Published : 26 Jun 2026, 11:42 AM
ভবিষ্যতে কী ঘটতে যাচ্ছে তা আগে থেকেই অনুমান করার জন্য নতুন ও স্বতন্ত্র এক অ্যাপ তৈরি করছে মেটা।
নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রতিবেদনে লিখেছে, ফেইসবুক-ইনস্টাগ্রামের মূল পরিধির বাইরে গিয়ে ‘অ্যারিনা’ নামের এ নতুন প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীরা ভবিষ্যৎ ঘটনাবলীর সঠিক পূর্বাভাস দেওয়ার প্রতিযোগিতায় নামতে পারবেন।
মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গের ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি এ নতুন অ্যাপটির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা রাজনীতি থেকে শুরু করে খেলাধুলা সবকিছুর ভবিষ্যৎ ফলাফল নিয়ে গেইমের মতো পয়েন্ট বা অর্থের বাজি ধরতে পারবেন বলে প্রতেবদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট।
‘পলিমার্কেট’ ও ‘কালশি’র মতো প্রতিদ্বন্দ্বী ‘প্রেডিকশন মার্কেট’ বা পূর্বাভাসভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের ব্যাপক সফলতার পরই মেটা এমন পদক্ষেপ নিল। ওসব প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীরা অর্থের বিনিময়ে ভবিষ্যতের বিভিন্ন ঘটনার ওপর বাজি ধরতে পারেন।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের দাবি, শুরুর দিকে মেটার এ অ্যাপটি ভিডিও গেইমের মতো একটি পয়েন্ট সিস্টেমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে। পরবর্তীতে কোম্পানিটি ব্যবহারকারীদের প্রকৃত অর্থ দিয়ে বাজি ধরার সুযোগও দিতে পারে।
ফেইসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো মেটার মূল বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সম্পূর্ণ আলাদা স্বতন্ত্র এক অ্যাপ হিসেবে কাজ করবে অ্যারিনা। পাশাপাশি ‘মেটা ফটোস’-এর মতো আরও কিছু স্বতন্ত্র অ্যাপও এতে যোগ হতে পারে, যা ব্যবহারকারীদের নতুন ধরনের মিডিয়া কনটেন্ট তৈরির সুবিধা দেবে।
মেটা এরইমধ্যে তাদের ‘মেটা এআই’-এর মতো আলাদা অ্যাপ বাজারে এনেছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সহজেই এআই ছবি তৈরি ও শেয়ার এবং কোম্পানির তৈরি স্মার্ট চশমা বা স্মার্টগ্লাস নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পূর্বাভাসভিত্তিক এসব বাজারের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী হয়েছে, যার পেছনে অন্যতম বড় অনুঘটক ছিল ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনের ফলাফলের ওপর বাজি ধরার আকাঙ্ক্ষা।
এরপর থেকে এগুলো বিশল মূল্যের প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে, যেখানে রাজনীতি থেকে শুরু করে খেলাধুলাসহ সব ধরনের খাতের ঘটনার ফলাফলের ওপর ব্যবহারকারীরা মোটা অংকের অর্থ বাজি ধরছেন।
একই সময়ে এসব বাজার বেশ বিতর্কিতও হয়ে উঠেছে। সমালোচকরা বলেছেন, এগুলো এক ধরনের বিপজ্জনক জুয়াকে প্রশ্রয় দিচ্ছে এবং ‘ইনসাইডার ট্রেডিং’ বা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অনৈতিক ব্যবসার সুযোগ করে দিচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বড় বড় নীতিগত সিদ্ধান্তের আগে বেশ কিছু হাই-প্রোফাইল এবং বড় অংকের লেনদেন হতে দেখা গেছে। ফলে এ আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে যে, যেসব তথ্য গোপন থাকার কথা ছিল, সেগুলোকে কাজে লাগিয়ে এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।