Published : 17 Apr 2026, 10:09 AM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির আকাশচুম্বী চাহিদায় ভর করে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে রেকর্ড মুনাফা করেছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ চিপ উৎপাদক কোম্পানি টিএসএমসি।
ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে সরবরাহ খরচ বাড়লেও অ্যাপল ও এনভিডিয়ার এই প্রধান সরবরাহকারী কোম্পানিটি নিজেদের জয়যাত্রা অব্যাহত রেখেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির মুনাফায় ৫৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কথা জানিয়েছে তাইওয়ানের এই চিপ জায়ান্ট। এআই প্রযুক্তির ক্রমাগত চাহিদাই কোম্পানিটির এ অভাবনীয় সাফল্যের মূল কারণ।
অ্যাপল ও এনভিডিয়ার মতো বড় বিভিন্ন কোম্পানির প্রধান সরবরাহকারী টিএসএমসি। বছরের প্রথম তিন মাসে কোম্পানিটির নিট মুনাফা রেকর্ড বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭ হাজার ২৫০ কোটি তাইওয়ানিজ ডলারে, যা প্রায় ১ হাজার ৮১০ কোটি মার্কিন ডলারের সমান। এই প্রবৃদ্ধি বিশ্লেষকদের ধারণার চেয়েও বেশি।
গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ মুনাফা ৫৮.৩ শতাংশ বেড়েছে। গত বছর এ সময়ে কোম্পানিটির মুনাফা ছিল ৩৬ হাজার ১৬০ কোটি তাইওয়ানিজ ডলার বা ১ হাজার ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার।
আগের বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর প্রান্তিকের তুলনায় এবার কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে ১৩.২ শতাংশ। জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসে টিএসএমসি’র আয় গত তিন মাসের তুলনায় ৮.৪ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ৫৯০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
ইরান যুদ্ধের কারণে খরচ কিছুটা বাড়লেও টিএসএমসি’র এ অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি থেমে থাকেনি।
এআইয়ের ক্রমাগত চাহিদার কথা মাথায় রেখে কোম্পানিটি বর্তমানে আমেরিকা, জাপান ও তাইওয়ানে তাদের চিপ তৈরির কারখানাগুলো বাড়াচ্ছে। উন্নত ‘৩-ন্যানোমিটার’ সেমিকন্ডাক্টর তৈরির ওপর জোর দিচ্ছে তারা, যা স্মার্টফোন ও এআই পণ্যের জন্য জরুরি।
এ বছরের এপ্রিল থেকে জুন প্রান্তিকের জন্য টিএসএমসি আশা করছে, তাদের আয় বেড়ে ৩৯০০ কোটি থেকে ৪০২০ কোটি ডলারের মধ্যে থাকবে।
বৃহস্পতিবার এক সম্মেলনে টিএসএমসি সিইও ও চেয়ারম্যান সি.সি. ওয়েই বলেছেন, “এআই সংক্রান্ত পণ্যের চাহিদা এখনও বেশি।
“আগামী কয়েক বছর জুড়ে এআইয়ের এ জয়যাত্রার বিষয়ে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী এবং আমাদের ধারণা, সেমিকন্ডাক্টরের এ চাহিদা মৌলিক ও স্থায়ী হবে।”
তবে ইরান যুদ্ধের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে কোম্পানিটি।
এ যুদ্ধ কেবল বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থার খরচই বাড়ায়নি, বরং চিপ তৈরির জন্য অপরিহার্য হিলিয়াম গ্যাস ও বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্যের সরবরাহকেও বাধাগ্রস্ত করছে।
টিএসএমসি’র প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ওয়েন্ডেল হুয়াং বলেছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে খরচ বাড়লে তা মুনাফার ওপর কিছুটা চাপ তৈরি করতে পারে। তবে হিলিয়ামসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদানের ক্ষেত্রে কোম্পানির কাছে পর্যাপ্ত জরুরি মজুদ রয়েছে। ফলে নিকট ভবিষ্যতে উৎপাদন বা কার্যক্রমে কোনো বড় প্রভাব পড়বে না।
তাইওয়ান ও বিদেশে নিজেদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বড় বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে টিএসএমসি। যার মধ্যে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় কারখানা নির্মাণের জন্যই তারা সাড়ে ১৬ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের অঙ্গীকার করেছে।
বৃহস্পতিবার কোম্পানিটি আরও বলেছে, গ্রাহকদের ক্রমাগত চাহিদা মেটাতে আগামী তিন বছরে তাদের মূলধনী ব্যয় গত তিন বছরের তুলনায় বেশি হবে।
এর আগে, নিজেদের বার্ষিক মূলধনী ব্যয়ের বাজেট ২০২৫ সালের ৪ হাজার কোটি ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জন্য ৫ হাজার ২০০ কোটি থেকে ৫ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের মধ্যে নেওয়ার কথা বলেছিল চিপ উৎপাদক কোম্পানিটি।
বৃহস্পতিবার টিএসএমসি বলেছে, ২০২৬ সালে এই ব্যয় বাজেটের সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।