সময়ে অনেক মামলার উদাহরণ স্থাপন তৈরি করেছে। কৃষ্ণমূর্তির মতে, ২০২৩ সালের পর থেকে এ ধরনের মামলার প্রবণতা বেড়েছে।
তবে কিছু মামলায় আইনি জয় পেলেও তিনি বলেছেন, ভারতের আইন ও বাস্তবায়ন পশ্চিমা দেশগুলোর মতো শক্তপোক্ত নয়। ফলে ব্যক্তিত্বের অধিকার সুরক্ষায় ভারতের এখনও অনেক পথ চলতে হবে।