Published : 27 Jul 2025, 01:48 PM
চাকরির বাজার দখলে নেবে এআই’-এ চিন্তায় যখন অনেকেরই মাথায় হাত ঠিক এমন সময়ে এআইয়ের সক্ষমতা সম্পর্কে নতুন বার্তা দিল কোডিং প্রতিযোগিতা ‘অ্যাটকোডার ওয়ার্ল্ড ট্যুর ফাইনালস ২০২৫’। যেখানে এক পোলিশ কোডার ওপনেএআইয়ের প্রতিযোগীকে অল্পের জন্য হারিয়ে দেন।
চলতি মাসের শুরুর দিকে টোকিওতে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়ার পর অনলাইনে সাইহো নামে পরিচিত প্রেজেমিস্লাও ডেমবিয়াক বলেন, “আমি হয়তো সর্বশেষ মানুষ হিসাবে এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা জয়ী হলাম, কারণ, প্রযুক্তি এখন অবিশ্বাস্য গতিতে এগোচ্ছে।”
তিনি বলেন, “প্রতিযোগিতার আগে আমি টুইট করেছিলাম ‘লিভ বাই দ্য সোর্ড, ডাই বাই দ্য সোর্ড।’ আমি এআই তৈরিতে সাহায্য করেছি এবং ম্যাচের পরাজিত ব্যক্তি আমিই হতে পারতাম। যদিও আপাতত জিতেছি, অন্তত এখন পর্যন্ত।”
অ্যাটকোডার এর ইউরিস্টিক বিভাগে বিশ্ব র্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে আমন্ত্রিত ১১ জন মানব প্রতিযোগী এবং ওপেনএআইয়ের ডিজাইন করা একটি কোডিং অ্যালগরিদম অংশ নেয় বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান।
ওপেনএআইয়ের অ্যালগরিদমটি দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে, বিজয়ী সাইহোর স্কোরের চেয়ে সাড়ে নয় শতাংশ পিছিয়ে। ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান টুইট করে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
১০ ঘণ্টা ধরে চলা এই প্রতিযোগিতায় একটি জটিল অপ্টিমাইজেশন সমস্যা সমাধান করতে হয়েছে। এই ধরনের সমস্যার একটি উদাহরণ হলো “ট্রাভেলিং সেলসপার্সন প্রবলেম” যেখানে একজন সেলসপার্সনকে একাধিক শহর একবার করে ঘুরে আসার জন্য সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত রুট নির্ধারণ করতে হয়।
এ ধরনের সমস্যা সাধারণভাবে ব্যাখ্যা করা সহজ হলেও, এর সর্বোত্তম সমাধান বের করা কম্পিউটেশনাল দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত জটিল। চ্যাটজিপিটি সাধারণত সহজ কোড লেখার কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে, যখন এটি একটি উন্মুক্ত লজিকভিত্তিক সমস্যার সমাধান করে, তখন তার পারফরম্যান্সকে অনেক ক্ষেত্রেই চিত্তাকর্ষক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সাইহো বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষ—বিশেষত দক্ষ ব্যক্তিরা—যুক্তি ব্যবহার ও জটিল সমস্যার সমাধানে এখনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তুলনায় অনেক এগিয়ে। যদিও এআই এখনও সবচেয়ে বুদ্ধিমান নয়, তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটি অত্যন্ত দ্রুত। এমনকি কখনও কখনও, একজন বিশেষজ্ঞের পরিবর্তে একটি সাধারণ মানুষের অনেক কপি একসঙ্গে কাজ করলে আরও কার্যকর ফলাফল পাওয়া যেতে পারে।”
এই ফলাফল এমন এক সময়ে এল যখন মেটা এবং মাইক্রোসফটসহ বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো সফটওয়্যার কোড লেখার জন্য এআইয়ের দিকে ঝুঁকছে।
সাইহো বলেন, “প্রায় প্রতিটি পেশাই এখন এই পরিবর্তনের মুখোমুখি হচ্ছে। অনেকেই ইতোমধ্যে এর প্রভাব অনুভব করছেন, বিশেষ করে দাপ্তরিক কাজ করা বা ‘হোয়াইট কলার’ চাকরির ক্ষেত্রগুলোতে। তবে শারীরিক শ্রমনির্ভর কাজে রোবোটিক্স এখনো কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে এবং বাস্তবায়নে আরও কয়েক বছর সময় লাগবে।”
অনেকের মতো সাইহোও শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে দ্বিধান্বিত। তিনি বলেন, “আমাদের সামনে বহু জটিল সমস্যা রয়েছে—ভুয়া তথ্যের বিস্তার, সামাজিক কাঠামোর ওপর প্রভাব, এবং মানুষের জীবনে অর্থহীনতার বোধ। ইতিহাসে সমাজের অগ্রগতি সাধারণত খুব ধীরগতির হলেও, প্রযুক্তির অগ্রগতি এখন এত দ্রুত হচ্ছে যে সেটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।”